Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের পাশের ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

Icon

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের পাশের ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
Swapno

সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ের দক্ষিন পাশের ফুটপাতে এবং কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত একটি সার্ভিস সড়ক অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা কমপক্ষে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ।

 

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ উচ্ছেদ ভাবে শিমরাইল মোড়ের  রেন্ট-এ কার স্টান্ড থেকে আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।  এদিকে, উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর ফুটপাতের নিয়ন্ত্রন নিতে শতাধিক সন্ত্রাসী মহড়া দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ফুটপাত ব্যবসায়ীদেরকে দোকান বসাতে হলে কাউন্সিলর বাদলের সাথে যোগাযোগ করতে হবে বলে শাসিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

 

ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুটপাথ, মার্কেটের সামনের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে জনচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিলো দখলকারীরা। তাই যান ও জনচলাচল নির্বিঘ্ন করতেই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

 

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট না থাকলে যানজট সৃষ্টি হবে না। সে লক্ষ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) শিমরাইল মোড়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা তিনশত দোকানসহ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলম বলেন, মহাসড়কে কোন ধরণের অবৈধ দোকানপাট বসানো যাবে না।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান বলেন, আমরা অবৈধ দোকানপাট মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাকিং করা করেছি। যারা মহাসড়কে অবৈধ ভাবে দখল করে ব্যবসা করছেন তারা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করে আহ্বান করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন,  নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন শামীম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলম, উপ-সহকারী  প্রকৌশলী মনির হোসেন ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ের দু’পাশে সরকারি জমি দখল করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ চক্র বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তুলে ভাড়া বাণিজ্য করে আসছিল। এসব দোকানপাট থেকে দৈনিক ভাড়া ২শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়েছে অবৈধ দখলকারীরা।

 

এসব ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজীর সময় হাতে-নাতে র‌্যাব একাধিক বার চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করলেও থেমে নেই চাঁদাবাজী। কিছুদিন পরপর উচ্ছেদ অভিযানে স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলেও অবৈধ দখলদাররা পুনরায় অগ্রীম বাবদ টাকা নিয়ে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজী অব্যাহত রাখে। কিছুদিন পর পর এখানকার দখলবাজির পালা বদল হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানায়, ভাই পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে হয়। কিছু দিন পর পর অভিযান চালিয়ে আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। আর উচ্ছেদ হলেই আবারো নতুন করে অগ্রীম টাকা দিয়ে দোকান পজিশন নিতে হয়। তার পর দৈনিক ভাড়া। দোকান চালাতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত। বার বার ভেঙ্গে দেওয়ার পরও ঋণ পরিশোধ এবং সংসার চালানোর জন্য রাস্তায় নামতে হয়। ভাই আমরা কই যামু।

 

আমাদের কথা কেউ ভাবে না। শুনতেছি নতুন করে নাকি ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে কাউন্সিলর বাদল ও কাউন্সিলর আনোয়ারের লোকজন মহড়া দিয়েছে। তাই আমরা আতংকে আছি।  এ ব্যাপারে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের কাছে মহড়া সম্পর্কে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ ব্যাপারে নাসিক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম জানায়, এ সম্পর্কে আমার জানা নাই। যারা গেছে তাদেরকে ধরে জিজ্ঞেস করেন তারা কার লোক। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মশিউর রহমান, পিপিএম-বার জানায়, এটি আমার জানা নেই। আর এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। যদি কেউ এমন কিছু করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন