একজনের বিদ্যুৎ চুরির দায়ে অন্য জনের তিন লাখ টাকা জরিমানা
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৩১ পিএম
আড়াইহাজারে একজনের বিদ্যুৎ চুরির দায়ে অন্য এক নীরিহ লোকের উপর তিন লাখ টাকা জরিমানার দায় চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর আড়াইহাজার জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে অন্যায় ভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে অপর দুটি মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে তার বৃদ্ধা মা অসুস্থ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ দু মাস যাবত কষ্ট ভোগ করছেন।
কষ্ট ভোগ করছে তার পুরো পরিবার। ব্যবহার করতে পারছে না বৈদ্যুতিক আলো, বাতাস, পানি ইত্যাদী নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ঘটনাটি উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের উৎরাপুর গ্রামের। ওই গ্রামের ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন জানান, তার নিজ গ্রামের আলী আজগর নামে এক লোকের গ্যারেজে বেশ কয়েকটি অটো চার্জ দেন তিনি।
অটো প্রতি ২০ টাকা করে চার্জ নিয়ে থাকেন আলী আজগর। ওই গ্যারেজে যে বিদ্যুৎ মিটার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে সে গুলোর একটি গ্যারেজ মালিক আলী আজগরের নামে এবং অপরটি তার স্ত্রী মোরছালিনার নামে। গ্যারেজ মালিক ওই মিটার গুলো দ্বারা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি সম্প্রতি বিদ্যুৎ কর্র্তপক্ষের নজরে আসলে মিটার গুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় (মিটার নং-আলী আজগর-৪০১১০০১৮০২২ এবং মোরছালিনাÑ ৪০১১০০১৮০৮০)। প্রর্কৃত পক্ষে অবৈধ বিদ্যুৎ
ব্যবহারের জন্য মিটার মালিক দায়ি থাকার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে অভিযুক্ত মিটার মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে গ্যারেজের অটো চার্জ দেয়ার কাষ্টমার জয়নাল আবেদীন কে তিন লাখ তিন হাজার টাকা জরিমানার কথা মৌখিক ভাবে জানায়। তিনি সেই টাকা না দিতে চাইলে গত দু মাস আগে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তার বাড়ীর দুটি আবাসিক মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় (মিটার নং- জয়নাল আবেদীন-৪০১১০০২৭৪২৩ এবং ময়না- ৪০৩১০০১৮৯১৯)।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জয়নাল অবেদীন ওই অফিসের বর্তমান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে ৪ এপ্রিল পূণ:তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন। ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ৫ এপ্রিল বিকেলে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন অফিস পিয়নকে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পাঠান।
ঘটনা স্থলে গিয়ে তদন্তরত কর্মকর্তা বৃন্দ কোন প্রকার তদন্ত না করে জয়নাল অবেদীনের নিকট বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে পিয়ন মোহসীনের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন। তা ছাড়া ওই স্থানে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে একই ঘরে পৃথক নামে তিনটি মিটার স্থাপন করার ও অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যা নিয়ম বহির্ভূত ভাবে করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন ডি জি এম।
এ ব্যাপারে ওই অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ( ডি জি এম) মোঃ আসাদুজ্জামানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে টাকা দাবীর বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক জনের দায়ভার অন্য জনের উপর চাপানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডি জি এম বলেন, আমি এ অফিসে নতুন। সাবেক ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন তার উপর আমার কথা বলার কোন সুযোগ নাই।


