সোনারগাঁয়ে হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগা উপজেলার সাদিপুর এলাকায় মাজহারুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। এ বিষয়ে সোমবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলার জন্য আবেদন করেছেন নিহতের পরিবার। থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকি গ্রামের নাফিজ মিয়ার সঙ্গে মাজেদা বেগমের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এর জের ধরে গত ১৫ জানুয়ারী বাইশটেকি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে নাফিজ মিয়া, আবু তাহেরের ছেলে আল আমিন, নগর বাইশটেকি গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে আহসান উল্লাহ, গঞ্জর হোসেনের ছেলে নূরা মিয়া, মিরাজ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, নূরইসলামের ছেলে মাহাম্মাদ হোসেন সহ তার সহযোগিরা মাজেদা বেগমের ছেলে মাজহারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সে ঐদিন রাতে বাসায় না ফেরায় মাজহারুলের স্বজনরা তাকে সবজাগায় খুঁজে না পেয়ে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। ভোর চারটায় ১নং বিবাধী নাফিজ মিয়ার ভাই মিলন মিয়া মোবাইলে ফোন দিয়ে বলেন মাজহারুল ইসলামকে ধানমন্ডি ২৭ প্লাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে।
সঙ্গে সঙ্গে আমরা হাসপাতালে গিয়ে মাজহারুলকে মারত্বক আহত অবস্থায় দেখতে পাই। কিছুক্ষণ পর তাকে ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে আমরা থানায় গিয়ে হত্যা মামলার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থানা পুলিশ জানান ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মামলা গ্রহণ করা যাবে না। পরবর্তীতে আমরা ময়না তদন্তের রির্পোটের জন্য অপেক্ষা করি।
পরে ময়নাদন্তের রিপোর্টে মাজহারুল ইসলামকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এর পরেও থানায় মামলা না নিয়ে আমাদের সাথে তালবাহানা শুরু করে। উপায় না পেয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হই। মামলার বাদী মাজেদা বেগম জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার প্রতিপক্ষ নাফিজ মিয়া ও তার সহযোগিরা আমার ছেলে মাজহারুল ইসলামকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি না। প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছি। থানা পুলিশও তাদের পক্ষে কাজ করছে। জানিনা আমার ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পাব কিনা। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রির কাছে দাবী জানাই তিনি জেন আমার ছেলে হত্যাকারীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে সোনারগা থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নিহতের পরিবার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আমাদের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে। আসামিরা যত শক্তিশালী হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


