Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

চাঁদ ডাইংয়ে নির্যাতনের পর তিনজনকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২২, ০৭:২৯ পিএম

চাঁদ ডাইংয়ে নির্যাতনের পর তিনজনকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়
Swapno

# ডাইংয়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধ
#পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্ত করছে পুলিশ

 

ফতুল্লার কোতালেরবাগ চাঁদ ডাইংয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ তিন যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ বলছেন, ঘটনাটি সাজানো, কেউবা বলছেন ঘটনাটি ঠিকও হতে পারে।

 

তবে যুগের চিন্তার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন চাঁদ ডাইংকে ঘিরে চলা নেপথ্যের আধিপত্য। জানা গেছে, মূলত দীর্ঘদিন ধরে চাঁদ ডাইং কার দখলে থাকবে তা নিয়ে বাচু আর জনির মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। যদিও এখন পর্যন্ত ডাইংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন জনি ও তার গ্রুপ।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ডাইং নিয়ে বিরোধের ঘটনা এটি। তবে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেছে দেখা গেছে, আটক তিনযুবকের একজন ডাইংয়ের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় চাঁদ ডাইংয়ের ভেতরে থাকা লোকজন তাকে জোরপূর্বক ধরে ভেতরে নিয়ে যায়। এর কয়েকঘন্টা পরে ওই যুবককে অন্য দুই যুবকের সাথে বস্ত্রহীন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

 

পুলিশ বলছে, ৯৯৯ এ ফোন পেয়েই তারা ওই ডাইং ফ্যাক্টরিতে যায়। তিন যুবককে সেখান থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তারা। এসময় ডাইং এর লোকজন পুলিশকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র তুলে দিয়ে বলেন, ওসব দিয়ে ওই যুবকরা তাদের ফ্যাক্টরিতে হামলা চালিয়েছেন। তল্লা বড় মসজিদ এলাকার আম্বর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় যে মামলাটি তাদের করেছেন তাতে শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু,

 

সুলতান মাহমুদ ও মীর সাজুসহ অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামী করা হয়েছে। হাবিব ও তার ছোট ভাই প্রয়াত সোহেল চাঁদ নীট কম্পোজিট মিলের জমির মালিক।হাবিবুর রহমানও তার সরল স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, বাচ্চু কিছুদিন আগে তাদের বিরুদ্ধে বিশ লাখ টাকার একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। যেটি মিথ্যা ছিল।

 

এ জন্য তিনি এদিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, এদিন বাচ্চু চাঁদা দাবি করেননি। তিনি চাঁদ নীটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জনিসহ অন্যদের কাছ থেকে জেনেছেন বাচ্চুসহ অন্যান্যরা ফ্যাক্টরী দখল নিতে এসেছিলেন। তবে, দখলের মামলা না করে মিথ্যা অভিযোগ এনে কেন মামলা দায়ের, এমন প্রশ্নের উত্তরে হাবিব জানিয়েছেন,

 

ক্ষোভের কারণে এমন অভিযোগ তিনি এনেছেন। হাবিবুর রহমান বলেন, “রাত আটটার পর থেকে জনি কল দিচ্ছিলো। আমি খেয়াল করিনি। পরে রাত ১২ টার দিকে বুঝতে পেরে কল ধরি। পরে ফ্যাক্টরিতে গিয়ে জানতে পারি বাচ্চুসহ আরও কয়েকজন ফ্যাক্টরিটি দখল করতে এসেছে। পরে আমি গিয়ে থানায় মামলা করি।”

 

এদিকে কাতালেরবাগ  এলাকায় জায়গা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং চাঁদার দাবী করে টাকা না পেয়ে শাহাদাত হোসেন বাচ্চুসহ তিনজনকে ডেকে হত্যার চেষ্টা করায় জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনি সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই মোল্লা জনি কোতালের বাগ এলাকায় নব্য সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠেছে।

 

 চাঁদ নীট ফ্যাক্টরীর নামে সে এখানে টর্চার সেল গড়ে তুলেছে। তার সাথে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের যোগসাজস রয়েছে। জনির বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। এই বাহিনীর ভয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে না।

 

তবে ইতিমধ্যে এক ঘটনায় তার জনি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় ৩২৩,৩২৪, ৩২৫,৩০৭, ৩৮৫,৩৭৯ ধারায় হত্যার উদ্দেশ্যে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়। কোতালের বাগ এলাকার শাহাদাত হোসেন বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন (৪২) বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।


মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, জনির বাহিনীর অন্যতম সদস্য মো. রাশেদ, চুন্না, মো. মুন্না, আবদুল লতিফের ছেলে মোঃ কামরুল হাসান মাসুম, চান মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, আম্বর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান বাচ্চু সহ ছোট ভাই এবং ভাগিনাকে কামরুল ইসলাম (মাসুম)।  এছাড়াও আরও ১৫ থেকে ২০ অজ্ঞাত উল্লেখ্য করা হয়।


অভিযোগে শাহনাজ পারভীন উল্লেখ্য করেন, গত শুক্রবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কোতালেরবাগের বটতলা জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বাচ্চু, তার ছোটভাই সুলতান মাহমুদ,ভাগিনা মীর আবদুল্লাহ ও বড় ছেলে শাহরিয়ার হোসেন বাপ্পিসহ তিন কবর জিয়ারত করার জন্য যায়। পথিমধ্যে তাদের ডেকে নিয়ে চাঁদ নীট ফ্যাক্টরীতে তাদের আটকে রেখে হত্যা করার জন্য রড দিয়ে মারধর করে জনির সন্ত্রাস বাহিনী।

 

দীর্ঘ দিন যাবৎ এই জনির সাথে আমার স্বামীর সাথে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা জানে শবে বরাতের দিন আমার স্বামী শাহাদাত হোসেন বাচ্চু সহ ৩ থেকে ৪ জন মিলে কবর জিয়ারত করতে যায়। এই কবরে যাওয়ার জন্য চাঁদ নীট ফ্যাক্টরীর গেটই হলো মূল গেট। আর এই সুযোগ নিয়ে বিবাদী জাহিদুল ইসলাম জনি বাহিনী ধরে নিয়ে ফ্যাক্টরীতে আটক করে বেঁধে মারধর করে।

 

এর আগে তাদের বিরুদ্ধে আমার বাচ্চু জমি সংক্রান্ত আদালতে মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ২৬/২২ নং যুগ্ম ২য় দায়রা জজ আদালত। এই মামলা উঠানোর জন্য সন্ত্রাসী জনি বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োাগ করে। আর যদি মামলা না উঠানো হয় তাহলে তার জন্য সন্ত্রাসীরা বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।

 

বাচ্চু মামলা উঠাইয়া নিবে না এবং টাকাও দিবে না বলিয়া অস্বীকার করিলে বাচ্চুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী জনি লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার সময় সেই আঘাত বাচ্চুর বাম পার্শ্বে গালে লেগে রক্তাক্ত হয়। এসময় বাচ্চু মাটিতে লুটাইয়া পড়লে জনির সন্ত্রাস বাহিনীর অন্যতম সদস্য রাশদ, চুন্নু, মুন্না লোহার রড, লোহার পাইপ ও কাঠের ডাসা দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করে।


অভিযোগে আরও উল্লেখ্য করা হয়, আম্বর আলীর ছেলে সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান বাদীর ছোট ভাই সুলতান মাহমুদ (৩৮) কে এলোপাতাড়ী পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা রক্তাক্ত জখম করে। সেই সাথে লোহার রড দিয়ে ডান হাতের কবজিতে আঘাত করে হাড় ভেঙ্গে ফেলে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী কামরুল হাসান মাসুমের হাতে থাকা চাপাতি দ্বারা সুলতানের ডান পায়ের হাঁটুর উপরে কোপ মারিয়া রক্তাক্ত করে।

 

বাচ্চুর সাথে থাকা এক লক্ষ ৬০ হাজার  টাকা এবং ২৫ হাজার টাকা মুল্যের একটি মোবাইল ফোন ফতুল্লার নব্য সন্ত্রাসী জনি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া সুলতান মাহমুদের সাথে থাকা ২ লাখ টাকা সহ ৩০ হাজার টাকার মুল্যের একটি মোবাইল ফোন সন্ত্রাসী চুন্না ছিনাইয়া নিয়া নেয়। শাহনাজ পারভীন জানান,  আমার ভাগিনার পকেটে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকা ও ২৫ হাজার টাকার মুল্যের মোবাইল ফোন কামরুল হাসান মাসুম ছিনিয়ে নিয়ে নেয়।

 

বাচ্চুর ছেলে শাহরিয়ার হোসেন বাপ্পি (২২) ৯৯৯ ফোন করে বিষয়টি জানাইলে তাৎক্ষনিক ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে যায়। তারা জায়গার বিরোধকে চাদাঁবাজির নাটক সাজিয়ে আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।


এলাকাবাসী জানান, সন্ত্রাসী জনি চাঁদ ডাইং ফ্যাক্টরী দখল করে এখানে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে এই জায়গা নিয়ে বাচ্চু আদালতে মামলা করে। আর এই মামলা উঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে জনি তাকে হুমকি ধমকি দেয়।

 

বাচ্চুকে ধরে নেয়ার জন্য তারা আগে থেকে উত পেতে থাকে। যখনি জনির দখলে থাকা ফ্যাক্টরীর সামনে তারা যায় তখন তাদের ধরে নিয়ে মারধর করে। এই জনিবাহিনী বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে আসে তার এই টর্চার সেলে শায়েস্তা করেন। তাই ফতুল্লাবাসী থেকে দাবী উঠেছে এখনই যদি তাদের লাগাম টেনে না ধরা হয় তাহলে দিন দিন এসব অপকর্ম বাড়তে থাকবে।


এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, ‘বাচ্চুর সাথে জনির অনেক দিন যাবৎ বিরোধ চলছে। এ্ই ফ্যাক্টরীর জায়গা নিয়ে ঝামেলা চলছে। জনির দাবী বাচ্চু চাঁদ নীট দখল করতে আসছে আর বাচ্চুর কথা হচ্ছে তার জায়গায় জনি জোর করে দখল করে আছে। দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়েই য় তদন্ত চলছে।

 

এই বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার দিন বাচ্চুর ছেলে ৯৯৯ ফোন করার পর আমরা এই ঘটনা জানতে পেরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। পরে অন্য পক্ষের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখাই। আবার বিপরীত পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেখানকার আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’


এদিকে সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে বাচ্চুরা ফ্যাক্টরীতে ঢুকেছিলেন। পুলিশ আটটা কি সাড়ে আটটার দিকে এসে তাদের নিয়ে যায়। মাঝের তিন থেকে চার ঘণ্টা কী হয়েছিলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে বাচ্চুসহ তিনজন কোথায় ছিলেন! এমন প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। তবে, বাচ্চুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদি হাবিবুর রহমান বলেন, “এতসময় তারা কোথায় ছিলেন জানি না। হয়তো তাদের সাথে মিমাংসা করার চেষ্টা হয়েছিল।”
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন