Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে নাটকীয়তা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২, ০৪:৫১ পিএম

বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে নাটকীয়তা
Swapno

 

বন্দরের নাসিক ২৩নং ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেন মুক্তু (৬২) নামের এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার সাথে কেউ কেউ সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশাকে জড়িত হিসেব উল্লেখ করে একটি ভিডিও ভাইরাল করার চেষ্টা করেছেন। আবার এই ঘটনার মাধ্যমে কেউ কেউ রাজনৈতিক চরিতার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র।

 

ভিডিও বক্তব্যে নিহতের ছেলে-মেয়ে এই ঘটনার সাথে আশার নাম জড়ালেও পরে তারা সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে। তারা স্ব-ইচ্ছায় কোন প্রকার চাপের স্বীকার না হয়ে বন্দর থানায় অপমৃত্যুর অভিযোগ করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

 

রোববার (১৩ মার্চ) রাতে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সামাদ মিয়ার ছেলে মোক্তার হোসেন তার নিজের বাড়িতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পেশায় তিনি পাইপ ফিটিংয়ের মিস্ত্রী। তার পরিবারে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ৪ছেলে ও ২ মেয়ে বর্তমান আছে।

 

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কাজের সুবাধে কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশার দাদা হাজী জালাল উদ্দিনের (জালাল হাজ্বী) সময় কাল থেকেই তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল মোক্তার হোসেন ও তার ভাই আকতার হোসেনের পরিবারের। তাই তাদের পরিবারের যেকোন বিষয়ে তারা আশাদের পরিবারের কাছে পরামর্শ চাইতো।

 

এর মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই মোক্তার হোসেনের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আছিয়া বেগমের পারিবারিক কলহ চলছিল। কাজের সুবাধে আশাদের বাড়িতে আছিয়া বেগমের নিয়মিত যাতায়াত থাকায় তাদের পরিবারের কলহ-বিবাদের ঘটনা আশার কাছে নালিশ করতো। রোববারও মোক্তার হোসেন ও আছিয়া দম্পতির মধ্যে কথাকাটাকাটি ও এক পর্যায়ে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

 

তখন আছিয়া আশার কাউন্সিলরের কার্যালয়ে গিয়ে নালিশ জানালে আশা মোক্তার হোসেনকে ডেকে পাঠায়। মোক্তার হোসেন আসতে না চাইলে তাকে অনেকটা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। কিন্তু সেখানে গেলে তাদের কলহ আরও বেড়ে যায় এবং আশাও তাদের বকাজকা করে বলে জানা গেছে। এসময় আছিয়া বেগম তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থানায় যায় এবং স্বামী মোক্তার হোসেন বাড়ি চলে যায়।

 

এদিকে মোক্তার হোসেন বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভিতর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনা তার স্ত্রী থানা থেকে ফোনের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঘটনাটি জানতে পারে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মোক্তার হোসেনকে তার পরিবারের লোকজন নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে রাতেই এক ভিডিওতে তাদের দুই ভাই-বোনের সামনে তার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান।

 

এই ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাইছার আশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি এই এলাকার যেকোন লোককে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন যে, এটা একটি পারিবারিক কলহের ঘটনা। কিন্তু আমার কিছু প্রতিপক্ষ এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

 

মোক্তার হোসেনকে আমি কাকা বলে সম্বোধন করি। কাকার দ্বিতীয় স্ত্রী আছিয়া বেগমের কোন সন্তান নেই। তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সবসময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। আমার দাদার আমল থেকেই মোক্তার কাকা তার ভাই আক্তার কাকাসহ তাদের পুরো পরিবারই আমাদের পরিবারের সাথে কোন না ভাবে জড়িত থাকতো।

 

রোববারও একটি ঝগড়ার বিষয়ে মহিলা (আছিয়া বেগম) আমার কাছে আসে। আমি বিষয়টি জানার জন্য কাকাকেও খবর পাঠাই। তারা এখানে আসার পর আমি তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করি। কিন্তু মহিলা তার স্বামীর কাছে যাইতে রাজী হয় না। সে সময় সময় কাকার ছেলে মেয়ে এসে কাকাকে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকেই তারা আমাকে ফোন করে জানায় যে কাকা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

 

কিন্তু আমি প্রথমে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেইনি। কারণ এখানে এমন বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি যে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। পরে হৈচৈ শুনে আমি যখন বের হই তখন দেখি ঘটনা সত্যি। এরই মধ্যে এঘটনাটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেউ বলছেন কাউন্সিলর রাগারাগি করছেন, কেউ বলছেন কাউন্সিলরের লোকজন ধাক্কা দিয়েছেন, এমন সব অভিযোগ এনে কাকার ছেলে মেয়েদের মনে একধরণের ক্ষোভ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।

 

তাদের সংসারে মা নাই, আবার হঠাৎ করে বাবা মারা যাওয়ায় তারাও এতিম হয়ে পড়ায় তাদের মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিষয়টাকে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি কাকার পরিবার সম্পর্কে যতটুকু জানি তারা খুবই সহজ-সরল। এখানে কেউ গেম খেলার চেষ্টা করেছে। পরে তারা বুঝতে পেরে আমাকে বলেছে, ভাই আমরা বুঝতে পারিনি, আমরা একটা পরিবার, তাই তারা পরিবারের পক্ষ থেকে তাই অপমৃত্যুর অভিযোগ করেছে।

 

পরে জানতে পারি কাকা এখান থেকে যাওয়ার সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বলেছিলেন, আমি মরে গিয়ে তোকে জেল খাটাবো। তাই সেই সময়ই আছিয়া বেগম থানায় গিয়েছিলেন এবং থানা থেকেই সে মৃত্যুর খবর পেয়েছে।

 

পরে মহিলাকে প্রথমে সেখানে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু ছেলে মেয়ের কোন অভিযোগ নাই, তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একেক জন একেক রকমের কথা বলতেই পারে। তাই আমি মিডিয়ার কাছে অনুরোধ করব, এখানকার আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলে আপনারা যেটা সত্য পাবেন সেটাই সংবাদ করবেন।

 

এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, আমাদের কাছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছি।

 

পুলিশ হিসেবে আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ আছে কি না। তারা জানিয়েছে এই বিষয়ে তাদের কোন অভিযোগ নাই। তারা অপমৃত্যুর একটি অভিযোগ করেছে। তারপরও আমরা তদন্ত করছি, যদি কোন প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাই সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন