# অভিযুুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি ফতুল্লা
স্বামীকে জেল খানায় দিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবঁধুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার কারারক্ষী কাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী বাদী হয়ে গতকাল মামলাটি দায়ের করেছেন (মামলা নং-২৯)।
স্বামীর সাথে ফতুল্লার লালপুর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন সাথী (ছদ্মনাম)। তার স্বামীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী থানা এলাকায়। সাথীর স্বামী ফতুল্লার একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে। তার জ্যাঠা শ্বশুরের ছেলে কাজিম উদ্দিন টাঙ্গাইল জেলার কারারক্ষীর হিসেবে চাকুরীরত ছিলো। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর কাজিম উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে চাকুরীতে যোগদান করেন।
পরদিন ২৪ ডিসেম্বর সকালে সে ফতুল্লার লালগুপুরস্থ তার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসে। এ সময় চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী তার বাসার রুমের খাটের উপর শুয়ে ছিলো। এক পর্যায়ে কারারক্ষি কাজিম উদ্দিন তার ভাবীর বেশ কয়েকটি ছবি তার অগোচরে মোবাইলে ধারন করে ফেলে। যা ভাবী টেরও পায়নি। এক পর্যায়ে কাজিম উদ্দিন তার ভাবীকে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কু প্রস্তাব দেয়। এতে রাজী হয়নি সাথী।
বাদী জানান, অভিযুক্ত কাজিম উদ্দিন তার স্বামীর আপন চাচাতো ভাই। নারায়ণঞ্জে বদলী হবে বলে সে অনেক আগেই তাদের পরিবারকে জানিয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জে বদলী হওয়ার পরদিন সকালে তার দেবর তাদের ভাড়া বাসায় চলে আসে। তিনি বুঝতেও পারেনি দেবর কাজিম উদ্দিন একজন দুশ্চরিত্রের। তার স্বামী সকাল ৮টায় গার্মেন্টসে চাকুরীতে যায় এবং রাতে বাসায় ফেরে।
এ বিষয়টি কাজিম উদ্দিনের জানা ছিলো। ঘটনার দিন গোপনে ছবি তুলে প্রায় সময় সে তার ভাবীকে মোবাইলে কু প্রস্তাব দেয়া শুরু করে। গত ৫ জানুয়ারী কাজিম উদ্দিন পুনরায় সাথীর বাসায় আসে। তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থপান না করলে তার স্বামীকে গোপন ছবি দেখিয়ে সংসার নষ্ট করে দেয়ার হুমকি দেয়। এমন হুমকি দিয়ে তার সাথে কাজিম উদ্দিন জোর পূর্বক একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারী সকালে কাজিম উদ্দিন পুনরায় তাকে নানা রকম ভয় ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে বলেও জানান তিনি।
একটি সূত্র জানায়, কারারক্ষীর বিরুদ্ধে তার ভাবী ফতুল্লা মডেল থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা করতে যাচ্ছে, এমন সংবাদে কাজিম উদ্দিন বেশ কয়েকজন বিশেষ পেশার ব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে মামলা না হওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা তদ্বির করান। তবে বাদী এবং থানা পুলিশ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলো। যে কারনে বিশেষ পেশার ঐ পক্ষটি থানায় তেমন কোনো সুবিধা করতে পারেনি।
এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান বলেন, বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।


