Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বন্দ্বে বিপাকে জনসাধারণ

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২২, ০৫:২৮ পিএম

দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বন্দ্বে বিপাকে জনসাধারণ
Swapno

স্থানীয় সরকারের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা দিতে বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান নির্বাচিত হন চেয়ারম্যান। থাকে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৩টি করে ওয়ার্ড মিলে ৩জন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য আর প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকে একজন করে নির্বাচিত সদস্য। যাদের মাধ্যমে সরকারের সব রকম সেবা পৌঁছ দেয়া হয়।

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনসাধারণ বিগত ১ বছর ধরে নানাভাবে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। কতিপয় ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে অভ্যন্তরীন দ্বন্দের জেরে এ সংকট তৈরী হয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের।


সূত্র জানায়, ২য় বারের মতো দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার। এর আগে সফলভাবেপরিচালনা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। তবে ২য় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ায় পর স্থানীয়  আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে দূরত্ব তৈরী হয় কতিপয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে।

 

এর পর শুরু হয় বিদ্রোহী মেম্বারদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ করেই ক্ষ্যান্ত হননি। সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন  করে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।এর পাল্টা জবাব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে  চেয়ারম্যান নিজেও তার পরিষদের সামনে জনসভা করেছেন। এভাবে পক্ষে বিপক্ষে মেম্বার সমর্থক ও চেয়ারম্যান সমর্থকদের মাঝে বিরোধ তৈরী হয়।

 

অভিযোগ ওঠে স্থানীয় আবাসনের পক্ষে বালি ফেলা ও আবাসন থেকে সুবিধা গ্রহণ নিয়েই তৈরী হয় দ্বন্দ্ব। এভাবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলা হয় তাদের উভয় পক্ষের প্রতিবাদ সভায়ও। এসবের মাঝে জাকির হোসেন মেম্বারের বিরুদ্ধে মেরিন সিটি নামীয় প্রতিষ্ঠানের হয়ে বালি ফেলার চুক্তিপত্র দেখানো হয় প্রকাশ্যে। সেখানে লেনাদেনার বিষয়ে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান সমর্থকরা।


গত ৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার  দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে এক  মানববন্ধন কর্মসুচীতে  দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার শিরিনা বেগম, নাসরিন বেগম এবং মেম্বার হাছিবুর রহমান, জাকির হোসেন, সফিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন স্বপন, আজিজুল মালুমগং তাদের লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করেন।

 

তারা দাবী করেন, ২য় বার নির্বাচনের পর জয়ী হয়েই চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাষ্টার একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে আসছেন। নির্বাচিত মেম্বারদের কোন প্রকার মুল্যায়ন করছেন না। সরকারী উন্নয়ন মুলক কাজ গুলো মেম্বারদের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজের লোকজন দিয়ে কাজ করাচ্ছে। ফলে জনগনের চাহিদা অনুযায়ী তেমন কোন কাজই মেম্বাররা করতে পারছেনা।


ফলে জমির মালিকের ওয়ারিশগণ ওয়ারিশ সনদ নিতে গেলেও তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয় গুলো মন্ত্রনালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া হয়।

 

তবে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাষ্টার বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল কতিপয় মেম্বারদের দিয়ে নানা  অভিযোগ করায়ে আমাকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিলো।গত ৭/৮ মাস যাবৎ ৭ মেম্বার পরিষদে অভিমান করে আসেননি। তবে এখন তাদের পরিষদ মুখী করতে পেরেছি।

 

এমনকি গত অর্থবছরে মেম্বাররা কাজ নিয়ে কাজের টাকাও উঠিয়ে নিয়েছেন। পরিষদের দুএকজন ছাড়া সব মেম্বাররা এখন পরিষদে নিয়মিত আসছেন। এখনো একটি মহল মেম্বারদের ব্যবহার করে আমাকে হেয় করতে ওঠে পড়ে লেগেছে। দাউদপুরের জনগণ অত্যন্ত সচেতন। কোন ষড়যন্ত্র তারা গ্রহণ করবে না। শক্ত হাতেই সব রকম কুট কৌশল মোকাবেলা করা হবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন, এ দেশের উন্নয়ন। এ উন্নয়নে অংশ নিতেই জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছে। ফলে জনগণের পক্ষে আমার অবস্থান সব সময় থাকবে।  তিনি আরো বলেন, স্থানীয় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। আরো বাজেট প্রয়োজন । এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে দৌঁড়াচ্ছি সেবার মান বাড়াতেই। পরিষদ থেকে সবাই সেবা পাচ্ছে। জনগণকে অনুরোধ করবো। যারা জনগণের জন্য কাজ করে না, করতে নানা টালবাহানা খাটায় তাদের ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।


৪নং ওয়ার্ড মেম্বার হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, জনগণের সেবাদানের জন্যই সব ভুলে পরিষদে যাচ্ছি। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন ইউপি সদস্যদের মুল্যায়ন করবেন।


এদিকে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ মালুম বলেন, আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাননীয় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে একদিনেই এ সমস্যা দূর হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মেম্বাররা চেয়ারম্যানের সাথে মিলে কাজ করছেন।


শিমুলিয়ার বাসিন্দা সাবরিনা বলেন,  মেম্বারদের কাছে গেলে সাধারণ মানুষ সেবা পায় না। তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের  দ্বন্দ্ব থাকায় সাধারন লোকজনকে হয়রানি করেন। তাদের বাড়িতে কেউ গেলে বলেন, পরিষদের কোন কাগজ তাদের হাতে নেই। সব চেয়ারম্যানের হাতে। এভাবে মেম্বার আর চেয়ারম্যানের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে হয়রানী হয় স্থানীয় বাসিন্দারা।


এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া বলেন, দাউদপুরের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বন্দ্ব মেটাতে কাজ করেছি। এখন তারা পরিষদমুখী হচ্ছে।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন