Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

চাঁদ নীট ফ্যাক্টরী জনি-মাসুমের টর্চার সেল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৪০ পিএম

চাঁদ নীট ফ্যাক্টরী জনি-মাসুমের টর্চার সেল
Swapno

# কথার অবাধ্য হলেই টর্চার সেলে এনে মারধর
 # নিয়মিত জুয়ার আসর বসে

 

ফতুল্লার  কোতালেরবাগ এলাকার জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনির অপকর্ম নিয়ে ফতুল্লার মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। তার অপকর্ম নিয়ে দৈনিক যুগের চিন্তা সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তা ফতুল্লা পেরিয়ে সারা নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ফতুল্লার নব্য এই সন্ত্রাসী জনির কিশোর গ্যাং বাহিনী পর্যন্ত আছে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

সেই সাথে এই বাহিনী পরিচালনার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ পর্যন্ত বিনিয়োগ করে থাকেন। তার এই বিনিয়োগের অর্থের উৎস হলো চাদাঁবাজি, মাদককারবার, জুয়ার আসরের টাকা। এছাড়াও তার রয়েছে ফতুল্লা জুট সেক্টরে এক বিশাল প্রভাব। চাঁদ নীট কম্পোজিট ফ্যাক্টরীতে বসে সকল অপকর্মের নীল নকশা তৈরী করেন জনি বাহনী। যার জলন্ত প্রমাণ গত শুক্রবারের শবে বরাতে ঘটনা।

 

এলাকাবাসী জানান জনি এই ফ্যাক্টরীকে তার টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করেন। এখানে বসে জনি প্রভাশালী এক নারী আইনজীবির স্বামী কামরুল হাসান মাসুমের সহযোগিতায় বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে চাঁদাবাজি করে বেড়ান। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করে তাদেরকে ধরে এনে এই টর্চার সেলে মারধর করা হয়। অর্থাৎ তাদের কথার অবাধ্য হলেই উত্তম মাধ্যম খেতে হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লা চাঁদ নীট কম্পোজিট ফ্যাক্টরীতে মাসুম, জনি, ইলিয়াস, জুয়েলসহ বড় ব্যবসায়ীরা এসে জুয়ার আসর বসান।  সেই সাথে এখানে বসে মদ, বিয়ার, মাদককারবার করে থাকেন। তারা এই শহরের প্রভাবশালী পরিবারের ছত্র ছায়ায় থেকে এই অপকর্ম করে থাকেন। সেই সাথে প্রভাবশালী পরিবারের আশীর্বাদ তাদের উপর থাকায় এই সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু মাসুম-জনি বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

 

কেউ মুখ খোলার সাহস দেখালে তার অবস্থা বাচ্চুদের মত হয়। প্রশাসনের ব্যক্তিদের সাথেও জনির সখ্যতা রয়েছে। আর এজন্য তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন ফতুল্লাবাসী তথা সচেতন মহল। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন বাচ্চু পক্ষের লোক গ্রেপ্তার হলেও জনি বাহিনীর কেউ কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এখানে পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা নাকি দূর্বলতা তা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলছেন।

 

নাকি তাদের ইচ্ছার অভাব রয়েছে এই আসামীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে। যখন জনি এবং তার সহযোগী মাসুম গ্রেপ্তার হবে তখনই এই সকল প্রশ্নের উত্তরের জট খুলে যাবে।

 

এদিকে গত শুক্রবারের ঘটনা বর্ণনা দিতে প্রত্যক্ষদর্শী শাহাদাত হোসেন বাচ্চুর ছেলে বাপ্পি জানান, সন্ত্রাসী জনি বাহিনী আমার আব্বুকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখে। যখন আমরা শুক্রবার শবেবরাতের দিন আমার দাদা-দাদী সহ পূর্ব পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করতে চাই তখন এই জনিবাহিনী আমার পিতা শাহাদাত হোসেন বাচ্চু, আমার মামা, চাচাকে ধরে নিয়ে তার টর্চার সেলে আটকে রেখে রড দিয়ে আঘাত করে।

 

এই রডের আঘাতে আমার বাবা আহত হয়ে পরে। কেননা তাদের সাথে চাঁদ নীট ফ্যাক্টরী  এবং এখানকার জায়গা নিয়ে দীর্ঘ দন যাবৎ বিরোধ চলছে। যা চলমান আছে। সপ্তাহ খানিক আগে আদালত থেকে তাদের কাছে একটি নোটিশ যায়। আর এজন্য তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। তবে তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমার বাবাকে মেরে ফেলার জন্য। কিন্তু আমি কোন রকমে দৌঁড়ে এসে ৯৯৯ এন ফোন করলে পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।


এদিকে গত বছরে ৮ এপ্রিল শিবু মার্কেট এলাকার আব্দুস সামাদের পুত্র কামাল হোসেনকে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেয় এই জনি বাহিনী। তখন ওই ঘটনায় ১৫ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় জনি, মাসুমসহ বেশ কয়েজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে আহত কামাল হোসেনের বাড়িতে জাহিদুল ইসলাম জনি ওরফে মোল্লা জনির সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়।

 

একই সাথে কামালকে তার টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করার পর মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন। পরে মৃত্যুর ভয়ে মামলা তুলে নেন কামাল। তার অপকর্ম সিনেমার রূপকাহিনীকেও হার মানায়। তার অপকর্মের যেন শেষ নেই। কিছু প্রভাব শালি ব্যক্তির শেল্টারে চাঁদ নীট কম্পোজিট ফ্যাক্টরীকে তারা টর্চার সেল হিসেবে তৈরী করেছেন। তার টর্চার সেলের বিষয় নিয়েও মানুষ এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। এই জনিবাহনীর অত্যাচারে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ওই এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে। তারা যদি এবার গ্রেপ্তার হয় তাহলে হয়তো তাদের অপকর্ম এবার কিছুটা কমতে পারে।


এ বিষয়ে বাচ্চুর স্ত্রী শাহানজ পারভীন জানান, চাঁদ নীট কম্পোজিটের মালিক সোহেল নামে এক ব্যক্তি। সোহেলের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নেন মোল্লা জনি। পরে ধীরে ধীরে ফ্যাক্টরির চারদিকের জমি দখল করতে থাকে তিনি। জনি আমার স্বামী বাচ্চুসহ অনেকের জায়গা দখল করেছে। আমরা তাদের অত্যচারে ঘর থেকে পর্যন্ত বের হতে ভয়া পাচ্ছি। কেননা তারা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাদের মেরে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমরা ন্যায়ের পক্ষে সঠিক বিচার পাবো।


উল্লেখ্য শুক্রবারের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় জনি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানায় ৩২৩,৩২৪, ৩২৫,৩০৭, ৩৮৫,৩৭৯ ধারায় পেনাল কোড ১৮৬০ এ হত্যার উদ্দেশ্যে মামলা হয়।


শাহনাজ পারভীনের মামলা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল নাজমুল হাসান বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান চলমান আছে। একই সাথে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে। আশা করি আসামীরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে যাবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন