Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল আবার লুটেপুটে খাওয়ার পায়তারা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৭:১৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল আবার লুটেপুটে খাওয়ার পায়তারা
Swapno

নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল আবার লুটে পুটে খাওয়ার পায়তারা শুরু হয়েছে। সভাপতি চন্দন শীল মাত্র ১৫দিন আগে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদুল ইসলাম ভুইয়াকে একক সিদ্ধান্তে মাসে ২৭হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।এ নিয়ে গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্য, সাধারণ শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ প্রধান শিক্ষকের বেতন বৃদ্ধিকে সভাপতির একটি চক্রান্ত বলে মনে করছে অনেকে।

 

নাম প্রকাশে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী অভিযোগ করেন গত চারমাস যাবৎ সভাপতি চেক সই না করায়  স্কুলের ঝাড়ু পর্যন্ত কিনে দেয়া হচ্ছেনা। অথচ তার ইচ্ছে মতো লাখ টাকা খরচ করে পুজা করা হচ্ছে কিন্তু বার্ষিক মিলাদ হচ্ছেনা।

 

এদিকে সভাপতির একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে দুইশ শিক্ষার্থী চলতি বছর এখনো ভর্তি হতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পরে আছে অভিভাবকরা।প্রতিদিন অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কাছে ভর্তির বিষয়ে জানতে গেলে তিনি গত ৩১ মার্চের গভর্নিংবডির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান।

 

অথচ  ৩১মার্চ কমিটির কোরাম বিহীন সভায় ভর্তির বিষয়ে কোন এজেন্ডা না দিয়েই ভর্তির  সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটি আবারো পুরনো দৈন্যতার দিকে  ফিরে  যাচ্ছে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছে।।


নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড করেজের গভর্নিং বডির সদস্য সরকার আলম জানান, সভাপতি সহ গভর্নিং বডির সদস্য সংখ্যা দশজন। ৩১ তারিখে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেখানে আমাদের তিন জন সদস্যের নামে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। সভাপতি এবং অধ্যক্ষ ছাড়া মাত্র তিনজন সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিধি অনুযায়ী কোরাম না হওয়ার পরও সভাপতি এবং অধ্যক্ষ সভা করে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাহমুদুল ইসলাম ভুইয়ার বেতন ২৭ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।


কমিটির অপর সদস্য আবদুস সালাম জানান, তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন। নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ডের সামনে বলেছেন তিনি সরকারী বেতন নিবেন। স্কুল থেকে কোন বেতন নিবেন না। সেই শর্তেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চতুর এই অধ্যক্ষ গভর্নিং বডির সভায় আমাদের অনুপস্থিতে নিজের বেতন ২৭ হাজার টাকা স্কুলের তহবিল থেকে নেয়ার অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে।

 

বিষয়টি আমরা জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেছি। তিনি বলেন কোরাম বিহীন সভায় এ ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়না। এমনিতেই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আর্থিক সংগতি কমে গেছে। সেখানে একক ভাবে অধ্যক্ষের বেতন বাড়িয়ে সভাপতি অনৈতিক কাজ করেছে। বেতন বাড়াতে হলে সকল শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে হবে।


গভর্নিং বডির সদস্য ওয়াহিদ সাদাত বাবু জানান, তিন মাস যাবৎ আমরা চাত্র ভর্তির বিষয়টি আলোচনা করার জন্য বলছি। সভাপতি তার ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এতে স্কুলের বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।তিনি জানান এ পর্যন্ত প্রায় একলাখ টাকা আমি হাওলাত দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সভাপতির কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমরা ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে শিক্ষা মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানিয়ে দিয়েছি।


স্কুলের অভিভাবক হাসেমউদ্দিন চৌধুরী জানান আমরা ভর্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি। দুইদিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণনা করা হলে মানববন্ধন কর্মসুচি গ্রহণ করবো এবং আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো।তিনি জানান স্কুলে আসন শুন্য থাকার পরও অপেক্ষমান তালিকা থেকে তার সন্তানকে ভর্তি করা হচ্ছেনা।


এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মাহমুদুল ইসলাম ভুইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ১৫ দিন আগে আমি এ স্কুলে যোগদান করেছি। সভাপতি বৃহস্পতিবার আমাকে ২৭ হাজার টাকা বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে। এ টাকা আমি স্কুল থেকে নিব। আর ভর্তির বিষয়টি সভাপতি নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

গভর্নিং বডির সভাপতি চন্দন শীলের সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি জানান স্কুলে এসে কথা বলার জন্য। উল্লেখ্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন সভাপতি পরপর দুইবারের বেশী গভর্নিং বডির সভাপতি হতে পারবেন না। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপে শিক্ষাবোর্ড নিয়ম ভেঙে চন্দন শীলকে তৃতীয়বারের মতো সভাপতি করা হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন