ফতুল্লায় স্কুলছাত্র হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি, ২ নারীর যাবজ্জীবন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২২, ০৭:৩৭ পিএম
সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্কুলছাত্র ইমন হোসেনকে ৯ টুকরা করে হত্যার ঘটনায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই হত্যা মামলার রায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড ও দুই নারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন ৪ জন। রোববার (২০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক বেগম সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেছেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন: ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে সিরাজ (৪৫), আহম্মদ আলী (৫৫), আমান উল্লাহর ছেলে নাহিদ (২১), আহম্মদের ছেলে সেন্টু মিয়া (২৫)। যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলেন: সিরাজুল ইসলাম সিরাজের স্ত্রী সালমা (৪২) ও আহমেদের স্ত্রী হোসনে আরা (৪৭)। খালাস পেয়েছেন মন্টু মিয়া (২২), আমান উল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (৪০), সিরাজুল ইসলাম সিরাজের ছেলে মামুন (২৪) ও খোরশেদ।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদ বলেন, ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকায় মসজিদের ইমামের বেতন দেয়াকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালে ইমনের বড় ভাই ইকবালের (সিঙ্গাপুর প্রবাসী) সঙ্গে চাচা আহম্মদ আলীর ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ইকবালের লাঠির আঘাতে আহাম্মদ আলীর মাথা ফেটে যায়। এরপর থেকেই তাদের দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই ঘটনার পরে ইকবালকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয় পরিবার। প্রায় দুই বছর পর ইকবালের পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে আহাম্মদ আলী। সে অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৩ জুন ইমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ ৯ টুকরা করে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ২২ জুন বাড়ির অদূরে একটি ক্ষেত থেকে টুকরা করা লাশ উদ্ধার করা হয়।
রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে নিহত ইমনের বাবা কৃষক রমজান মিয়া জানান, রায়ে তারা সন্তুষ্ট। দন্ডিতরা যেন ফাঁসির দন্ড থেকে বেঁচে না যায়। প্রসঙ্গত, নিহত ইমন হোসেন (১৩) সদর উপজেলার ফতুল্লার চরাঞ্চল বক্তাবলীর কানাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে চর রাধানগর এলাকার ইসমাইল হোসেন ওরফে রমজান মিয়ার ছেলে।


