Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

জনি-মাসুম গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে বাচ্চুর পরিবার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২২, ০৪:৩৬ পিএম

জনি-মাসুম গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে বাচ্চুর পরিবার
Swapno

# তাদের উপর প্রভাবশালী পরিবারের আশীর্বাদ আছে
#তিতাস কর্মকর্তাদের পেটানোর অভিযোগ রয়েছে
# মিশন বাস্তবায়নে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বাজেট
# আসমীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান আছে: এএসপি নাজমুল

 

ফতুল্লার মূর্তিমান আতঙ্কের নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে সন্ত্রাসী মোল্লা জনি। তার রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। যাদের দিয়ে সে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেরায়। এই অপকর্মের পিছনে তিনি বিশাল টাকা খরচ করে বলে জানান ওই এলাকার বিশ্বস্ত একটি সুত্র। ইতিমধ্যে জনি ফতুল্লায় নব্য সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

 

গত কয়েকদিন আগে এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনি বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। একই সাথে জনি বাহিনীর অপকর্ম বেরিয়ে আসতে শুরু হয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ জনির বাহিনীর শেল্টারে মূল হোতা কামরুল হাসান মাসুমের মামা শুশুর খালেদ হায়দার খান কাজল। মাসুম হলেন এক প্রভাবশালী নারী আইনজীর স্বামী।

 

কাজল স্থানীয় সাংসদ উত্তর বলয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তাকে নারায়ণগঞ্জের মুকুটহীন বাদশাও বলে থাকেন অনেকে। তাঁর সাহসেই জনিবাহীনি একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। বাচ্চুদের হত্যার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মিশন নিয়ে নামেন এই সন্ত্রাসী জনি বাহিনী। তবে সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে এই জনি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশাসন জোরালোভাবে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের অপকর্ম বেড়ে চলছে। এইভাবে চলতে থাকলে তারা খুন করতে দিদ্ধা বোধ করবে না।  


স্থানীয়দের সাথে কথা হলে এলাকাবাসী জানান, জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনি চাদ নীট কম্পোজিট  ৬ বছরের চুক্তিতে হাবিবুর রহমান থেকে ভাড়া নেন। কিন্তু তার আগে এই হাবিবুর রহমান শাহনাজ পারভীনকে ১০ বছরের চুক্তিতে এই ফ্যাক্টরী ভাড়া দেন। এই ফ্যাক্টরীর সাথেই শাহাদাত বাচ্চু ক্রয় সুত্রে ৭১ শতাংশ জায়গার মালিক হয়ে আছেন।

 

ভূমিদস্য জনি এই চাদঁনীট কম্পোজিট ভাড়া নেয়ার নাম করে তাদের জায়গাও দখল করে আছে বলে জানান বাচ্চুর ছেলে বাপ্পি। এছাড়া স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি যুগের চিন্তার প্রতিবেদককে জানান, জনি ফতুল্লা এলাকায় নতুনভাবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন জনের জায়গা দখল, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। সেই সাথে ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের ধরে এনে তাদের থেকে চাদাঁবাজি করে বেড়ায়। কিন্তু শহরের প্রভাবশালী পরিবারের সাথে তাদের যোগসাজস থাকায় জনির বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরে ৮ এপ্রিল শিবু মার্কেট এলাকার আব্দুস সামাদের পুত্র কামাল হোসেনকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙ্গে দেয় এই জনি বাহিনী। তখন ওই ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় জনি, মাসুমসহ বেশ কয়েজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে আহত কামাল হোসেনের বাড়িতে জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনির সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। একই সাথে কামালকে তার টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করার পর মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন। পরে মৃত্যুর ভয়ে মামলা তুলে নেন কামাল। তার অপকর্ম সিনেমার রূপকাহিনীকেও হার মানায়। তার অপকর্মের যেন শেষ নেই।


কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির শেল্টারে চাদঁ নীট কম্পোজিট ফ্যাক্টরীকে তার টর্চার সেল হিসেবে তৈরী করেন। তার কথার বাইরে গেলে তাকে ধরে এনে টর্চার সেলে মারধর করা হয়। এই ফ্যাক্টরীতে বসে জনি বাহিনী মাদককারবারি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির যোগসাজসে জনি এই অপকর্ম করে যাচ্ছে।

 

এছাড়াও ২ কোটি টাকা বকেয়ার দায়ে চাঁদ নীট কম্পোজিট ইউনিট টু এর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে ওই ফ্যাক্টরীর মালিক জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনির সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হয়েছিলো তিতাসের কর্মকর্তারা। তখন জনির বিরুদ্ধেও সংবাদ সম্মেলন হয়।
তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানাযায়, জনির অপকর্মের সাথে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ইলিয়াস হোসেন, জুয়েল,

 

খোকন, প্রধানসহ ফতুল্লার কয়েক ডজন গণমাধ্যম ব্যক্তি জরিত রয়েছে। যাদেরকে বিভিন্ন সময় অর্থ দিয়ে চালিয়ে থাকেন বিভিন্ন অপকর্মের মূল হোতা জনি। জনি হাতিয়ার হিবেসে কামরুল হাসান মাসুমসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে। এই মাসুম হলেন এক প্রভাবশালী নারী আইনজীবির স্বামী। যার সাথে এই শহরের প্রভাবশালি পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে।  


এদিকে শুক্রবার এই জনির বাহিনীর বিরুদ্ধে শাহাদাত হোসেন বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় চাদাঁবাজি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ এখনো সন্ত্রাসী জনি বাহিনীকে গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাচ্চুর পরিবার আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছে বলে জানান বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন। সেই সাথে বাচ্চুর ছেলে মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে জানান তার ছেলে বাপ্পি।  


বাচ্চুর ছেলে বাপ্পি জানান, আমার পিতার নামে বাংলাদেশের কোথাও চাদাঁবাজি মামলা দূরের থাক কোন থানায় অভিযোগও নেই। এই সন্ত্রাসী জনি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমার পিতা শাহাদাত হোসেন বাচ্চু, আমার মামা, চাচার নামে মামলা দেয়। পুলিশ আমার পিতাকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। আর এতে আমাদের এখন আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, সপ্তাহ খানিক আগে আমার পিতা জনিকে কোর্টের মাধ্যমে একটি নোটিশ পাঠান। এই নোটিশ পেয়ে তারা আমাকে সহ আমার পিতা বাচ্চু, মামা, চাচাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। শবে বরাতের তারা সেই সুযোগ নিয়ে আমাদের ধরে নিয়ে মারধর করে। তাদের অত্যাচারে এখানকার মানুষ ভয়ে দিন কাটায়।


এ বিষয়ে বাচ্চুর স্ত্রী শাহানজ পারভীন জানান, চাঁদ নীট কম্পোজিটের মালিক সোহেল নামে এক ব্যক্তি। সোহেলের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিলেও মোল্লা জনি ধীরে ধীরে ফ্যাক্টরির চারদিকের জমি দখল করতে থাকে। আমার স্বামী বাচ্চুসহ অনেকের জায়গা দখল করেছে।

 

এনিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে শুক্রবার করব জিয়ারতে যাওয়ার পথে তাদের ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন চালিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় আমার স্বামীকে। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করব সর্ম্পূণ ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। আমরা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার। তাদের কাছে আমাদের চাদাঁ চাওয়ার কোন প্রশ্ন উঠে না।  


অন্যদিকে ফতুল্লা থানা সুত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৬ তারিখে ফতুল্লা মডেল থানায় শাহাদাত হোসেন বাচ্চু  জনি গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারী মোল্লা জনিগংদের বিরুদ্ধে একই ব্যক্তি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করেন। যার জিডি নং ৫৪০। এর আগে গত ১০ জানুয়ারী জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম জনি গংদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে একটি ঘোষণামুলক দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন মো.শাহাদাত হোসেন বাচ্চু।

 

যার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৬/২২। এবং ২৪ জানুয়ারী একই ব্যক্তি বাদী হয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি অস্থায়ী অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন যার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৬/২২ইং। এরই জের ধরে শুক্রবার বাচ্চুসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর ুপিলশের হাতে তুলে দেয় বলে বাচ্চুর পরিবারের দাবী। ফতুল্লা সহ সচেতন মহল থেকে দাবী উঠেছে এই জনিবাহনীর বিরুদ্ধে যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে তাদের অপরাধ আরও বাড়তে থাকবে। আর এতে করে মার্ডারও হতে পারে।


জনি ওরফে মোল্লা জনির মোবাইল নাম্বারে (০১৯৫৪***৯০) একাধীকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।শাহনাজ পারভীনের মামলা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল নাজমুল হাসান বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান চলমান আছে। একই সাথে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাকিদ দেয়া হয়েছে। আশা করি আসামীর্ াদ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে যাবে।


এবিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলা হয়েছে আমরা এডিশনাল এসপি নাজমুল হাসানকে  গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। তার সাথে যোগাযোগ করেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন