Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ছাত্রীকে উত্যক্ত, সাজানো সালিসের ঘটনায় ক্ষোপ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৩ পিএম

ছাত্রীকে উত্যক্ত, সাজানো সালিসের ঘটনায় ক্ষোপ
Swapno

আড়াইহাজারে এক স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীর পরিবারের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে দেয়নি গ্রাম্য মাদবররা। একপর্যায়ে উচিৎপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সহ কতিপয় মাদবরদের চাপের মুখে শিক্ষার্থীর পরিবারকে বাধ্য করে ।

 

সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে প্রহসনের সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।সেখানে অভিযুক্ত বখাটেকে জুতোপেটা করা হয়েছে। গ্রাম্য মাদবরদের এমন প্রহসনের সালিস বৈঠক নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে


মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, তার মেয়ে উপজেলার আতাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করে আসছিল পার্শ্ববর্তী দাসিরদিয়া গ্রামের বখাটে ইমরান। এক পর্যায়ে গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পিছু নেয় সে।

 

এ সময় তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করে। উত্যক্ত করতে করতে মেয়েটির বাড়ি দাসিরদিয়া পযন্ত চলে আসে বখাটে ও তার সহযোগীরা। এর প্রতিবাদ করলে আমার ভাতিজা আরমানের ওপর হামলা চালায় ইমরান ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় আমি সোমবার দুপুরে তিনজনের নাম উল্লেখ করে পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

 

ছাত্রীর বাবা আরও জানান, অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাদবররা বিচার সালিস করে দেয়ার কথা বলে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে মাদবরদের চাঁপে সোমবার রাতে উচিৎপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে প্রহসনের সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচার রাত ৭টায় শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

 

 সালিস বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উচিৎপুরা ইউনিয়নের সদস্য আলমগীর, সাবেক সদস্য শাহ আলমসহ অন্যান্য স্থাসীয় প্রভাবশালীরা। সালিশে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে বখাটে ছেলের এক আত্মীয় বৈঠকে ইমরানকে অভিযুক্ত করে জুতা পেটা করেন।


এদিকে ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন সালিস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে ও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান। তাছাড়া গ্রামের অন্য মাতাবররা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে। 


 আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, ভুক্তভোগী পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানা থেকে একজন অফিসারকে এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দিতে হয় বিধায় তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা দেয়নি। তিনি আরও জানান, সালিসের বিষয় তাদের জানা নেই। তারপরও বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেন। 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন