ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৩ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ মোড় চিটাগাংরোড হিসাবে পরিচিত। এ মোড়ে হাত বাড়ালেই চাঁদা পায় সাত খুন মামলা মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল । ক্ষমতার দাপটে এ মোড় থেকে মাসে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
দোকানদাররা জানান, চাঁদার বড় একটি ভাগ পায় থানা পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমরাইলের আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে স্থাপন করা অবৈধ ফুটপাত, রেন্ট-এ-কার স্টান্ড, শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড, খানকা মসজিদের সামনে অটো স্টান্ড, আহসান উল্লাহ ও এ রহমান মার্কেটের সামনে লেগুনা স্ট্যান্ড ও হীরাঝিল আবাসিক এলাকা থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছেন তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের লোক রাজু ,ভুট্টু, জামাল সহ আরো ৪ জন !
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ শিমরাইল মোড়ের পাশের অংশে রিকশা লেন দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন পুলিশের নামে চাঁদা উত্তোলন করেন জামাল ওরফে কাইল্লা জামাল , রাজু ভুট্টু শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে লোকাল বাস ও দূরপাল্লার বাস থেকে নিজস্ব ক্যাডার দিয়ে আলোচিত ৭ খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাগিনা দেলোয়ার ওরফে ভাগিনা দেলোয়ার,
সরকারি যায়গা দখল করে রেন্টে কার ও তার সামনে অবৈধ দোকান বসিয়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু, উত্তর পাশে খানকায়ে জামে মসজিদের সামনে লেগুনা ও অটোরিকশা থেকে ফাঁসির আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা ও নাসিক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, হীরাঝিল আবাসিক এলাকার একাধিক গলি দখল করে ফুটপাত বসানো মোক্তার হোসেন ও হাবিবুর রহমান চাঁদা তোলেন।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কর্তৃপক্ষ এবং থানা পুলিশ লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও পরক্ষণেই আবার ঐ জায়গা পুনরায় দখল করে ওই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট চক্র। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতের অবৈধ দোকানের মালিকদের পুলিশ তথা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজরা।
অভিযোগ উঠেছে, শিমরাইল থেকে প্রতিদিন পুলিশের নাম করে উত্তোলিত টাকার হার হিসেবে চাঁদাবাজি করা হয় মাস শেষে প্রায় ১ কোটি টাকা। মোটা অংকের এই চাঁদাবাজির টাকার বড় একটি অংশ স্থানীয় আ’লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেতা ও নাসিক কাউন্সিলর শাহজালালের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ট্রাক স্ট্যান্ডের চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে দেলোয়ার ওরফে ভাগিনা দেলোয়ারের মুঠো ফোনে ফোন করলে দেলোয়ার সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়,
আমি এবং আমার কোনো লোক চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। ট্রাক টার্মিনাল থেকে ছোট ছোট পিকআপ থেকে ১০ টাকার বেশি নেয়া হয় না। রাস্তায় বাস থামিয়ে আমার নামে টাকা তোলার অভিযোগ সত্য নয়।
আহসান উল্লাহ্ সুপার মার্কেটের সামনে রাস্তা দখল করে অবৈধ দোকানপাট থেকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে জামাল ওরফে কাইল্লা জামালের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি ওইসব দোকানপাট থেকে কোনো প্রকার টাকা নেই না।
এসব অভিযোগ মিথ্যে বলে জামাল ওই প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দিয়ে ফোন কেটে দেয়। অপরদিকে রেন্টে কার ও তার সামনে অবৈধ ভাবে বসানো দোকান থেকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, আমার থানা এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। পুলিশের নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে তাহলে সাথে সাথে পুলিশকে জানাতে বলেন। ওসি আরো বলেন, চাঁদাবাজি করলে থানায় এসে অভিযোগ দিবেন প্রমাণ পেলে সে যেই হোক না কেনো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর বুধবার শিমরাইল মোড়ের ফুটপাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করে ফের আবার এপ্রিলের ১ তারিখে সওজ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ চালান । তবে পুলিশ স্থান ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই চাঁদাবাজ বাহিনী রিকশা লেনের ঐ জায়গা তার দখলে নিয়ে নেয়। সে থেকে অদ্যাবধি পূর্বের ন্যায় জামাল চালিয়ে যাচ্ছে তার চাঁদাবাজি।
উচ্ছেদের সময় সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দখলকারীরা এসব দোকান গড়ে তুলে পরিবহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। সরকারি রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরের দিন ২১ ডিসেম্বর আবারো সরকারি রাস্তা (রিকশা লেন) দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এপ্রিলের ১ তারিখ উচ্ছেদ হলেও ফের আবার বাদল বাহিনী এপ্রিল মাসের চার তারিখে দখলে নেয়।


