আড়াইহাজারে পকেট কমিটির আদলে বিএনপির সম্মেলন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৩০ পিএম
আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে একটি ক্ষুদ্র অংশের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেলেও দলটির বৃহৎ অংশে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। পকেট কমিটির আদলেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে বৈধতা দিতে আনা হচ্ছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বুধবার (১৩ এপ্রিল) এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম আজাদকে একক সুবিধা দিতে এই সম্মেলনের আয়োজন। আজাদ যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই সাজানো হয়েছে সম্মেলনের ছক। কে সভাপতি হবেন, কে সেক্রেটারি হবেন তা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন যা হচ্ছে তা কেবল সম্মেলনের নামে ‘নাটক মঞ্চস্থ’। একই কায়দায় সোনারগাঁ বিএনপির সম্মেলনও করা হয়েছিল আজহারুল ইসলাম মান্নানের চাওয়াতে।
এই সম্মেলনকেও বৈধতা দিতে আনা হয়েছিল দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে। সূত্র বলছে, প্রায় আশি শতাংশ বিএনপির নেতাকর্মীকে এই সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নজরুল ইসলাম আজাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। এখানে গঠন হওয়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো অত্যন্ত গোপনে করা হয়েছে।
এসব কমিটি এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। এমনকী কোনো পত্রপত্রিকাতে কমিটির তালিকা দেওয়া হয়নি। গোপনে করা এসব কমিটির নেতাকর্মীরাই এই সম্মেলনের কাউন্সিলর।
দলটির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন হয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদের চাওয়াতে। তিনি যাদের চেয়েছেন তারাই এসব কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে করা এসব কমিটিতে স্থান হয়নি প্রকৃত অর্থে বিএনপি করা নেতাকর্মীদের। এসব নেতাকর্মীরা জাগো দল থেকে শুরু করে অদ্যবধি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।
ত্যাগী ও নির্যাতিত এসব নেতাকর্মী ব্যক্তি বিশেষ নয়; কেবল মাত্র জিয়া পরিবার অনুসারি হওয়াতেই তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা স্থান পেয়েছেন বিএনপিতে তাদের তেমন কোনো অবদান নেই। তাদের যোগ্যতা হচ্ছে, নজরুল ইসলাম আজাদের তাবেদারি আর তেলমর্দন করা।
স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, যেভাবে সম্মেলন করা হচ্ছে এতে করে জিয়া পরিবারের ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। তাদের এই একগুঁয়েমি আর স্বেচ্ছাচারিতার জন্য ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আড়াইহাজার বিএনপির বেশ কিছু নেতা পদত্যাগও করেছেন। এই সম্মেলন শেষে এমন আরও অনেকেই বিএনপি ছাড়তে বাধ্য হবেন।
তারা বলছেন, নজরুল ইসলাম আজাদ অর্থ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের ছত্রচ্ছায়াতে থেকে নিজের অবস্থান বেশ শক্ত করেছেন। তার এসব স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী প্রতিবাদ করলেই তাকে পুলিশ নয়তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্থা, নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ফলে আগে কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও এখন অনেকেই আজাদের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ পর্যন্ত খুলতে চান না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় গুটি কয়েক নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদ বিএনপির কমিটি নিয়ে যাচ্ছেতাই করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। তার এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জিয়া পরিবারের লাভ না হলেও আগামীতে আওয়ামী লীগ বেশ লাভবান হবে, সেটিই এখন দিনের আলোর মত প্রতিয়মান।


