শীতলক্ষ্যায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে কাউন্সিলর আনোয়ারের বালু ব্যবসা
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২, ০৫:৩২ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাড়ের ব্রীজের গোড়ায় নদী দখল করে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতা পরিচয়ধারী আনোয়ার ইসলাম। নদী দখল ও ডিএনডি প্রজেক্টের পানি নিস্কাসনের খাল সহ ওয়াপদা এলাকার রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে তার এই বালুর ব্যবসা।
বালুর গদি ও প্রতিনিয়ত বালুর ট্রাকের বালু ওড়ার কারণে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় হয়ে ওয়াপদা সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। নাসিকের কাউন্সিলর হওয়ায় এ বালুর ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও রয়েছে নীরব। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর খুঁটির গোড়ায় এভাবে ড্রেজারের অবৈধ ভাসমান ঘাট বসিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চুনা ব্যবসায়ী আনোয়ার ইসলাম। নিজেকে আওয়ামীলীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় তার বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন না নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ভাবে নদীর সেতুর গোড়ার অংশ দখল করে ড্রেজার বসিয়ে তিনি ডিএনডি খাল সংলগ্ন ওয়াপদা সড়কে গদী বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ বালুর ব্যবসা চালাচ্ছেন। তার এসব দৃশ্যমান অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অদৃশ্যমান কারণে কোনো প্রকারের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
ড্রেজার ও বালুর গদির লোকজন এলাকায় প্রচার করছেন বিআইডব্লিউটিএর লোকজনকে ম্যানেজ করেই তারা ব্যবসা করছেন। এদিকে, এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম গত কয়েক বছর ধরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান ড্রেজার বসিয়ে বাল্কহেড থেকে বালু পাইপের মাধ্যমে ওয়াপদা সড়কের পাশে বালুর গদিতে আনে। সেই বালু ট্রাক দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরাসহ আাশেপাশের এলাকায় বিক্রি করে।
নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম জানায়, এ ব্যাপারে আমার ছেলে জানে, ছেলেরে জিগাইয়েন বলে ফোনটি কেটে দেন। আনোয়ার ইসলামের আওয়ামীলীগে কোন পদ আছে কিনা জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান বলেন, কোথাও কোন পদ-পদবী নাই। একটা উপাদী আছে, চুনা বাট্টির গ্যাস চোর।
আরেকটা নতুন পাইছে ভোট চোর। আমার পোলার ভোট চুরি কইরাইতো তারে বানাইছে। সে অন্যায় ভাবে নদী দখল করেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, আমরা এর আগেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ করেছি। আবারো আমরা উচ্ছেদ অভিযানে নামবো। আমাদের ম্যানেজের খবর ভিত্তিহীন।


