Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বক্তাবলী ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না

Icon

প্রদীপ রায়

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২২, ০৪:১০ পিএম

বক্তাবলী ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না
Swapno

# নামজারি প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে নেন
# অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে

 

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসের সেবা নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে দুই রকম সেবা দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতিটি ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টি এলাকার দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ভুক্তভোগী ও জমির মালিকদের থেকে অভিযোগ আছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে দালাল ছাড়া কোন নামজারি হয় না। সেই সাথে খাজনা রশিদ কাটা যায় না।

 

ফাইলে পিছনে টিক মার্ক দিয়ে জানান দেন কোনটা গ্রীন আর কোনটা  রেড। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নামজারি প্রতি ২৫ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বড় জায়গা হলে ওই ফাইল থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ পর্যন্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে। এক শ্রেণির দালাল গোষ্ঠি মিলে পুরো অফিসকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জায়গা জমির মালিকদের জিম্মি করে রেখেছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২ থেকে আড়াই বছর  যাবৎ বক্তাবলি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় তারা নতুন অফিসে কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারি হিসেবে কর্মরত আছেন আতাউর রহমান। তার সহযোগী হিসেবে ফরিদুল ইসলাম।

 

কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে আছেন টুটুল। এই টুটুলের মাধ্যমে স্থানীয় ভেন্ডার এবং দালালরা নামজারি করানোর ফাইল দেন। এখানে বিশাল একটি গোষ্ঠি দালাল গড়ে উঠেছে। এই দালালাদের মাধ্যমে কেউ যদি নামজারি ফাইল জমাদেন তাদের আটকে বিভিন্নভাবে ঘুরানো হয়। এছাড়া দালাদের মাধ্যমে নামজারি ফাইল প্রতি ২৫ হাজার করে টাকা নেন বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা।


এদিকে বক্তাবলির দালালদের মধ্যে রয়েছেন, লক্ষীনগরের শাকিল, মতিন, রাধানগরের আলমগীর, রহিম ভেন্ডার সহ ৬ থেকে ৭ জনের একটি সিন্ডিকেট। তারা এই ভূমি অফিসের ফরিদ এবং টুটুলের মাধ্যমে চুক্তি করে বিভিন্ন অসাধু উপায়ে জায়গার নামজারি করে নেন। টুটুল আবেদন করে এসিল্যান্ডে এসে এই সকল ফাইল নামজারির ক্যাস নম্বর জমা করে যান।

 

কিন্তু যারা তাদের বাদ দিয়ে নামজারি করার ফাইল জমা দেন তাদের ফাইল বাতিল করে দেন। তাদের ছাড়া ফাইল  গেলে তা  যৌক্তিক অযৌক্তিক না দেখে অযথা কিছু অযুহাত দেখিয়ে ফাইল বাতিল করে দেন।

 

এই অফিসের টুটুল, ফরিদ, আতাউর প্রত্যেকেই বন্দর থেকে আসেন। এবং তারা টাকা পয়সা নিয়ে রাত ৯ টা বাজে চলে যান। তাদের হিসেব কেউ যেন বুঝতে না পারে তার জন্য তারা রাতে হিসেব নিকেশ করেন। তবে এই ভূমি অফিসের চিহ্নিত দালাল দিয়ে গেলে সব অপরাধ যেন জায়েজ হয়ে যায়। অর্থাৎ সকল ফাইল তখন প্রস্তাব হয়ে নামজারি হয়ে যায়।


নামজারি করতে এসে সেলিনা নামে (ছদ্ম নাম) এক নারী জানান, আমি আমার পৈত্রিক সুত্রে কিছু জায়গার মালিক হয়েছি। তা নামজারি করতে এসে আমার পরিবারের ওয়ারিশ সনদ, আমার জায়গার সকল কাগজ পত্র নিয়ে নামজারি করার জন্য এসিল্যান্ডে গিয়ে জমা দেই।

 

ওই খান থেকে ক্যাশ নম্বর হয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসে। কিন্তু এখানে শুনানি করতে এসে শুনি আমার এই কাগজ সেই কাগজ নেই। কোন কোন কাগজ লাগবে তারা লিখে দেয়। পরে আবার জমা দেই তখনও বাতিল করে দেয়। তৃতীয় বার এক দালালের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পর আমার শুনানি করতে পর্যন্ত যেতে হয় নাই।


তার পাশে আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অফিসে আমরা সেবা নিতে আসলে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তাদের কাছে যেন আমরা মানুষ না।

 

খাজনা কাটতে এলে অনেকের কাছে বেশি টাকা রেখে দেন। তাদের বিপক্ষে গিয়ে কোন কথা বললে তারা বলে আপনার কাজ হবে না। দুই দিন পরে আসেন। অর্থাৎ দালালের মাধ্যমে গেলে তারা টাকা নিতে পারে তাই দালাল ছাড়া তারা কোন কাজ করতে চান না। সবি কিছু মিলিয়ে বক্তাবলি ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া ফাইল যায় না।


এবিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা আতাউর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন