ফুটবলার রাসেল হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের হাতে খড়ি তার। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা এই কিশোর গ্যাং লিডার করেন না। ছিনতাই,চাঁদাবাজী,মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে বিশাল এক কিশোর গ্যাং লিডারের নাম ইভন। ফতুল্লার ইসদাইর ও এর আশপাশের এলাকায় এই কিশোরের রামরাজত্ব চলে আসছে দিনের পর দিন।
রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে ইসদাইর এলাকার আজম বাবু ওরফে জামাই বাবুর ছেলে ইভন দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেড়িয়ে এসে ইভন ফের শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। সম্প্রতি ইসদাইরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় ইসদাইর সমাজ কল্যাণ ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালনা কমিটির কাছে, ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করেছিলো কিশোর গ্যাং লিডার ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
চাঁদা না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বেশ কয়েকটি দেকানের তালা ভেঙ্গে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয় ইভন ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এসময় নাইট গার্ড তাদের বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যার চেষ্টা করে ইভন ও তার বাহিনীর লোকজন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের হাতে ইভনসহ গ্রেফতার হয়েছে ৮ জন।
তবুও আতংক কাটেনি ইসদাইর এলাকায়। ইভনকে শেল্টার দেয়া লোকজন এখনো এলাকায় নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আজ ইসদাইর সুগন্ধা এলাকাবাসী গনস্বাক্ষর দিয়ে জেলা প্রশাসক, এসপি ও র্যাবের বরাবপর ইভন বাহিনীর বিরুদ্ধে স্মারক লিপি দেবেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
২০১৩ সালে ফুটবলার রাসেলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। বড় ভাই ছোট ভাই বলাকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো। ঐ মামলার আসামী ইভন। রাসেল হত্যা মামলা থেকে জামিনে বেড়িয়ে এসে একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার অভিযোগ ইভনের বিরুদ্ধে বিস্তর। একে একে ইভন এলাকায় গড়ে তোলে বিশাল কিশোর গ্যাং।
এই বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় মোটর সাইকেল মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা জানান দিয়ে থাকেন প্রতিনিয়ত। এলাকায় মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজীর অভিযোগ রয়েছে ইভন ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে এই গ্যাং লিডার।
সর্বশেষ ইভন ও তার বাহিনীরা চাঁদা না পেয়ে ইসদাইরে বেশ কয়েকটি দোকানে ডাকাতির চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে নাইট গার্ডকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ইভনসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এর আগে ইভন ও তার লোকজনদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন করিম নামের একজন শ্রমিক। তাকে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ইভন ও তার লোকজন।
ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, বাবা জামাই বাবুর আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই তার ছেলে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকে। মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ব্যবসা, খুনসহ নিরহ মানুষদের ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে ইভনের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েক মাস আগ থেকেই ইভন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করা শুরু করেছে।
তবে সে তার বাহিনীকে অন্য এলাকা থেকে বসেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রাতের বেলা এলাকায় চলে তার মোটর সাইকেল মহড়া। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছাড়াও রয়েছে মাদকসহ চাঁদাবাজীর মামলাও। মাসুম নামের একজন নেতা তাকে শেল্টার দেয়ায় সে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। সম্প্রতি ওসমান পরিবারের একজন সদস্যের সাথে ছবি তুলে ইভন তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করে।
ঐ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সে এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইসদাইরস্থ কামালের লেপ তোষকের দোকানে হামলা চালায় ইভন ও তার লোকজন। এসময় কামালের ক্যাশে থাকা ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা লুট করে ইভন বাহিনীর লোকজন। এলাকাবাসী আরো জানায়,ইভন জেল হাজতে থাকলেও তাকে শেল্টার দেয়া ব্যক্তিরা এলাকায় বিভিন্ন মানুষ দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে।
জামিনে বেড়িয়ে এসে ইভন পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম করবে বলে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। আজ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাব-১১ এর কমান্ডারের বরাবর ১৫৬ জনের গন স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত স্মারক লিপি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।
এব্যপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.রকিবুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ইভনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরপরই তাকে আটক করা হয়। সেই সাথে তার অপর ৭ সহযোগীকেও আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোনোভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে মেনে নেয়া হবে না। অপরাধী যতোই ক্ষমতাশালী হোকনা কেনো তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


