দালালে সয়লাব এনায়েতনগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২২, ০৪:২৪ পিএম
# কমিশন বাণিজ্য করে ৩ বাড়ির মালিক সালেহা
# তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে : এডিএম
প্রতিনিয়ত সরকারি হাসপাতাল, পরিবার কল্যান কেন্দ্র ও ক্লিনিকগুলোতে দালালদের দেখা যায়। সেই সাথে এই সকল প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্বে থাকেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সরকারি ঔষধ বাহিরে বিক্রির অভিযোগ আছে। তার মাঝে এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার ভিজিটর সালেহার বিরুদ্ধে রোগীদের সরকারি ঔষধ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই সাথে বিভিন্ন দামী ঔষধগুলো বাহির সাপ্লাই করে থাকেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় রোগীরা। এখানকার পরিবার কল্যাণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দালালদের দৌরাত্ম্য বেরেছে বলে জানান এলাকাবাসী। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সালেহার সাথে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল এবং ঔষধ কোম্পানির লোকদের সাথে সখ্যতা রয়েছে। তার কাছে বিভিন্ন গার্মেন্ট এই কর্মরত গর্ভবতী নারীরা চিকিৎসা নিতে আসলে তাদেরকে তিনি সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর পরামর্শ দেন।
এবং কোন ক্লিনিকে গেলে ভালো হবে তাও বলে দেন। এই সুযোগে এনায়েতনগর স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আশপাশের ক্লিনিকগুলো থেকে তিনি বড় অংকের কমিশন বাণিজ্য করে অর্থ পেয়ে থাকেন। এই দালালদের মধ্যে মোস্তাফিজ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের দালাল শামীম অন্যতম। মঙ্গলবার ১২ টা নাগাদ সরেজমিনে কয়েকজন সাংবাদিক গেলে তাদের দেখতে পেয়ে দালাল শামীম পালিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। এই দালালের মাধ্যমে রোগিদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা সহ ডেলিভাড়ি করার কন্টেক করে থাকেন সালেহা। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার ভিজিটর সালেহার কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে তিনি সরকারি ঔষধের পরিবর্তে তার নিজের নামে লেখা পেইডে রোগীদের এক গাদা ঔষধ এবং টেস্ট দিয়ে দেন। যা অনেক গর্ভবতী নারীর পক্ষে ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব না। রোগীর অতিরিক্ত অনেক অর্থ খরচ হয়ে যায়। অনেক আগে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসব করানো হত। কিন্তু এখন আর তা নেই।
ঘনিষ্ট একটি সুত্র জানান, এই সালেহা দাউদকান্দি সোনাকান্দা মাদরাসা থেকে আলিম পাশ করে। তিনি কোন মেডিকেল কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করা এমবিবিএস ডাক্তার নন। তবে এই চাকরী করে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনটি বাড়ি করেন। যার অর্থ উৎস এই কমিশন বাণিজ্য। যা নিয়ে সচেতন মহল পর্যন্ত রীতিমত বিস্মিত হয়েছেন। তবে এইধরণের কিছু ব্যক্তির কারণে ভালো ব্যক্তিদেরও দুর্নাম হয় বলে জানান সচেতন মহল।
এই বিষয়ে এনায়েত নগর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার ভিজিটর সালেহা আক্তার তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু তার সামনেই ঔষধ কোম্পানির লোকজন এবং মোস্তাফিজ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের দালাল শামীকে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে তিনি শামীমকে চিনেনা বলে জানান।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত ফেরদৌস জানান, এবিষয়ে আমি জানিনা। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম বেপারী জানান, তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।


