আমি কোন উশৃঙ্খল কর্মযজ্ঞে জড়িত নই: সোহেল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২২, ০৮:৩৫ পিএম
চলতি মাসের ১০ তারিখ ফতুল্লার লালখাস্থ খানকা শীতলক্ষ্যার মাঠ এলাকায় নিরীহ যুবকদের কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠে ওই এলাকার কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বিবাদী পক্ষ থেকেও মামলা দায়ের করে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ১৩ মার্চ ফতুল্লা মডেল থানা গেইটের সামনে থেকে সোহেল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিনে বের হয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে নামের পূর্বে সন্ত্রাসী লেখার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
গতকাল সোহেল জানান, আমার এলাকায় নিরীহ শ্রমিকদের উপর নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। তাদেরকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে তাদেরকে নিয়ে আমি ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করাই এবং ফতুল্লা থানায় নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এর পরেরদিন অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে থানায় যাই। আচমকা আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বলা হয়, আমিও মামলার আসামী।
অথচ, আমি এই মারামারির সাথে কোনভাবেই জড়িত ছিলাম না। আর যদি জড়িতই থাকতাম তাহলে সৎ সাহস নিয়ে কেনো সেদিন আমি থানায় গিয়েছিলাম। মারামারি কিংবা উশৃঙ্খল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকলে অবশ্যই কেউ থানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবে না! উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিবাদী পক্ষ থেকে আমাকে জড়িয়ে মামলার আসামী করেছে।
সোহেল আরও জানান, এতেই তারা ক্ষ্রান্ত হননি। মামলার আসামী হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছি ঠিক আছে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে দেখলাম একটা অনলাইনে লেখা হয়েছে, ‘ফতুল্লায় সন্ত্রাসী সোহেল গ্রেপ্তার’! নামের আগে সন্ত্রাসী জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ, আমি কোন ধরনের মারামারি কিংবা উশৃঙ্খল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই। আমার মনে হয়, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, ১০ মার্চ ফতুল্লার লালখাস্থ খানকা শীতলক্ষ্যার মাঠ এলাকায় নিরীহ যুবকদের কুপিয়েছে কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা। এতে গুরুত্বর আহত হয়ে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আহত অটোচালক ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় এরইমধ্যে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী টগর মিয়ার পুত্র রাসেল, রতন (৩৩), অনিক (২৪), পিংকু (২৩), নুরু মিয়ার পুত্র নাঈম (২২), হৃদয় (২৫), শান্ত ( ২৪), তুষার (২১) সহ আরও বেশ ক’জন লালখা খানকা শীতলক্ষ্যার মাঠ এলাকায় প্রতিনিয়তই উশৃঙ্খল কর্মকান্ড করে বেড়ায়। তাদের সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং গ্রুপের হাতে হরহামেশাই মারধরের শিকার হন সাধারণ মানুষ।


