Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মাদকের ডন শাহিনকে গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়?

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:১০ পিএম

মাদকের ডন শাহিনকে গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়?
Swapno

#  গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে আছে এলাকাবাসী
# প্রশাসনের গাফলতিকে দুষছেন তারা



ফতুল্লার তল্লা এলাকায় পুলিশ পেটানোর ঘটনায় ১২ জন আসামী গ্রেপ্তার হলেও এখনো অধরা রয়েছেন এই হামলার নির্দেশ দাতা মূল আসামী মাদকের ডন শাহিন। শাহিনের অপকর্মের জন্য বৃহত্তর তল্লাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে আছে। সেই সাথে তার টর্চার সেলের অত্যাচার থেকে মানুষ বাচতে চায়।

 

সম্প্রতি তাকে নিয়ে শহর জুড়ে আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। এই মাদককারবারির বিরুদ্ধে ফতুল্লা সদর মিলিয়ে  ৮টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলার হওয়ার কথা থাকলেও তা নেই। অনেক গোপনে টাকার মাধ্যমে মামলা যেন না হয় তার জন্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফেলে।

 

তবে এবার পুলিশের উপর হামলা হওয়ায় সচেতন মহলে মনে করেছে তার বুঝি এখন পতন হতে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সেই চিন্তায়ও এখন হতাশার ভাঁজ পরেছে। কেননা পুলিশের উপর হামলা হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ হয়েছে। কিন্তু এখনো হামলার নির্দেশ দাতা মাদকের ডন শাহিন গ্রেপ্তার হন নাই।

 

আর এজন্য সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে এই সন্ত্রাসী মাদককারবারি শাহিনকে গ্রেপ্তারের বাধা কোথায়? তাকে কেন এখনো পুলিশ প্রশাসন গ্রেপ্তার করছে না। এই সন্ত্রাসী যদি পুলিশের উপর হামলা করে পার পেয়ে যায় তাহলে এলাকায় এসে ত্রাসের রাজত্ব চালাবে। তখন মার্ডার করতেও তার বুক কাপপে না।

 

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ফতুল্লা তল্লা এলাকার মাদক সম্রাট শাহিন এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেন নাই। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা বিক্রি সহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। সেই সাথে এর আগে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকবার জেল খেটেছে সন্ত্রাসী শাহিন।

 

তার রয়েছে টর্চার সেল। তার কথার অবাধ্য হলেই এই টর্চারসেলে নিয়ে মারধর করা হয়। তার রয়েছে নারী বাহিনী যাদেরকে দিয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ থেকে মাদক নিয়ে আসে। তার বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মাদকের চালান শহরে আসে। যা পরবর্তিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি শাহিনকে দিয়ে সরবরাহ করা হয়।

 

বর্তমানে মাদকের ডন শাহিন পুলিশের কাছে পলাতক হলেও সূত্র বলছে সে এখন তার বাহিনী সহ টেকানফে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে গ্রেপ্তার না হলে তল্লা এলাকায় শান্তির ফিরে আসার চেয়ে অশান্তি তৈরী হবে। এই শাহিন গ্রেপ্তার না হওয়ায় মানুষ আতঙ্কের মাঝে দিন অতিবাহিত করছে।


তার ঘনিষ্ঠজন লোকের ম্যাধমে জানা যায়, সে পলাতক থেকেও বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। আর এজন্য স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেন এই মাদককারবারীর এত সাহস কোথায় পায়। তাকে কে বা কারা শেল্টার দেয়। এখনি তার লাগাম টেনে ধরতে হবে অন্যথায় এই এলাকার নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

 

কোন মা চান না তার সন্তান মাদকের কারণে নষ্ট হয়ে যাক। কিন্তু তার কারনে তল্লা এলাকার অনেক ভালো ছেলে মাদকা সক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই এলাকাবাসি চান ওই এলাকা যেন প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা হয়। অন্যথায় এলাকার সচেতন মহল আন্দোলন গড়ে তুলবেন।


উল্লেখ্য, শাহিনের নামে প্রায় ৬ থেকে ৮ টি মাদক মামলা রয়েছে। শাহিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৬টি এবং সদর মডেল থানায় ২ টি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গতবছর ১২ মার্চ ফতুল্লা সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১লক্ষ ২৩ হাজার ইয়াবাসহ শাহিন, তার সহযোগি শাহ আলম, আল আমিন, নাছির, আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।

 

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সনে ২০ এপ্রিল মাদক দ্রব্য গাজা, ২০১৭ সনে ৪ অক্টোবর,২০১৮ সালের ২৪ জুন ইয়াবা মামলা রয়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সনে আজমেরীবাগ এলাকা থেকে ১৬শ ইয়াবা পিছ সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। এছাড়াও গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম তল্লা এলাকা থেকে ৭শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭শ৫০ পিছ ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হন এই মাদক ব্যবসায়ী শাহিন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন