Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

হত্যার ১১ মাস পর স্বামীর তথ্যে স্ত্রীর দেহাবশেষ উদ্ধার

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩২ পিএম

হত্যার ১১ মাস পর স্বামীর তথ্যে স্ত্রীর দেহাবশেষ উদ্ধার
Swapno

ফতুল্লায় একটি ডোবা থেকে তানজিনা (২৬) নামে এক তরুণীর মাথা উদ্ধারের প্রায় ১১ মাস পর আসামিকে গ্রেফতার ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে তদন্তকারী সংস্থাা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের দেহাবশেষও। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিম দেওভোগের আদর্শনগর এলাকায় সকাল থেকে ডোবার পানি সেচে নিহিতের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রতঙ্গ উদ্ধার করা হয়। নিহত তানজিনা রংপুর জেলার আব্দুল জলিলের মেয়ে।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী একই জেলার মিঠাপুকুর থানার এনায়েতপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ফতুল্লার মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার সিরাজখানের বাসায় ভাড়া থাকতেন। পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার রাসেলের সঙ্গে পাশ্ববর্তী এলাকার তানজিনার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তানজিনার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। ২০১৯ সালে রাসেল পারিবারিকভাবে মোনালিসা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে।

 

বিয়ের সংবাদে তানজিনা তার পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে আসে এবং গার্মেন্টেসে চাকুরি নেয়। এ সময় রাসেলে সাথে তানজিনার পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা বিয়ে করে। যদিও এ সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে তানজিনা ও রাসেল স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর রঙ্গিলা রোডে মো. নোয়াবের বাড়ির তৃতীয় তলায় বাসায় বসবাস শুরু করে।

 

কিন্তু বিয়ের পর তানজিনা রাসেলের মৃত বোনের স্বামী মোস্তফা সহবিভিন্ন পুরুষের সাথে গোপনে কথা বলা শুরু করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। ২০২১ সালে ২৯ মার্চ ঘটনার দিন রাত ৩টায় রাসেল শবে বরাতের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তানজিনাকে মোবাইলে কথা বলতে দেখে রেগে যায় এবং তানজিনাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে রান্নার বটি দিয়ে তানজিনার গলায় আঘাত করে।

 

পরে বটি দিয়ে তানজিনার ধর থেকে মাথা কেটে আলাদা করে ফেলে। এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রেখে দেয়। এসপি আরো জানান, ২৯ মার্চের পরে রাসেল বিভিন্ন সময়ে খন্ডিত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ তার বাসার ছাদ থেকে পার্শ্ববর্তী ময়লার স্তুপের মধ্যে ফেলে দেয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল গভীর রাতে ভুক্তভোগীর মাথা একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফতুল্লা বাড়ৈভোগ বটতলা সাকিন এলাকার বলয় ও আকালের বাড়ির পিছনের ডোবার মধ্যে ফেলে দেয়।

 

এই ঘটনার পরে আসামি তার ভাড়া বাসা ছেড়ে হত্যার কাজে ব্যবহৃত বটি নিয়ে গোপনে পালিয়ে যায় এবং সোনারগাঁয়ের ছোট সাদিপুর এলাকায় ঘর ভাড়া নেয়। ভুক্তভোগীর স্বজনরা তার খোঁজ না পেয়ে তানজিনার ভাগিনা পলাশ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করে। জিডির সূত্র ধরে রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

তার দেয়া তথ্যমতে তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত বটি ও মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত ফ্রিজ উদ্ধার ও জব্দ করে পুলিশ। পরে তানজিনার ব্যবহৃত মোবাইলটি রাসেলের বোন আশার কাছ থেকে উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। রাসেলের দেয়া তথ্যমতে নিহতের দেহের অন্যান্য খন্ডিত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ময়লার স্তুপ থেকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন