# জ্বিহবা কাটা বা চোখ উঠানো কিছুই পাওয়া যায়নি : আরএমও ফরহাদ
সদর উপজেলার বক্তাবলীর লক্ষীনগর গ্রামের নিহত আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ বছর আগে দেলোয়ার হত্যা মামলা রয়েছে। মানুষের হাতে গণপিটুনিতে নিহত আলমগীর নিজেও হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে চাদাঁবাজি, মাদককারবারি মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ তার অত্যাচারে দুর দুরান্ত থেকে আসা বক্তাবলী ইট ভাটার শ্রমিকরা পর্যন্ত কাজ করতে পারতেন না।
আলমগীরের বাহিনীর ভয়ে অনেকে কাজ ফালিয়ে পালিয়ে যায়। সে মারা যাওয়ায় এলাকাটা পুরো নিরব হয়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আলমগীর ছিলেন নানা অপকর্মের হোতা। তার পুরো পরিবার মাদককারবারির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই জাহান লক্ষীনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা করে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। আলমগীর ছোট বেলা থেকে অনেকটা উগ্রো মেজাজে ছিল।
যার জন্য বড় হয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জরিয়ে পরেন। এমন কোন অপরাধ নেই জার সাথে সে জড়িত ছিলনা। আর এজন্য তার মৃত্যুতে লক্ষীনগর গ্রামের মানুষের কোন আক্ষেপ নেই। বরং ওই এলাকার মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তবে অভিযোগ রয়েছে আলমগীর জীবিত থাকা কালিন সময়ে ফারুক মেম্বারের ইট ভাটা মারুফা ব্রিকফিল্ড এবং আব্দুল আলীর ইট ভাটা তিশা ব্রিকফিল্ড গিয়ে মাদক বিক্রি করত।
এমনকি সেখানে কাজ করা শ্রমিকদের তা বিক্রি করার কথা বলত। তবে সে নিহত হওয়ার পর এখন তারবাহিনী এই ইট ভাটা গুলো খালি পেয়ে মাদককারবারি করছে। সেই সাথে শ্রমিকদের তা বিক্রি করার চাপ দিচ্ছে বলে জানাযায়। আর এজন্য প্রতি দিন ইটভাটা থেকে ফোন আসে ফারুক মেম্বারের স্ত্রী আইরিন আক্তারের কাছে। অভিযোগ করে আইরিন বলেন, আলমগীরের পুরো পুরিবারের মাদককারবারির সাথে জরিত।
আলমগীর তার এলাকার মানুষের হাতে গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার পর তার ভাগিনা পারভেজ, সাদ্দাম, বাবু ইট ভাটায় এসে নারী শ্রমিকদের ভয় দেখায়। সেই সাথে শ্রমিকদের মাদক বিক্রি করতে বলে। আর এজন্য শ্রমিকরা এখন ঠিকমত কাজ করতে যেতে চায় না। তাদের কোন ভাবে বুঝিয়ে কাজে পাঠাতে হয়।
তিনি বলেন, আলমগীরের স্ত্রী মিথ্যা কথা বলে প্রশাসনকে অন্য দিকে দাবী করার চেষ্টা করছে। সে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে বলছে তার স্বামীর জিহবা কাটা হয়েছে। চোখ উঠিয়ে ফেলছে অথচ এগুলো কিছুই করা হয় নাই।
আর তার স্বামীকে যখন মানুষ গণপিটুনি দেয় তখন ফারুক মেম্বার হাসপাতালে ছিলেন। এমনকি আলমগীরের স্ত্রী মিনুর মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা ঘটনাস্থলে কেউ ছিল না। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো তারা যেন সঠিকভাবে তদন্ত করে ফারুক মেম্বারকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দেন। সেই সাথে এই মিথ্যা মামলার সকলে রেহাই পান।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, আলমগীর মারা যাওয়ার পর এখন তার ভাগিনারা ইট ভাটার শ্রমিকদেরভয় ভিতি দেখাচ্ছে। ইট ভাটার পাশে বসে তারা মাদককারবারি করে যাচ্ছে। তাই এখনি যদি তাদের লাগাম টেনে না ধরা হয় তাহলে তারাও আলমগীরের চেয়ে বড় সন্ত্রাসে পরিণত হবে।
এদিকে এই ঘটনায় ফতুল্লা থানায় পাল্টা পাল্টি মামলা হয়। যার তদন্তাধিন আছে। ফতুল্লা মডেল থানার সূত্রে জানাযায়, ২১ মার্চ নিহত আলমগীরকে প্রধান আসামী করে ৩ জনের নাম উল্লেখ্য করে আবদুল আলী ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যা পরবর্তিতে ১৪৩,৩৪১, ৩২৪, ৩২৬,৩০৭ এবং ৩৭৯ ধারায় পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়।
যার মামলা নম্বর ৬৪। এই মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন লক্ষীনগর বাসিন্দার বাচ্চুর ছেলে রাসেল (৩৬), রামনগরের মতিনের ছেলে বাবু। অন্যদিকে মানুষের গণপিটুনিতে আহত হয়ে ২২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে আলমগীর। এ ঘটনায় নিহত আলমগীরের স্ত্রী মিনু বাদী হয়ে ২৩ মার্চ ফতুল্লা থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় পেনাল কোড মামলা দায়ের করেন।
যার মামলা নং-৭০। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মহসিন ও তোফাজ্জল ও র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে ঢাকার শান্তিনগর ওমর ফারুক (৪৬) এবং হাজী আব্দুল আলীকে (৬০) গ্রেফতার করে। পরে ছিদ্দিক নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে।
ফতুল্লা মডেল থানার এস আই সুকান্ত দত্ত বলেন, আলমগীরের জিহবা কাটা এবং চোখ উঠানোর কথা বলে তার স্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে ভিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন তার স্বামী আলমগীরের জিহবা কাটা হয়েছে। চোখ উঠানো হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কাছে আলমগীরের লাশের সকল ছবি আছে। তার লাশের পোষ্ট মোর্টেম রিপোর্ট আমরা এখনো পাই নাই। তদন্ত চলছে। তদন্ত চলকালিন সব বিষয়ে তথ্য দেয়া যায় না।
র্যাব ১১’র সিইও তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, নিহত আলমগীরের জ্বিহবা কাটা বা চোখ উঠানোর বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। এবিষয়ে পোষ্টমোর্টেম রিপোর্ট যারা দিবে তারা বলতে পারবে। অথবা মামলার তদন্তে পুলিশের যে দায়িত্বে আছেন তিনি বলতে পারবেন।
ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা.ফরহাদ বলেন, আলমগীরের মাথা থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত ছিল। একই সাথে তার মাথায় রক্তজমাট ছিল। কিন্তু তার জ্বিহবা কাটা বা চোখ উঠানোর কোন কিছু পাওয়া যায় নাই। তার স্ত্রী যদি জ্বিহবা কাটা এবং চোখ উঠানোর কথা বলে থাকে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছে।


