পাগলায় ‘অটোরিকশা’ যানজটের প্রধান কারণ
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:০৫ পিএম
সদর উপজেলার পাগলা-দেলপাড়া রাস্তায় তীব্র যানজট এখন প্রতিদিনের চিত্র। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই যানজটের কবলে পড়ে নাকাল এলাকাবাসী। পথচারীদের দাবি, অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ না থাকা ও অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল করায় প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাগলা বাজার মোড় থেকে মডানের মোড় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের আশপাশে বিপণিবিতান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ অফিস অবস্থিত।
অটোরিকশার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন যানজটের কবলে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। আবার এই স্থানে যানজটের তীব্রতা সৃষ্টি হলে এর রেষ যেন পাগলা রেলস্টেশন অতিক্রম করে নয়ামাটি বাজার পর্যন্ত পৌঁছায়। অন্যদিকে মডানের মোড় এলাকায় বিভিন্ন কলকারখানায় পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় কামালপুর থেকে নন্দলালপুর নাক্কাটার বাড়ী মোড়ের চিত্র যেন আরও ভয়াবহ।
জরুরি কাজে পাগলায় আসা মানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে পড়ে। বাজার শেষ করে রাস্তার উল্টো দিকে যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন পাগলা বাজার এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন শেখ। তিনি বলেন, ‘বাজার করতে যত সময় লাগে, তার থেকে বেশি সময় রাস্তায় চলে যায়। রাস্তা পার হতেও এই রোদে সময় লাগে অনেক।
এদিকে আফসার করিম প্লাজার মোড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো অটো স্ট্যান্ডে পরিণত করে রাখে দিনের বেলায় যাত্রীর আশায়। এতে অনেকাংশে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। পাগলা বাজার থেকে মডানের মোড় হয়ে নয়ামাটি মোড় পর্যন্ত পাঁচ থেকে আট মিনিটের হাঁটাপথ, সেখানে অটোরিকশায় গেলে সময় লাগছে ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট।
চিতাশাল এলাকার অটো চালক ছামাদ আলী বলেন, 'এতদিনে করোনার বিধিনিষেধ গেল। এখন আবার রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকতে হয়। এ জ্যামের কারণে আয় রোজগারও কমে গেছে। জ্যামে আটকে থেকে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছি।' নয়ামাটি এলাকার অটো রিকশা চালক আব্বাস বলেন, 'দীর্ঘ আট বছর থেকে রিকশা চালাই বাহে। কিন্তু গেল দুই তিন বছরে এই সড়কে এতো অটোরিকশা বাড়ি গেইছে বলার মতন ভাষা নেই।
আগে রিকশা চালাইতেও একটা আনন্দ আছিলো আর এখন খালি আস্তাত জ্যাম। অন্য আস্তাত যাত্রি কম নিরূপায় হইয়া পাগলাতে আসি কষ্ট ভোগ করি।' পাগলা বাজার মোড় এলাকায় তিনদিক থেকে তিনটি সড়ক এসে মিলেছে। এ মোড়ের তিনদিকেই বিপণিবিতান অবস্থিত। এখানেও সড়কের মধ্যে অটোরিকশার স্ট্যান্ড দেখা যায়।
এই মোড়ের পাশেই প্রধান ব্যবসায়ীকেন্দ্র রড ও সিমেন্টের। এই এলাকার ছোট সংযোগ সড়কগুলোয় কেনাকাটা করতে এসে দীর্ঘ সময় মানুষকে যানজটে আটকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় এক নারী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘বছরের পর বছর এ অবস্থা দেখে আসছি। এ বিষয়ের কি কোনো সমাধান নেই?’ এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, ‘দিন দিন অটোরিকশা বেড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে।
আমরা এই যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য নিবন্ধনহীন অটোরিকশা পাগলা এলাকায় ঢুকে পড়ে যানজট সৃষ্টি করছে। ট্রাফিক বিভাগসহ আমরা সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিবো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


