Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বক্তাবলীতে নেই চেইন অব কমান্ড!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১৪ পিএম

বক্তাবলীতে নেই চেইন অব কমান্ড!
Swapno

ফতুল্লার ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত এলাকা বক্তাবলী ইউনিয়ন। এই এলাকাটি চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত। বক্তাবলীর বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভর করে জীবীকা নির্বাহ করে। রয়েছেন বেশ কিছু চাকুরীজীবীও। এই অঞ্চল ক্ষমতাসীন  দলের কিছু মানুষের কাছে জিম্মি  হয়ে আছেন সাধারণ মানুষ। থেমে থেমে এই অঞ্চলে ঘটে থাকে লোম হর্ষক মারামারি ও খুনের ঘটনা।

 

বক্তাবলী ইউপির চেয়ারম্যান এম শওকত আলী ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  এবং সাংসদ শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। প্রভাবশালী এই নেতার খোদ নিজ ইউনিয়নে তার নেই কোনো চেইন অব কমান্ড। মুষ্ঠিমেয় লোকজনদের দ্বারা তিনি নিয়ন্ত্রিত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

 

বিশেষ করে শওকত আলীর নিজ ইউনিয়ন বক্তাবলীর আকবর নগর এলাকায় দিনে দুপুরে মানুষ খুন করা হয়। ইটভাটা দখল থেকে শুরু করে তুচ্ছ ঘটনায় এ অঞ্চলে হয় মারামারি ও খুনোখুনির ঘটনা। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ শওকত আলীর হলেও তার কমান্ডের বাইরে গিয়ে ঘটে থাকে নানা অঘটন। পুরো অঞ্চলে এক ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করে সব সময়।

 

সম্প্রতি আলমগীর হত্যাকান্ডের পর বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে নানা অনিয়মের ঘটনা। বক্তাবলী অঞ্চলে খুনের ঘটনা ঘটলে অনেকের পোয়া বারো হয়ে পড়ে। বিচার শালিশের  নামে বক্তাবলী অঞ্চলে প্রহসন চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু বিশেষ পেশার মুষ্ঠিমেয় লোকজনও  উল্লেখিত  এলাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের নিয়ন্ত্রণ করে। অঘটন ঘটলে বিশেষ পেশার লোকজন ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার নানা পরিকল্পনা করে মিশন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।


চারদিকে নদী বেষ্টিত বক্তাবলী ইউনিয়নে শওকত আলীর একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এই  অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আকবর এলাকায় সব চাইতে বেশি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।  আকবর নগরে সামেদ আলী ও তার বাহিনীর লোকজন শওকত আলীর লোকজন হিসেবে পরিচিত। শওকত আলী নিজে বেশ কয়েকবার আকবর নগরে সংঘর্ষ বন্ধে উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

 

এখনো আকবর নগরে সামেদ আলী ও তার বাহিনীকে চাঁদা না দিয়ে ইটভাটার মালিকরা কোনো ইটভাটা পরিচালনা করতে পারেন না। ভাটার মাটি মহাল থেকে  সামেদ আলীর লোকজনদের চাঁদা উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি শওকত ও পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে,আকবর নগরে জনগনের নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ ফাঁড়ি দেয়া হয়েছে ঐ ফাঁড়ির পুলিশদের ম্যানেজ করেই সামেদ আলী ও তার বাহিনী পুরো এলাকায় তান্ডব চালিয়ে থাকে।


বক্তাবলী ইউনিয়নবাসী বলেন,শওকত আলী বক্তাবলী ইউনিয়নের একজন স্বর্ণপদক প্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এছাড়াও শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি পরিচিত।  আকবর নগরে  থেমে থেমে যে সংঘর্ষ ঘটে তা তিনি নিজেও অবগত। কিন্তু সামেদ ও তার বাহিনীকে দমাতে তিনি একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। এর পেছনের রহস্য তিনিই বলতে পারবেন।

 

পুরো বক্তাবলী ইউনিয়নে গুটি কয়েকজন লোক আওয়ামীলীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক। তবে তৃণমূল অনেক নেতাকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। কয়েক দিন আগে ভিপি আলমগীর মৃত্যু বরণ করেন। ভিপি আলমগীর ছিলেন শামীম ওসমানের আস্থাভাজনদের অন্যতম।

 

কিন্তু আলমগীরকে অনেক আগে থেকেই মাইনাস করে রাখা হয়েছে। স্ট্রোক করে মৃত্যুর আগে সাংসদ শামীম ওসমানের সামনে ইউনাইটেড ক্লাবের সভায় আলমগীর এই ক্ষোভ নিয়ে  অনেক কথাও বলেছেন।  বক্তাবলীতে শওকত আলী একজনই যিনি আওয়ামীলীগের একমাত্র নিয়ন্ত্রক। কিন্তু আওয়ামীলীগের ভবিষৎ এই ইউনিয়নে অন্ধকার বলেও তারা দাবী করেন।


 উল্লেখ্যম, সম্প্রতি রাজাপুরে পুলিশের সোর্স আলমগীর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকান্ডে ফারুক  মেম্বার ও তার  লোকজন জড়িত। ফারুক মেম্বার নিজে শওকত আলীর লোক বলে এলাকায় পরিচিত। তার লোক পরিচয়ে ফারুক মেম্বারের লোকজন এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করে বেড়ায়। তবে আলমগীর হত্যাকান্ডের পর শওকত আলী বলেছিলেন,এমন হত্যাকান্ডেকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।


এ ব্যাপারে এম শওকত আলী বলেন,ফতুল্লা অঞ্চলের মধ্যে বক্তাবলী ইউনিয়নই শান্তিপূর্ন এলাকা। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে থাকে যা অপ্রত্যাশিত। আকবর এলাকায় থেমে থেমে যে ঘটনা ঘটে তা তিনি কোনোভাবেই সমর্থণ করেন না। সামেদ আলী ও তার লোকজনদের এলাকায় যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপরে কঠোর হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে। এখন আকবরনগর শান্ত আছে।

 

সোর্স আলমগীর হত্যাকান্ডকে তিনি কোনোভাবে সমর্থণ করেনা উল্লেখ করে বলেন, কোনো হত্যাকান্ডই একটি এলাকার জন্য সুফল বলে আনতে পারে না। অপরাধী অপরাধীই। আলমগীর যদি অপরাধী হয় তার জন্য দেশে প্রচলিত আইনে বিচার হতো। কিন্তু এমন হত্যাকান্ডকে সমর্থণ করেন না বলেও তিনি দাবী করেন। আলমগীর হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তাদের আইনের মাধ্যমে বিচারও তিনি দাবী করেন। অপরদিকে নিরীহ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়ারানীর শিকার না হয় সে ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন