সোনারগাঁয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত-১৫
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২৯ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলার বারদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সকালে আওয়ামীলীগের দুপক্ষের লোকজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর থেকে বারদী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ইফতারের পর বারদী বাজারে মুজিবুর ও হাসান নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে নিজেদের বংশ নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে মুজিবুর পক্ষের লোকজন হাসানকে মারধর করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র তাদের ঘনিষ্ট জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু ঘটনাস্থলে এসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল মেম্বারের লোকজন জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, টেঁটা, রামদা, নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দুপক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
সংঘর্ষে জাকির পক্ষের জাকির সরকার, জামাল, মাসুম সরকার, বাসেদ সরকার, মামুন সরকার, সামসুল, হুমায়ুন সরকার ও হাসান এবং জহিরুল পক্ষের তাইজুল ইসলাম, হযরত আলীসহ ১৫ জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে জাকির সরকার, জামাল ও সামসুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর বারদী বাজারে জহিরুল হকের লোকজন উত্তেজিত হয়ে জাকির সরকারের পক্ষের মামুন সরকার, মাজহারুল সরকার, রাকির সরকার, জাহাঙ্গীরসহ ৫/৬ জনের দোকান ভাংচুর লুটপাট চালায়। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ৩ জনের বাড়িঘর ভাংচুর ও ইব্রাহিম ইবুর একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবুর অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক তার দূর স¤পর্কের ভাতিজা নাজমুল হককে নির্বাচন প্রভাবিত করে নির্বাচিত করায়। পরবর্তীতে বারদী বাজারে আমাদের লোকজনকে কোনঠাষা করে রাখে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকানপাট, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।
সংষর্ষের ঘটনায় আমাদের ১৫জন আহত হয়। বারদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস জহিরুল হক জানান, বারদী মারকাজ মসজিদের পাশে একটি সরকারী পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করে মসজিদের আয় ও ব্যয় নির্বাহ করা হয়। সম্প্রতি জাকির সরকারের পক্ষের আমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান,
মামুন নামের তিনজন ওই পুকুর লিজ নিতে উঠে পড়ে লাগে। এতে কথাকাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে সংষর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে। অপরদিকে, হবু নিজ ঘরে আগুন দিয়ে নাজমুলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেননি।


