পাগলায় ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে অপরাধ চক্র
ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০০ পিএম
পাগলায় ভাঙ্গারী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চলছে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও সেবনসহ চোরাই মালের জমজমাট বাণিজ্য। এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব ব্যবসার ওপর নজরদারি নেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। এসব ভাঙ্গারী ব্যবসার পালিত চোরেরা রাতের আঁধারে আলীগঞ্জ, পাগলা, তালতলা দিয়ে চলাচল করা পরিবহন থেকে প্রকাশ্যে মালামাল চুরি করে নামিয়ে নিয়ে যায়।
কখনো পুলিশের সামনেই চলে এইসব চোরদের চুরি। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ, সাংবাদিক, নেতাদের ম্যানেজ করেই পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনে সোর্স জাফর ওরফে ফরমা জাফর, আয়েত আলী, হাবুল্লাহ, জাফরের মেয়ের জামাই লিমন, কাল্লু ওরফে ভোলাইয়া কাল্লু, মাসুম ওরফে তিন কার্ড মাসুম সহ আরো ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট মিলে দুইটি ভাঙ্গারী দোকান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ।
পাগলা তালতলা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু, জুয়ারি নজরুল, সুমন, আক্কাস ওরফে সোর্স কাক্কাস, জাহাঙ্গীর, আলী, আমজাদ, হাবু ডাকাত, মীরুর ভাই আলমগীর, রাকিব সহ আরো ৫/৭ জনের আরেকটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকের মতো অপরাধ। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ ফতুল্লা মডেল থানায় ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের উপস্তিতিতে এ্যাড.হুমায়ুন কবির নামে একজন ব্যক্তি তার বক্তব্যে বলেছিলেন,
পাগলা মেরী এন্ডারসন সামনে ভাঙ্গারী দোকান বসিয়ে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন অপরাধ সুসংগঠিত করছে, তারা দিনের বেলায় তিন কার্ডের জুয়া, রাতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, আমরা সবি দেখি, প্রতিরাতে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ভাঙ্গারীর দোকান থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু না।
পুলিশ যেখানে প্রতিবাদ করার কথা, সেখান থেকে যদি পুলিশ টাকা খায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করবে বলেন। রাতের বেলায় পুলিশের গাড়ির সামনে চলন্ত মালবাহী ট্রাক থেকে দামী মালামাল চুরি করছে।
অসহায় হয়ে তাকিয়ে দেখছেন পুলিশ ও সাধারণ মানুষ। কেউ কিছু বলার সাহস পায় না তাদের। তাদের সিন্ডিকেটে পুলিশ, সাংবাদিক, নেতারা জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী বলেন, চুরির মাল ছাড়া প্রকৃত ভাঙ্গারী ব্যবসা করা খুবই কঠিন।
আর সকলকেই ম্যানেজ করেই চলে এই ভাঙ্গারী ব্যবসা। যেমন দোকান প্রতি ফতুল্লা থানার টহল পুলিশকে প্রতিদিন ৭০০ টাকা দিতে হয়। মাস শেষ দিতে হয় আরো ৭ হাজার। বিভিন্ন নেতা সাংবাদিকদের দিয়েই ম্যানেজ করে চালাতে হয় আমাদের দোকান। তানা হলে আমরা রাতে দোকান চালাতে পারবো না।


