Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কাঁচপুর সেতুর গোড়ায় শীতলক্ষ্যাতে অবৈধ বালুর গদি

Icon

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২, ০৬:৩৭ পিএম

কাঁচপুর সেতুর গোড়ায় শীতলক্ষ্যাতে অবৈধ বালুর গদি
Swapno

সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে প্রথম ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর খুঁটির গোড়ায় অবৈধভাবে বালুর গদি এবং নদীর পাড়ে ঘাট তৈরী করে ব্যবসা শুরু করেছে একটি বালু সিন্ডিকেট। ফলে বিভিন্ন বালুবাহী বাল্কহেড শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর সেতুর গোড়ায় নোঙর করে বালু আনলোড করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই পিলারের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

এছাড়া নদীর পাড়ের সেতুর পিলারের গোড়া থেকে বালু সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ভারী ড্রাম ট্রাক যাতায়াত করায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো। তবে, এ ব্যাপারে দায় সারা ভাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।


জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ৪নং ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনী খালপাড় এলাকার লাল মিয়া সর্দারের ছেলে আনোয়ার হোসেন চান মিয়া নেতৃত্বে একই এলাকার রব মিযার ছেলে আ: মতিন, আটি হাউজিং এলাকার শফিক (বাল্কহেড মালিক) সহ একটি সিন্ডিকেট শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে প্রথম ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর খুঁটির গোড়ায় ‘নিউ জে.কে ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্ট’ নামক একটি বালুর গদি এবং নদীর পাড়ে ঘাট নির্মান করে কিছুদিন যাবৎ এই ব্যবসা শুরু করেছে।

 

সরেজমিনে নদীর পাড় সেতুর গোড়ায় গিয়ে দেখা যায় গদির ঘাটে নোঙর করে রাখা দু’টি বাল্কহেড থেকে লেবাররা বালু আনলোড করে সেতুর নিচে আনলোড করছে। আর সেতুর গোড়ায় বিলারের নিরাপত্তা বেষ্টুনি ভেঙ্গে রাস্তা করে ভারী ট্রাক আসা যাওয়া করছে এবং ঠিক পিলারের গোড়ায় একটি টংঘর তৈরী করে সেখান থেকে বসে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বালু সিন্ডিকেট। এসময় মো: মোশারফ নামে সড়ক ও জনপথের নিয়োজিত একজন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।


কারা এবং কি ভাবে এই বালুর ব্যবসা করছে জানতে চাইলে ওই আনসার সদস্য জানান, পাশের এলাকার চাঁন মিয়া নামে এক ব্যক্তি এ ব্যবসা করছে। আমার দায়িত্ব ব্রিজের দেখ ভাল করা। কি ভাবে তারা এখানে ব্যবসা করছে আমার জানা নেই। তবে, মনে হচ্ছে কমপ্রোমাইজ করেই তারা এ ব্যবসা

 

এ বিষয়ে জানতে ‘নিউ জে.কে ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্ট’র মালিক মো: আনোয়ার হোসেন চান মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও সে তা রিসিভ করেনি।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল জানায়, শুধু ব্রিজটি আমাদের, ব্রিজের নিচের জায়গাটি আমাদের নয়। এটি বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বে রয়েছে। শুধু সেতুর পিলারের রক্ষনা-বেক্ষনে আমাদের লোক রয়েছে। তবে, কারা এখানে বালুর ব্যবসা করছে আমাদের জানা নেই।

 

আমরা বিগত দিনে এসব উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করেছি, প্রয়োজন হলে আবারো নোটিশ করা হবে। আপনাদের জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে কথা বলেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।

 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। চার লেনের নতুন কাঁচপুর দ্বিতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটির করা। সেতুটির ঠিকাদার যৌথভাে ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাই এবং ৫টি পিলারের ওপর স্টিল গার্ডারের। ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 

আর সেতুর উপ-ঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের ৭৫ ভাগের যোগান দেয় জাইকা। আর ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় বাংলাদেশ সরকারের। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৩০ মিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ১ মিটার। ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সেতুর উদ্বোধন করেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন