ফতুল্লায় ৩৫ বছর পর তেলচোর আফসুর সাম্রাজ্যের পতন
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৫২ পিএম
# শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে
ছাড়া আফসু দিন দিন মেঘনা ডিপোতে প্রভাব বিস্তার করে মেঘনা ডিপোর ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়ে ছিলেন। হয়েছিলেন বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি। তেল টোকানো থেকে আফসুর নামের পাশে তেলচোর তকমা লাগতে বেশিদিন সময় লাগেনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ট্যাংকলরি শ্রমিকদের রক্তচুষে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গিয়েছিলেন আফসার উদ্দিন আফসু।
অবশেষে আফসুকে বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক ইউনিয়নের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। তার এ বহিস্কারে শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। ট্যাংকলরির শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রয়ারী মাসে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি আফসার উদ্দিন আফসুর বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছিলো কেন্দ্রীয় কমিটি। নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে ৭ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আফসু এর কোনো সদুত্তর দেয়নি। দিনে দিনে ফতুল্লার ট্যঅংকলরির শ্রমিক সংগঠনের টাকা আত্মসাৎকারী আফসুর বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছিলো মেঘনা ডিপোর ট্যাংকলরি শ্রমিকরাও।
কিন্তু আফসু কালো টাকার ক্ষমতায় সব কিছুর উর্দ্ধে থেকে মেঘনা ডিপোর ক্ষমতা নিজের বগল দাবা করে রাখতে চেয়েছিলো। কিন্তু তার হতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সেই সাথে তিনি আজীবন কোনো ট্যাংকলরির শ্রমিক সংগঠনের কোনো পদে থাকতে পারবেন না বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সারাহ বেগম কবরী। সেই সময়ে তেলচোর আফসু সাংসদ কবরীর তৎকালীন পিএস সেন্টুর সাথে আঁতাত করেন। ঐ বছরেই আফসু মেঘনা ও যমুনার তেলচোর সিন্ডিকেটের মূল হোতা বনে যান। নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন পুরো তেল টোকাই ও পল্টি জ্বালানী তেল চোর সিন্ডিকেটকে।
সেই সময়ের অনেকেই এখনো চোরাইতেল চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করছে। কবরীর সময়ে তেল চোর আফসুর সাথে সাথে ফোয়াদ,চুশনি শাহীন,গলাকাটা নাছির, সালাউদ্দিন,স্বপন সরদার, ফরহাদ,বোরহান,রহমতউল্লাহ ভান্ডারী,বাবু,বুইট্রা সুমনসহ একাধিক সন্ত্রাসী তেল চুরির মহোৎসবে মেতে উঠেছিলো।
তেলচোর আফসু শুধু তেল চুরি করেই ক্ষান্ত হয়নি। কয়েক বছর আগে ফতুল্লা মডেল থানার একজন পুলিশ অফিসারকে রাতে বাসার ফেরার সময় মদ্যপ অবস্থায় রুসেন হাউজিংয়ে মারপিট করেছিলো। ঐ মামলায় তেলচোর আফসুর ভাই সালাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আসামীও হয়েছিলো। আফসুর বহিস্কারে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা বলেন,নিয়ম অনুযায়ী গরীব ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য ফান্ডে চাঁদা বাবদ টাকা রাখা হয়।
দীর্ঘ ৩৫ বছরে গরীব শ্রমিকদের জন্য রাখা টাকা থেকে কোনো টাকা শ্রমিকরা তাদের বিপদে পাননি। কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুল্লে তার উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতো আফসু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। কোনো শ্রমিক সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হলে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগীতা করা হতো না।
কল্যাণ ফান্ডের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তেল চোর আফসু ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এব্যাপারে জানতে আফসার উদ্দিন আফসুর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি


