Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দরে ডকইয়ার্ডের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, তিনজনকে জখম

Icon

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২৫ পিএম

বন্দরে ডকইয়ার্ডের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, তিনজনকে জখম
Swapno

বন্দরে বিআইডব্লিউটিসির তিনটি ডকইয়ার্ডের শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনে বাধাসহ নবনির্বাচিত সভাপতিসহ তিনজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে বন্দরের নাসিক ২৬ নং ওয়ার্ডের বিআইডব্লিউটিসি’র ১নং সোনাচরা ডকইয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন সোনারগাঁয়ের আ. জলিল মিয়ার ছেলে এবং ১নং সোনাচরা ডকইয়ার্ড এর ওয়াকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল হাসান সবুজ,

 

ডকইয়ার্ডের গ্রীজার জামাল শেখ ও শ্রমিক আল আমিন। এতে আবুল হাসান সবুজে মাথায় মারাত্মক রক্ত জখম ঘটে। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলে সেখানে তার মাথায় ৪টি সেলাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। আবুল হাসান সবুজকে এর আগেও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে যা বিভিন্ন মিডিয়াতেও প্রকাশ করা হয়।

 

জানা গেছে, গতবছর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বিআইডব্লিউটিসি’র ওয়াকার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটিকে মেনে নিতে পারেননি চুন্নুসহ ধামগড় এলাকার সামসুল আলম নয়ন। সামসুল আলম নয়ন বন্দর উপজেলা আওয়ামীগের সভাপতি এমএ রশীদ এর ভাতিজা। তবে তা শ্রম অদিধপ্তরসহ বিআইডব্লিউটিসির অনুমোদন প্রাপ্ত বলে জানা যায়।

 

সেই কমিটির উদ্যোগে বন্দরের ৩ টি ডকইয়ার্ডে তাদের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার জন্য সোমবার এখানে আসলে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় সামসুল আলম নয়ন, বাবুল, আউয়াল, চুন্নুগং মহিসন ভুইয়াসহ কেন্দ্রীয় কমিটির লোকজনকে উপস্থিত না থাকার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু এর পরও তারা কমিটি ঘোষণা করলে নয়নের লোকজন এই হামলার ঘটনা ঘটায়।

 

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি ওয়াকার্স ইউনিয়ন (সিবিএ) এর সভাপতি এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি মো. মহসিন ভূইয়া জানান, সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরের ২৩ তারিখ আমাদের আমাদের সিবিএ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আজ এসেছি এখানকার ১, ২ ও ৩ নং ডকইয়ার্ডের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের নাম ঘোষণা করার জন্য। আমাদের এই কমিটি জাতীয় শ্রম মন্ত্রনালয়ের অন্তর্ভূক্ত এবং শ্রমের সহকারী পরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত।

 

কিন্তু আমাদের এই কমিটির বিপরীতে যারা এই কমিটির কোন সদস্যও না তারা এই কমিটির বিরোধিতা করে আসতেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুন্নু এবং মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান নামের দুজন। তাদের সাথে আছে এই এলাকার ১ন ডকইয়ার্ডের বিশেষ দক্ষ ওয়েল্ডার সামসুল আলম নয়ন। আমাদের কমিটি সম্পূর্ণ বৈধ হওয়ার পরেও তারা আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে আসছে এবং আমাদের সাংগঠনিক কাজে বাঁধা দিয়ে ডকইয়ার্ডে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে।

 

তারা বহিরাগতদের নিয়ে ডকইয়ার্ডে নানা অপকর্ম করে আসছে। এমনকি এই ঘটনাটিও প্রতিপক্ষ নয়ন গংদের পরিকল্পিত অপপ্রচেষ্টা ছিলো বলে জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা যখন ২ নং ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করি তখন তারা আমাদের বাধার সৃষ্টি করে। সেখানে তাদের সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়।

 

আমরা  যেহেতু কেউ বহিরাগত না, ডকইয়ার্ডের চাকুরীজীবী, তাই আমরা সেখানে যাই। সেখান থেকে আমরা যখন ১নং ডকইয়ার্ডে আসি তখন চুন্নু এবং নয়নদের একটি বহিরাগত বাহিনী তাদের সাথে ডকইয়ার্ডের কিছু ক্যাজুয়েল ভিত্তিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে আমাদের সমর্থিত লোকের উপর তারা অতর্কিত হামলা চালায়।

 

১নং ডকইয়ার্ডে আমরা যাকে সভাপতি নির্বাচিত করি সেই আবুল হাসান সবুজকে মারধর করে। এ সময় জাহাজের গ্রিজার জামাল শেখকে ও আলামিন নামক এক শ্রমিককে মারধর করে। তিনি বলেন, এই ডকইয়ার্ডের আমাদের স্থায়ী শ্রমিকদেরকে নয়ন ও চুন্্নুর নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়। এর আগেও একবার আবুল হাসান সবুজকে মারধর করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এখানে জাহাজ মেরামতের নামে দুর্নীতি হচ্ছে, এখানকার প্রশাসনও তাদের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না। তারা এখানে এসে কোন কাজতো করেই না, উল্টো তারা অস্থায়ী শ্রমিকদের উস্কিয়ে দিয়ে আমাদের উপর এধরণের আচরণ করেছে। তাদের কোন কমিটির অনুমোদন সরকারও দেয়নি বা তারা নির্বাচিত হননি।

 

এভাবে মার খেয়ে তারা এখানে কিভাবে চাকুরী করবে, এখানে যারা অন্য এলাকা থেকে এসে চাকুরী করতেছে তাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। আমি বিষয়টি আমাদের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখানকার আওয়ামী লীগের সভাপতিকে না পেয়ে সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন ভাইকে জানিয়েছি। এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সায়েম মির্জা,

 

সহসভাপতি রফিকুল হাসান তাহেরী ও আব্দুস সালাম, বাহাউদ্দিন খান, যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সহকারী সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ওয়াকার্স ইউনিয়ন (সিবিএ) এর নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ঘটনার তদন্তসহ বিচার ও শাস্তি দাবী করেন। এদিকে সামসুল আলম নয়ন জানায়, তাদের কমিটি একটি ভূইফোড় কমিটি এমনকি তারা শ্রমিকলীগের নাম ব্যবহার করে বিএনপি-জামাতের লোকজনদের দলে ভেড়াচ্ছে।

 

তাই শ্রমিকরা তাদের বয়কট করেছে। আমি আগেই জানিয়েছি আপনারা আসলে শ্রমিকরা বিশৃঙ্খলা করতে পারে।  কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি, তাই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র ১নং ডকইয়ার্ডের এসআরএস ইউনিট চীফ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল জানান, আসলে এখানে শ্রমিক ও বহিরাগতরা মিলি মিশে একটা বিশৃঙ্খলা করেছে এ বিষয়ে আমরা জেনেছি।

 

এই ঘটনায় দুই একজন আহত হয়েছে বলেও শুনেছি। কিন্তু ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন