নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদের পুত্র ও তালিকাভূক্ত কুখ্যাত রাজাকার রফিক নাতি মাহমুদুল হাসান শুভ’র বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবিসহ তার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে হত্যা করার হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার সবুরউদ্দিন।
গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ‘ঘ’ অঞ্চলে ৮জনের নাম উল্লেখ পূর্বক মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৩৪/২২। ধারা ৪৪৮/৪৪৯/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬। মামলার আসামীরা হলো- ১. মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ (৩৩), ২. চিড়াইপাড়ার মৃত খালেক সরদারের ছেলে মো. আমিনুল (৩৮),
৩. জুগীপাড়ার মৃত মহসিনের ছেলে মো. জরিফ (৩৩), ৪. চিড়াইপাড়ার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মো. রানা (৩৪), ৫. মজুমপুরের আনোয়ার আলী আনু মিয়ার ছেলে মো. আবু তাহের (৩২), ৬. চিড়াইপাড়ার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. খাইরুল (২৮), ৭. জুগীপাড়ার মো. আবু সাইদের ছেলে মো. সাইফুল ও ৮. মালিবাগ এলাকার নুরুল হকের ছেলে মো. নাদিম (৩০)।
মামলার বিবরণ ও বাদীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ মামলার বাদীকে হত্যার চেষ্টাসহ মারধর করা এবং চাঁদা দাবী করার কারণে বাদীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে উপরে উল্লেখিতসহ আরও কতক অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ৩২৩/৩৬৫/৪৬৭/৩৪২/৩৮৫/৫০৬ ধারায় বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
যাহার মামলা নং ২২(৩)২০২২। সেই মামলার সংবাদ পেয়ে মাহমুদুল হাসান শুভ (৩৩) ও মো. আমিনুলের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা সবুরউদ্দিনের বাড়ির সামনে এসে মোটর সাইকেলের মহড়াসহ মামলা তুলে নেয়ার জন্য তার ছেলেকে গালাগালি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। তারা সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলে সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে তার পিতা সবুরউদ্দিনকে জীবনের শেষ করে দিবে।
এর পর গত ২২মার্চ শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সবুরউদ্দিন এর মালিভিটা এলাকার বসত বাড়িতে তাদের নেতৃত্বে উল্লেখিত আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সবুরউদ্দিনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেল বহরসহ তার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার ছেলে জাহাঙ্গীরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে জাহাঙ্গীর তাকে গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে শুভ তার কোমর হতে পিস্তল বের করে গুলি করে।
গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আমিনুল তাকে গালি দিয়ে বলে তাকে জীবনে শেষ করে দে। এ সময় তারা জাহাঙ্গীরকে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গলায় পা দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। এ সময় আমিনুল সবুরউদ্দিনের গ্যারেজে থাকা নিশান এক্স ট্রেইল গাড়িটি রড দিয়ে পিটিয়ে ভাঙচুর করে। তার ডাক-চিৎকারে সবুরউদ্দিন ছুটে আসলে শুভ তার কপালে পিস্তল তাক করে বলে, আমার চাঁদা দে, না হলে তুই শেষ।
এই কথা বলে তাকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীল ফুলা জখম করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৮হাজার টাকা মূল্যে একটি ভিভো মোবাইল সবুরউদ্দিনের পকেট থেকে নগদ ৪৫হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়াসহ বাড়িতে ভাঙচুর করে। তারা চিৎকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে তোরা চাঁদাবাজির মামলা করেছিস। এখন আমাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে এক কোটি টাকা চাঁদা দিবি এবং এই মামলা তুলে নিবি, না হলে তোকে এবং তোর ছেলেকে মেরে গুম করে ফেলব।


