ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সিদ্ধিরগঞ্জের ‘হাটখোলা বাজার’
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২, ০৭:৩০ পিএম
ঐতিহ্য ধরে রেখেছে সিদ্ধিরগঞ্জের ‘হাটখোলা বাজার’। পাকিস্তান আমলে (প্রায় ৫৫ বছর পূর্বের বাজার) বাজারটি চালু হলেও ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো চলছে বাজারটি । সিদ্ধিরগঞ্জের বাজারঘাট ও সিদ্দিকিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এ বাজারটি সাপ্তাহিক বাজার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার সাপ্তাহিক এ বাজারটি বসে।
বিকেল ৩ টার পর থেকে বাজারটি শুরু হয় এবং শেষ হয় মাগরিবের আজানের পর। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সবধরনের খাবার পাওয়া যায় এ বাজারে। যেমনঃ চাল, ডাল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ফল ইত্যাদি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাজার করার জন্য এখানে আসে। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি, মৌচাক, আদমজী, সানারপাড়, গোদনাইল স্ট্যান্ডসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ বাজারের জন্য এখানে বেশি আসে।
জানা যায়, পাকিস্তান আমলে সিদ্ধিরগঞ্জের সকল মানুষ এখানে বাজার করতে আসতেন। পাকিস্তান আমলে বাজারটি বেশ বড় থাকলেও এখন আকারে ছোট হয়ে গেছে। বাজারটি ঐতিহ্য ধরে রাখার কারণ ঘনবসতিপূর্ণ সিদ্ধিরগঞ্জে এখন বিভিন্ন স্থানে বাজার বসলেও 'হাটখোলা বাজার' এখনো নিয়ম করে চলছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের এ হাটখোলা বাজারের অনেক স্মৃতি আছে যা এখনো মানুষ বলে বেড়ায়। অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতো আমাদের এ বাজারে বাজার করতে। এখন আর আগের মতো আসে না।
একই এলাকার বাসিন্দা নশু মিয়া জানান, বাজারের আকার ছোট হলেও বাজারটি এখনো ব্যাপক পরিচিত। তাছাড়া যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন, তাদের বেশিরভাগই এখনো হাটখোলা বাজারে আসেন।
হাটখোলা বাজারের ব্যবসায়ী আসমা নামক এক নারী জানান, 'আমাগো এলাকার গর্ব এ বাজার। আমাগো এ বাজারে অনেক মানুষ আগে বাজার করতে আসতো। সেই ছোটবেলা থেকে এ বাজারে আমরা ব্যবসা করি। আগে অনেক বেচাকেনা হইতো এখন জায়গায় জায়গায় বাজার আছে তাই আমাগো বাজারে মানুষ তেমন আহে না'।
হাটখোলা বাজারটির একটি সিদ্ধিরগঞ্জ সরকারি হাটখোলা বাজার ১৫ বিশিষ্ট সমিতি রয়েছে। সমিতিটির সভাপতি হাজী আশেক মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ লতিফ এবং ক্যাশিয়ার জয়নাল মাষ্টার।
ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটির সভাপতি হাজী আশেক মাহমুদ বলেন, এ বাজারের অনেক ঐতিহ্য ছিল যা এখন বললে গল্প মনে হবে। একসময় পুরো সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ এ বাজারে বাজার করতে আসতো। এখন বৈধ -অবৈধ অনেক বাজার থাকায় আমাদের এ বাজারের কদর কমে গেছে। শুধু মাছ আর চালের জন্য এ বাজারে মানুষ আসে।
২০০ অধিক দোকান রয়েছে আমাদের এ বাজারে। ২০০৮ সাল থেকে আমি সভাপতির পদ পালন করে আসছি এ বাজারের । এ বাজার নিয়ে আমি ৩ বার আমাদের মেয়র আপার সাথে কথা বলেছি এবং আমাদের ওয়ার্ড কমিশনারের সাথেও বসেছি বহুবার। আমরা এখনো আশাবাদী আমাদের এ হাটখোলা বাজার পূর্ণরুপে ফিরে আসবে।


