Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পূর্বাচল জুড়েই ফটক চোর

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২২, ০৫:৩০ পিএম

পূর্বাচল জুড়েই ফটক চোর
Swapno

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নারায়ণগেঞ্জর রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লটের নির্মাণ সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে দিন দুপুরে। এতে রাজউক থেকে বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন পেয়েও কাজ করাতে পারছেন না প্লট মালিকরা। এছাড়াও প্লটের সীমানা প্রাচীর ও ফটক চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীন পূর্বাচলের ৩০টি সেক্টরের প্লট বুঝে মালিকরাও।

 
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,  পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের এ পর্যন্ত ৮৫ ভাগ প্লট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে মালিকদের মাঝে। এসব প্লটের মাঝে বাড়ি করার অনুমোদন পেয়েছেন ৪০ ভাগ প্লট মালিক। এদিকে প্লট বুঝিয়ে পাওয়ার পর নিজ প্লটের দখল রাখতে অস্থায়ী বা স্থায়ী সীমানা প্রাচীর করেছেন অনেকে। কেউবা করেছেন অস্থায়ী ঘর।

 

কিন্তু এসব অস্থায়ী ঘরে বা প্রাচীর দেখাশুনার জন্য অনেকেই রাখেননি কোন নৈশ প্রহরী। ফলে স্থানীয় ছিঁচকে ও শক্তিশালী চোর সিন্ডিকেট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্লটের নির্মাণ সামগ্রী এমনকি ফটক। এসব ফটকের মাঝে রয়েছে ২০ হাজার থেকে  ৫ লাখ টাকা মুল্যের ফটক। তবে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বলছেন, অভিযোগ না থাকায় চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এমন চিত্র পূর্বাচল জুড়েই।


সূত্র জানায়, পূর্বাচলে রয়েছে ৩০টি সেক্টরে ২৫টি শক্তিশালী চোর সিন্ডিকেট। আর ওই ২৫টি চোর লালনে সহায়তা করছে পূর্বাচলের অভ্যন্তরে ৮টি এবং বাইরের আরো ১৫টি ভাঙ্গারীর দোকান। অভিযোগ রয়েছে, ওই চোরদের চুরি করা মালামাল সরাসরি ওই ভাঙ্গারী দোকানীরা ক্রয় করে নিচ্ছে। ফলে চোররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাতের আঁধারে কিংবা দিনে দুপুরে নির্জনতার সুযোগে এসব ফটক চুরি হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্লট মালিক ও আদিবাসীরা।

 

পূর্বাচলের আলমপুরের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সোহেল মিয়া বলেন, চোরচক্র এমনই শক্তিশালী যে, তারা র‌্যাব, পুলিশ ও সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্লটের ফটক এমনকি ইট পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। আর ওই চোরাই মালামাল বিক্রি করে আশপাশের বিভিন্ন ভাঙ্গারীর দোকানে। এসব ভাঙ্গারীর দোকানের মাঝে রয়েছে, ইছাপুরা বাজার, বাগবের বাজার, ভক্তবাড়ি বাজার, শিমুলিয়া বাজার ও কালনী বাজার।

 

অন্যদিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ অংশের ফারুক মার্কেট, ফর্দি বাজারেও রয়েছে আরো ভাঙ্গারী দোকান। ওই ভাঙ্গারী দোকানের ছত্রছাঁয়ায় এসব চোর সিন্ডিকেট সক্রিয়। পূর্বাচলের প্লট মালিক র‌্যাব কর্মকর্তা এমএ আওয়াল বলেন, আমাদের পারিবারিকভাবে ক্রয় করা একটি  প্লটের নিরাপত্তার  জন্য সীমানা প্রাচীর করি। ওই প্রাচীরের ৩ লাখ টাকা খরচ করে একটি এসএস ফটক দেই। ৫ মাস পর গত ৪ মার্চ গিয়ে দেখি ফটক খুলে কে বা কারা নিয়ে গেছে।


রূপগঞ্জ থানার সহকারী উপ পরিদর্শক ও পূর্বাচল ক্যাম্প সহকারী ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম নিবিড় বলেন, ৩০টি সেক্টরের মাঝে রূপগঞ্জ উপজেলা অংশে ২৩টি সেক্টর রয়েছে। ওই ২৩টি সেক্টরের নিরাপত্তায় কেবল ১ জন এসআই, ১জন এএসআই ও ৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া আছে। ফলে এই ৫জন মিলেই নিরাপত্তা দেখভাল করতে হচ্ছে।

 

তবে অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। দুএকজনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাতে চোর ধরতে সুবিধা হয়। সম্প্রতি ২৪নং সেক্টর এলাকার ৪০৪ নং সড়কের ৫নং প্লট থেকে একটি ৩ লাখ টাকা মুল্যের ফটক চুরি হয়ে গেলে ওই প্লটের মালিক প্রকৌশলী নাদিম হোসেন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগ পেয়ে চোর সনাক্তে অভিযান চালাই।

 

গত ৩ মার্চ রাতে পূর্বাচলের হিড়নাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত চোর চক্রের প্রধান সোনা মিয়ার ছেলে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার হেফাজত থেকে ৫টি ফটক উদ্ধার করি। এ সময় তার সহযোগী কালনী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে ইউনুছকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের অপর সহযোগী সেলিম, মনির পালিয়ে যায়।

 

এভাবে বিভিন্ন সময় চোরদের বিষয়ে জানতে পারলে নিয়মিত অভিযান করা হয়। তিনি আরো বলেন, পূর্বাচল এলাকাটা অনেকটা জনশুন্য। তাই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে চোররা তাদের অপকর্ম করে যায়। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  এ এফ এম সায়েদ মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা নিরাপত্তাদানে কাজ করছি।


এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, পূর্বাচল এলাকায় ঘোষিত থানা বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা দূর হবে। তবে থানা পুলিশের নিয়োজিত লোকবল দিয়ে সর্বাত্নক নিরাপত্তাসেবা দেয়া হচ্ছে।

 

সমস্যা হলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ না পাওয়া। তারা ক্ষতিগ্রস্থ হলে থানায় একটি অভিযোগ করলে আমাদের আইনি ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়। তাই অনুরোধ করবো থানা পুলিশকে জানানোর।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন