Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রূপগঞ্জে উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স ও মাইক বাজিয়ে শব্দদূষণ

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২, ০৬:১১ পিএম

রূপগঞ্জে উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স ও মাইক বাজিয়ে শব্দদূষণ
Swapno

রূপগঞ্জে রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকে মাইক লাগিয়ে পন্য বিক্রি, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যাথলজি, কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টারে ভর্তিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার চলছে উচ্চ শব্দে মাইক ও বক্স বাজিয়ে।  শুধু তাই নয়, করোনা পরিস্থিতির বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

এতে মাত্রাতিরিক্ত ও অসহনীয় শব্দদূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব বন্ধে কতিপয় মুসলিম সমাজে সামাজিক শাস্তির ঘোষণা করলেও শাস্তি প্রয়োগে বাঁধার মুখে পড়েছেন মুসুল্লিরা৷ এদিকে শব্দ দূষন রোধে তৎপরতা নেই উপজেলা প্রশাসনের। এমন দাবী স্থানীয়দের।  সূত্র জানায়, শব্দ দূষণের ফলে শিশু, অসুস্থ রোগী ও পরীক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা পোহাতে হয়।

 

কিন্তু উপজেলার প্রায় সব গ্রামে বিয়ে, গায়ে হলুদ, সুন্নতে খাৎনা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে উচ্চ শব্দে মাইক–সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের বেলা ছাড়াও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

 

এ ছাড়া রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশায় মাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন ধরনের প্রচার চলছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। ফলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়গুলোতে দৈনন্দিন কাজ সারতে সমস্যায় পড়ছেন সংশ্লিষ্টরা।


১ মার্চ মঙ্গলবার ভুলতা এলাকার গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে পন্য বিক্রি করছেন হাফিজুল নামের এক ব্যবসায়ী। উচ্চ শব্দের বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারে হৈ চৈ বেশি।

 

তাই বেশি সাউন্ড দিতে হয়। তবে কোন প্রকার বাঁধা পাইনি।  সংবাদকর্মী মোজাফ্ফর রহমান বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে শব্দ দূষন করা হচ্ছে। ফলে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, অফিস, ব্যাংক-বিমার দাপ্তরিক কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।


পিতলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা  এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসনিম সিমিয়া অন্তি বলেন, রাতের বেলা বক্স ও মাইকের কর্কশ আওয়াজে পড়ার মনোযোগ নষ্ট করে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। রাতে আওয়াজের কারনে মাথা ধরে যায়।


বরপা এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান হান্নান বলেন, বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের নামে উচ্চ শব্দে বক্স বাজানো হয়। রাত ২ টা ৩ টা পর্যন্ত চলে নাচ গান। এতে প্রতিবেশিদের মাঝে বিরক্তিকর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।

 

’ স্থানীয় শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী তীরের বাসিন্দাদের দাবী, সারা বছরই নদী দিয়ে নৌকায় বনভোজনের নামে উচ্চ শব্দে বক্স বাজায়। তাদের কারনে নদী পারের লোকজন শব্দ দূষনের শিকার হয়।  এসব বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।


জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, উচ্চ শব্দ জনভোগান্তির কারণ।  তা বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন ছাড়াও প্রয়োজনে প্রশাসনের মোবাইল কোর্টে কঠোর নজরদারি হলে এই উপদ্রব থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। আতলাসপুর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, আমাদের সমাজে উচ্চ শব্দে বক্স বাজালে জড়িমানা ও সংশ্লিষ্টকে শারীরিক শাস্তির ঘোষনা দেয়া হয়েছে।

 

এতে এখন সমাজের কেউ বক্স বা মাইক বাজায় না। বাগবের এলাকার বাসিন্দা জজ মিয়া বলেন, আমাদের সমাজে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে উচ্চ শব্দে মাইক, বক্স বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন সামাজিক আন্দোলন ফলপ্রসূ হচ্ছে। শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা সাবরিনা রুমি মীম বলেন, আমাদের সমাজে কেউ বক্স বাজালে ১০ হাজার টাকা জড়িমানা ও শারীরিক শাস্তি ঘোষনার পর সব মুসুল্লিরা সতর্ক রয়েছেন। এখন আর কেউ মাইক বা বক্স বাজায় না।


মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার ফয়সাল আহমেদ বলেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি লোপসহ উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বোধ, অনিদ্রা, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।


তিনি আরো বলেন, শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাদের মানসিক বিকাশের অন্তরায় শব্দদূষণ। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের ওপরে হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। সূত্র জানায়, বিনোদন কেন্দ্র, বিয়ে বাড়ি বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শব্দের মাত্রা ২০০ ডেসিবেলের ওপরে ওঠে। যা জনস্বাস্থ্য বিরোধী।  রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এ ‘নীরব’, ‘আবাসিক’

 

‘মিশ্র’, ‘বাণিজ্যিক’ ও ‘শিল্প’ এই পাঁচ এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে (ভোর ছয়টা থেকে রাত নয়টা) ৫০ ডেসিবেল ও রাতে (রাত নয়টা থেকে ভোর ছয়টা) ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫, রাতে ৪৫, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০, রাতে ৫০, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০, রাতে ৬০ ও শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫, রাতে হবে ৭০ ডেসিবেল।

 

শব্দ দূষনের খবরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিধিমালায় শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম না করার শর্তে মাইক, অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহার করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধানও আছে।

 

রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ১৮ নম্বর ধারামতে, কোনো ব্যক্তি বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি প্রথম অপরাধের জন্য অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অভিযোগ পেলে আমরা তৎপর থাকবো।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন