পুলিশের সামনে দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৩০ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিপদজনক অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা সহ তিন চাকার ছোট ছোট যানবাহন। মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যে হাইওয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে হরহামেশা চলছে এসব যানবাহন। মহাসড়কে তিন চাকার এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা-অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এতে প্রাণহানিসহ আহতের ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ক্াচপুর ব্রীজের পশ্চিম অংশ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত শত শত ব্যাটারি চালিত অবৈধ রিকশা-অটোরিকশা সহ সিএনজি, ভ্যানগাড়ি চলাচল করছে। মহাসড়কে এসকল রিকশা অটোরিকশাগুলো জটলা করে মহাসড়ক দখলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এসব তিন চাকার যান চলাচল এবং দীর্ঘ সময় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
বেসরকারি স্কুলের শিক্ষাক মোঃ সোহানুর রহমান বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ এসব অটো রিকশা । মহাসড়কে দ্রুতগতির যান যেমন চলে, একই সঙ্গে চলে ধীরগতির অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে । ধীর-গতির যানবাহনের কারণে দ্রুতগতির যান দুর্ঘটনায় সম্মুখীন হয়। ধীরগতির যানগুলো দুর্বল হওয়ায় এর যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নেই। মহাসড়ক নিরাপদ করতে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সড়ক বা লেন থাকতে হবে।
মুক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা সাফায়াত বলেন , ব্যাটারি চালিত তিন চাকার রিকশা আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এতে সময় এবং খরচ দুটোই কম লাগে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে এসব বাহন বন্ধ করা যাবে না বলে তিনি মনে করেন।
বাস চালক আজীজ মিয়া বলেন, এই রিকশার লেইজ্ঞা আমাগো অনেক সমস্যা হয়। এই ধরেন গাড়ীতে যাত্রী উডামু হুট কইরা একটা রিকশা ডাইন মুর দিয়া নাইলে বাম মুর দিয়া আইয়া পরে, এডির ব্রেক ও ঠিক নাই রাস্তা খালি পাইলে জোড়ে টান দিয়া আহে পরে আর ব্রেক ধরতে পারে না এক্কারে গাড়ীর পিছে আইয়া মাইরা দেয়।
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের টিআই মশিউর রহমান জানান, অবৈধ জান বাহনের বিরুদ্ধে আমাদের আইনানুগ ব্যবস্থা সবসময় অভ্যাহত আছে এবং থাকবে। প্রতি মাসে আমরা এসব যানবাহন আটক করছি জরিমানা করছি । আমরা গত মাসে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করে থাকি। এছাড়া প্রতি মাসে আমাদের প্রসিকিউশনের সকল কাগজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, সারাদেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বন্ধের জন্য নির্দেশ হাইকোর্ট। এছাড়াও এই সকল ইজিবাইক বা থ্রি-হুইলার আমদানি এবং বেচাকেনাও নিষিদ্ধ করা হয়ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ লাক্ষের কাছাকাছি ইজিবাইক রয়ছে।
তবে এসব ইজিবাইকের নেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন। মহাসড়কে চলাচলের জন্য তো নিরাপদ নয়ই,মানুষের স্ব্যাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকারক এইসব ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। ইজিবাইকগুলোতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হয়।


