Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পূর্বাচলে খুপড়ি দোকান দিয়ে রাতভর তেলচুরি, গ্রেফতার ১১

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২২, ০৬:৪১ পিএম

পূর্বাচলে খুপড়ি দোকান দিয়ে রাতভর তেলচুরি, গ্রেফতার ১১
Swapno

মদনপুর গাজীপুর সড়ক বা এশিয়ান বাইপাস ও ৩শ ফুট সড়ক (কুড়িল থেকে কাঞ্চন সড়ক) দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারের অধিক মালবাহী ট্রাক। চলে যাত্রীপরিবহনে বিআরটিসি বাস আর প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে কখনো দিনদুপুরে প্রকাশ্যে আর রাতভর রয়েছে তেলচোর চক্রের সক্রিয় সিন্ডিকেট।

 

তারা অসাদু গাড়ী চালকদের মাধ্যমে তেল চুরি করতে ওই সড়কের পাশেই তৈরী করেছে অর্ধশতাধিক খুপড়ি দোকান ঘর। সামনে থেকে বন্ধ রাখলেও গাড়ী কাছে ভিরলেই দূর থেকে নজররাখা কর্মী এসে কিনে নেয় চোরাই তেল। পুলিশ ও র‌্যাবের নজর এড়াতে এসব দোকান ঘর করা হয়েছে সড়ক থেকে লোকচক্ষুর কিছুটা আড়ালে ।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মাণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় রয়েছে এমন ৩০টির অধিক তেল চুরি কাজে নিয়োজিত সিন্ডিকেট। এদের মাঝে পূর্বাচলের ৮, ৯,১০ও ২নং সেক্টর এলাকার ৪টি খুপড়ি দোকান নিয়ন্ত্রণ করে উপজেলার বাগবের এলাকার রমজান আলীর ছেলে সুমন মিয়া ও তার নিয়োগ করা লোকজন।

 

পূর্বাচল ৯নং সেক্টরের আদিবাসি আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী অভিযোগ করে জানান, ৯ নং সেক্টর এলাকার খুপড়ি ঘরে রাতভর তেলচুরি করে দলবেঁধে নেশা পান করে একটি স্থানীয় চক্র। এতে বাঁধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সুমন ও তার দলবল আমির আলী ও তার ছেলে আল আমিনকে হত্যার হুমকী দেয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় গত ৩ মার্চ সকালে একটি সাধারন ডায়েরী করেন আল আমিন।

 

ওই ডায়েরী করার জেরে আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে তেলচোর সিন্ডিকেটের প্রধান রমজান আলীর ছেলে সুমন মিয়া, আলমপুর গ্রামের ফরিদ আলীর ছেলে ফরহাদ, মোহাম্মদ আলীর ছেলে কাশেম, জহুর ছেলে অনিক ও শফিকসহ আরো অজ্ঞাত লোকজন একই দিন বিকালে দলবল নিয়ে আমির আলীর বাড়িতে হামলা করে। পরে ওই বাড়িতে থাকা আসবাব ভাংচুর শুরু করলে বাঁধা দেয় আল আমিনের স্ত্রী সীমা আক্তার।

 

ওই সময় সিমা আক্তারকে মারধর করে শ্লীলতাহানী ঘটায় সুমনগং। এ ঘটনায় সিমা আক্তার বাদী হয়ে পুনরায় থানায় অভিযোগ করেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এদিকে পূর্বাচল জুরে অবৈধ চোরাই তেল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ৪,৫,৬ ও ৭নং সেক্টর এলাকার কালনীর সবুর মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়াসহ আরো একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

 

যাদের মাঝে রয়েছে উজ্জল, পিয়াস, শরীফ, ওমর ,ফয়সালসহ আরো ২০ জনের অধিক সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, তারা দিনভর স্থানীয় নানা সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকে। আর রাত হলেই খুপড়ি দোকানে তেল চুরি কাজে জড়িত থাকে। গত ৩ তারিখে র‌্যাবের অভিযানের সময় তারা গা ঢাকা দেয়ায় অভিযানের বাহিরে থেকে যায় তারা।

 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানা সহকারী উপ পরিদর্শক (পূর্বাচল ক্যাম্প ইনচার্জ) সাইফুল ইসলাম বলেন,রূপগঞ্জ থানায় দাখিল করা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত চলছে। হামলায় জড়িতদের আইনের আঁওতায় আনা হবে। তবে চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের ধরতে থানা পুলিশের একটি টীম কাজ করছে।

 

এসব বিষয়ে র‌্যাব ১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) নোমান আহমেদ বলেন, তেল চোর সিন্ডিকেট সক্রিয় এমন খবর পেয়ে গত ৩ মার্চ রাত ও ৪ মার্চ শুক্রবার সকালে একাধিক স্পটে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাব ১ এর সিপিসি ৩ এর একটি আভিজানিক দল। ওই অভিযানে পূর্বাচলের আশপাশের সক্রিয় ১১জন চোরাই তেল কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

 

পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে রূপগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আরো যারা জড়িত তাদের আইনের আঁওতায় আনতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সোহেল, রফিকুল, কামরুল, রাসেল, মাসুম , জুয়েল, আতাউর, শাওন, আক্তার, হানিফ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৫০ লিটার চোরাইকৃত জ্বালানী তেল,১টি কাভার্ড ভ্যান,১২টি মোবাইল, ১৫টি সিমকার্ড, ১টি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ ৪২ হাজার ৪শত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন