আমার বাজানরে ওরা মাইরা ফালাইছে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম
# ধারালো অস্ত্র ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় রবিনকে
‘আমার বাজানরে ওরা মাইরা ফালাইছে। ওরতো কোনো দোষ আছিলো না। অহন আমারে কে মা কইয়া ডাকবো’। এভাবেই হত্যাকান্ডের শিকার নিহত রবিনের মা আহাজারী করে কথাগুলো বলেছিলেন। ফতুল্লার মুসলিমনগরে সোমবার সন্ধ্যার দিকে রবিনকে ধারালো অস্ত্র ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শণে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) নাজমুল হাসান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান। রাতেই নিহত রবিনের বাবা ইমাম হোসেন মাইজ ভান্ডারী বাদী হয়ে শাওন হোসেন (২১), অনিক হোসেন (১৯) ও আরমানকে আটক করে। নিহত রবিনের বাবা ইমাম হোসেন মাইজ ভান্ডারী বাদী হয়ে উল্লেখিতদের নামসহ সুজন (১৯), সোহাগ (১৯), মাহিনসহ (২০) অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আটককৃত ৩ জনকে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই বেশ কয়েকজন কিশোর মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় অবস্থান করে। এসময় তারা কেএম স্কুল সংলগ্ন ইমাম হোসেনের বাড়ি থেকে রহমান মিয়ার বাড়ির পিছনে মতি মিয়ার পরিত্যাক্ত মাঠে অবস্থান করে। এরই মধ্যে কিশোরদের সাথে বড় ভাই ছোট ভাই বলা নিয়ে তর্ক বাঁধে। বন্ধু অনিকের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলো রবিন। এক পর্যায়ে তর্কের সূত্র ধরে রবিনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও কিক্রেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বেশ কয়েকজন।
নিহত রবিনের বাবা ইমাম হোসেন মাইজ ভান্ডারী বলেন,রবিন বিসিকে তার মামা শাহিনের হোটেলে চাকুরী করে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে রবিনকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী অনিক নামের একটি ছেলে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারি রবিনের লাশ মতি মিয়ার পরিত্যাক্ত জমিতে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখি,সেই সাথে বেশ কিছু ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পও দেখতে পাই।
তিনি আরো বলেন, রবিনকে যখন ছুরিকাঘাত করা হয় তখন সে চিৎকার করে। এসময় তার বন্ধু মুন্না রবিনকে বাঁচাতে গেলে তাকেও হামলাকারীরা ছুরিকাঘাত করে। তবে একটি সূত্র জানায়,রবিন হত্যাকান্ডে স্থানীয় ও বহিরাগত বেশ কিছু কিশোর রয়েছে। ছোটভাই বড় ভাই বলাকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডে সংঘঠিত হয়েছে বলেও সূত্রের দাবী।
এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.রকিবুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের সংবাদ পাওয়ার পর পরই ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। আটককৃতদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


