Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পাগলায় সোর্স জাফরের সীমাহীন অপকর্ম, নীরব প্রশাসন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৮ পিএম

পাগলায় সোর্স জাফরের সীমাহীন অপকর্ম, নীরব প্রশাসন
Swapno

পাগলায় ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে অপরাধ চক্র। শিরোনামে শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক যুগের চিন্তায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরথেকে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল! থানা পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই, ভাঙ্গারী দোকানের অন্তরালে রাতভর চলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি। এমন চাঞ্চল্যকর অসংখ্য তথ্য রয়েছে আমাদের কাছে।

 

দিনের বেলায় ভাঙ্গারী দোকানের অন্তরালে চলে ভয়ানক তিন তাশের জুয়া। ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ও কথিত পুলিশের সোর্স জাফরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন এই তিন তাশের জুয়ার ভেল্কিবাজি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

 

পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনে ভাঙ্গারী দোকানের অজুহাতে সোর্স জাফর দিনের বেলায় বাসায় জুয়ার আসর, রাতের আঁধারে তার ১০ থেকে ১৫ জনের পালিত চোর, ডাকাত দিয়ে ভাঙ্গারী মালের পরিবর্তে মালবাহী চলন্ত ট্রাক থেকে তেড়ফাল কেটে বিভিন্ন দামী মালামাল চুরি, ডাকাতি করায় বলেও জানাযায়।

 

আলীগঞ্জ থেকে পাগলা তালতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে ভাঙ্গারী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিশাল অপরাধ চক্র। অল্পতেই বেশি লাভের আশায় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীরা সেইসব অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছেন।

 

সেই অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফতুল্লা লালপুর এলাকার কথিত পুলিশ সোর্স জাফর, তার মেয়ের জামাই লিমন, আয়েত আলী, কাল্লু ওরফে ভোলাইয়া কাল্লু, হাবিবুল্লাহ, পাগলা তালতলা এলাকায় নজরুল ইসলাম, আলমগীর, সুমন, জাহাঙ্গীর ওরফে তুতলা জাহাঙ্গীর, কাল্লু, হাবু, আক্কাস ওরফে সোর্স আক্কাসসহ আরো ৩০/৩৫ জনের একটি বিশাল সিন্ডিকেট। নামেই শুধু ভাঙ্গারী ব্যবসা, রাতভর চলে চুরি ছিনতাই আর ডাকাতি ও মাদক।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, পাগলা বাজার এলাকায় চলন্ত ট্রাক থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি করার কথা নতুন কিছু না। এ বিষয়ে সবাই জানে, পুলিশের গাড়ির সামনে চলন্ত ট্রাক থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আর নীরব ভুমিকা পালন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চুরির এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে থাকেন। ভয়ে কেউ চোরদের বিরুদ্ধে কথাও বলার সাহস পায় না। তাদের রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট।

 

আলীগঞ্জে স্থানীয় বাসিন্দা ইজ্জত আলী জানান, রাতের আঁধারে আমার নির্মাণাধীন বাড়ির গেইট চুরি হয়ে যায়। সকালে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করে না পেয়ে, পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনে সোর্স জাফরের ভাঙ্গারীর দোকানে গিয়ে দেখি সেই চুরি যাওয়া আমার বাড়ির গেইট। এ বিষয়ে জাফরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভাঙ্গারী ব্যবসা করি,

 

কতজন কত কিছু বিক্রি করে, আমরা টাকা দিয়ে কিনে রাখি। পরে সেই গেইট টাকা দিয়ে আনতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা সেতুর রেললাইন স্থাপন করা দামী মালামালও তাদের ভাঙ্গারী দোকানে পাওয়া যায়। এইসব ভাঙ্গারী দোকান নামে মাত্র। তাদের তিন তাশের জুয়ার খপ্পরে পরে প্রতিদিন নিরীহ মানুষগুলোর হাহাকার যেন আল্লাহর আরশে পৌছায়। এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এসপির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ট্রাক ড্রাইভার বলেন, আমরা সারাদিনরাত গাড়ি চালিয়ে পরিশ্রম করে যা উপার্জন করি তা সবই চুরি যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে হয় মালিকদের। অনেক দিন গাড়ি চালিয়ে নিজেদের পকেট থেকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আসতে হয়। তিনি আরো বলেন, এইসব আপনাদের বলেও কোন লাভ হবে না। যেখানে থানা পুলিশ টাকা খায়। সেখানে মানুষ কার কাছে বিচার দিবে বলেন।

 

প্রতিদিন একেকজন চোরকে সন্ধ্যায় এক পুরিয়া করে হেরোইন সেবনের জন্য দিতে হয় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের। তারপর সারারাত চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করতে পারে তারা। তেমনি একজন চোর সাগর বলছিলেন কথাগুলো। রাত ১ টায় পাগলা বাজার মেইন রোডে অন্ধকারে বসে ঝিমাচ্ছিলেন সেই চোর সাগর। কেন এভাবে এখানে বসে ঝিমাচ্ছে তাকে প্রশ্ন করামাত্রই বলেন, আমি একটা পিনের (হেরোইন) টাকা নিয়েছি।

 

তাই সেই টাকা পুষিয়ে দিতে চলন্ত ট্রাক থেকে মালামাল চুরি করতে হবে। শুধু সাগরই নয়, এমন ঘটনা বলেছিলেন, চোর সজিব ও তার ভাই। এলাকাবাসী তাদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। রমজান মাস চলছে সামনে পবিত্র ঈদুল ফিররের ছুটি। এর আগেই যেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এই প্রত্যাশা সকলের।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন