হত্যার পর স্ত্রীর লাশ ফ্রিজে রেখে দেন কথিত স্বামী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম
ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগের আদর্শনগর এলাকার একটি ডোবা থেকে তানজিনা নামের এক তরুনীর মাথা উদ্ধারের প্রায় ১১ মাস পর শরীরের কিছু অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৪ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযান পরিচালনা করে বিকেলে এগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম তানজিনা তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন নিহত তানজিনার স্বামী রাসেল (২৯)। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ঝুমুরগঞ্জ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকিল হোসেন বলেন, হত্যার পর তানজিনার দেহ কয়েক টুকরা করে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দিয়ে ছিলেন রাসেল পরে তিনি বাড়িওয়ালা সিরাজ খানকে জানান, তার স্ত্রী তানজিনা করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন।
এরপর তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। পরে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার ফারিয়া গার্মেন্টের সামনের ওই ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে তানজিনার দেহবিহীন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন পুলিশ। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে রহস্য উদঘাটন শুরু করে পিবিআই।
পরে উদ্ধার অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআই। সেখানে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, রাসেলের সঙ্গে তানজিনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করা শুরু করেন। কিন্তু পরকীয়ার কারণে তাদের সংসারে কলহ দেখা দেয়। ২০২১ সালের ২৯ মার্চ তানজিনাকে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেন রাসেল।
তিনি আরও জানান, হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে ফ্রিজে রেখে দেন রাসেল। ৪ এপ্রিল বাড়া বাসাবন্দি করে সেগুলো পাশের ডোবায় ফেলে দেন। ঘটনার পর হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ওই বাড়ি ছাড়েন রাসেল। তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


