মদনপুর-মদনগঞ্জ সংযোগ সড়কটি এখন মরণ ফাঁদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ০৩:০০ পিএম
# পুরো ১২ কি.মি. সড়ক জুড়েই 'টিউমার' খানাখন্দে বেহালদশা
# এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকদের ক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর - মদনগঞ্জ সংযোগ সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। মদনগঞ্জ- মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটারের বেশিরভাগ জায়গায় একপাশ জুড়ে গর্ত, আরেক পাশ উঁচু। পুরো সড়ক জুড়েই উঁচু- নিচু 'টিউমার' দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য খানাখন্দের বেহালদশা সৃষ্টি হয়েছে। আবার বিভিন্নস্থানে ধসে গেছে সড়কের পাড়। পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হওয়া উঁচু- নিচু 'টিউমার' ও গর্ত পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যানবাহন। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। কিছুদিন পর পর উঁচু- নিচু জায়গা কেটে সমান করার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ, আর ইটের খোয়া দিয়ে ভরাট করা হয় গর্ত। প্রায়ই ঘটে ছোট বড় দুর্ঘটনা। ব্যস্ত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা।
জানাগেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর থেকে মদনগঞ্জ সড়কটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যস্ততম এ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল। তবে ব্যস্ততম এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সব মিলিয়ে বন্দরের মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীসহ সিমেন্ট কোম্পানির গাড়ি ও শত শত ট্রাক চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে এ রাস্তার সংযোগ থাকায় অন্যান্য রাস্তার তুলনায় এ রাস্তায় ভারী যানবাহন চলে। রাস্তা বেহাল অবস্থা থাকার কারণে পণ্যবাহী ট্রাক সময় মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে না।
সেই সঙ্গে অফিসগামী কর্মব্যস্ত মানুষকে প্রতিদিনই পড়তে হয় তীব্র যানজটে। বছরে এ রাস্তায় মেরামতের কাজ হলেও তা সঠিকভাবে না করায় এক মাসের মধ্যেই আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়ে যায় ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সড়কটি দিয়ে তিনটি সিমেন্ট কারখানার ভারী ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে সড়কের অনেকস্থানে কার্পেটিং উঠে উঁচু- নিচু টিউমার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা এ অবস্থাকে ‘সড়কের টিউমার’ বলেন। কোনও কোনও স্থানে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। এছাড়া বিভিন্নস্থানে ধসে গেছে সড়কের পাড়। সড়কটিতে শুধু বড় যানবাহন নয়, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল ও ভটভটির মতো যানবাহনও চলাচল করে থাকে। সড়কের সৃষ্টি হওয়া গর্তে ও টিউমারে ধাক্কা লেগে মাঝে মধ্যে এসব যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কখনো রিকশা উল্টে, কখনো ভ্যান উল্টে আহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সড়কের এসব মরণফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। ভেঙে যাচ্ছে যানবাহনগুলোর মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক - দুই মাস পর পর নামে মাত্র সড়কের সংস্কার কাজ হয়। বড় বড় গর্ত ইট দিয়ে মেরামত করা হয়। কিন্তু এই সড়কে সবচেয়ে বেশী চলাচল করে সিমেন্ট কারখানার বড় বড় গাড়ি। এসকল সিমেন্ট কারখানার গাড়ি গুলো অতিরিক্ত টনের টনের মালামাল নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কের কার্পেটিং থেতলে গিয়ে ফুঁলে ফুঁলে ছোট বড় টিউমার ও গর্ত সৃষ্টি হয়। এর ফলে মদনপুর- মদনগঞ্জ সড়ক সংস্কারের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার নষ্ট হয়ে যায়।
তারা আরও বলেন, সড়কের টিউমারের সঙ্গে ধাক্কা ও গর্তে পড়ে যানবাহনে প্রচুর ঝাঁকুনি হয়। চলন্ত গাড়ীর চাকা গর্তের মধ্যে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউবের সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের টিউমারের কারণে অনেক মোটরসাইকেল থেকে চালক ছিটকে পড়েন। এ অবস্থায় সামনের গাড়ি অতিক্রম করা সম্ভব হয় না। একটু অসতর্ক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকে। তাই সড়কে অনেক ধীর গতিতে চলাচল করতে হয়।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সওজ ও সড়ক উপ- বিভাগ ভিটিকান্দি উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন বলেন, গত জুনে মদনপুর- মদনগঞ্জ সড়কের ডাবল বিএসপি কার্পেটিং কাজসহ সংস্কারের জন্য এক বছরের জন্য ঠিকাদার কোম্পনীকে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত এই সড়কের সংস্কার কাজ করবে।
এই সড়ক দিয়ে তিনটি সিমেন্ট কারখানার অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ভারী ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে থেতলে গিয়ে উঁচু-নিচু টিউমার ও গর্ত সৃষ্টি হতে পারে। আর অতি বৃষ্টির কারনে সড়কে পানি জমে রাস্তার পাড় ভেঙ্গে পড়ে।
সড়কের উঁচু- নিচু টিউমার ও গর্ত মেরামত চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মদনপুর- মদনগঞ্জ সড়কটি একনে ২৭’শ কোটি টাকা পাশ হয়েছে। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর জন্য ৩৬ফুট চড়া হবে এই সড়ক। সড়কটি মদনপুর থেকে শীতলক্ষ্যা সেতুর ঐপার হয়ে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত হবে।


