হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে গড়ে তোলা সম্ভব
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৬ পিএম
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। ফাউন্ডেশন গড়ে উঠার কারণেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যেকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাার মধ্যে দিয়েই শিল্পকলা, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। তবে এটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিক পানাম নগরীর সংস্কার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে একটি ভবনকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন সম্ভব হওয়ায় সরকার পুরো পানাম নগরী সংস্কার করবে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এটি সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। মন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কখনো কেউ হারাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধের কোন বিকল্প নেই। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসন পুনরুদ্ধার করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, নারায়নগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন
সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী, ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ ও সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি প্রমূখ। বাংলাদশে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল হোসাইন জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার নিদিষ্ট সময়ের একমাস পর মেলা শুরু করা হয়েছে।
এ বছর মেলায় ১০০ টি স্টল রয়েছে। যা আগের বছর ছিল ১৭০টি। মেলায় লোক কারুশিল্পীদের কারুপণ্য প্রদর্শনীর স্টল, হস্তশিল্প, তৈরী পোশাক, খাবার চটপটি ও মিষ্টির স্টল এতে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে লোক কারুশিল্পীদের জন্য বিনামূল্যে কারুপণ্য প্রদর্শনীর স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্যের অনন্য উপাদান পুনরুদ্ধার ও নতুন প্রজন্মকে তার সাথে পরিচয় করানোর প্রচেষ্টায় ফাউন্ডেশন প্রতিবছর আয়োজন করছে এই লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব।
মেলা ও উৎসবে গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান কারুশিল্পী, লোক সংঙ্গীত শিল্পীগণকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াই এ মেলা ও উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার আমাদের নিজস্ব লোকজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অকৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করা হবে।
এবারের মেলায় থাকবে সিলেট ও মুন্সিগঞ্জের শীতলপাটি, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মুখোশ, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশের কারুশিল্প, সোনারগাঁয়ের জামদানি, কাঠের চিত্রিত হাতি ঘোড়া পুতুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনিকাঁথা, মৌলভীবাজারের বেতের কারুশিল্প, জামালপুরের তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প
খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর কারুশিল্প, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, কক্সবাজারের শাখা ঝিনুক, ঢাকার রিকশা পেইন্টিং, গাজীপুরের কাপড়ের পুতুল, বগুড়ার লোকজ খেলনা ও বাদ্যযন্ত্র।


