ভাঙ্গারী দোকান থেকে প্রতিদিন পুলিশ নেয় ৬০০ টাকা, সাংবাদিক ৫ হাজার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৫৩ পিএম
ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন রোডের আশপাশের গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত ভাঙ্গারী দোকান। আলীগঞ্জ থেকে পাগলা, তালতলা এলাকায় রয়েছে প্রায় হাফ-ডজন চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ভাঙ্গারীর দোকান। অনেক দোকান দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও রাতভর চলে চোরাই মালের জমজমাট বাণিজ্য ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ।
সেইসব ভাঙ্গারীর দোকানগুলোতে রয়েছে তাদের নিজেদের পালিত চোরের দল। তার মধ্যে অন্যতম পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনে কথিত পুলিশ সোর্স জাফরের ভাঙ্গারী দোকান। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন চোর ও ডাকাত। তাদের মাধ্যমে দিনের বেলায় তিন তাশের জুয়ার বোর্ড বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের লাখ লাখ টাকা।
তারাই আবার রাতের আঁধারে করে বেড়াচ্ছেন সীমাহীন অপকর্ম। ভাঙ্গারী দোকান নামেই মাত্র। পাগলা তালতলা এলাকায় ভাঙ্গারী দোকানের অন্তরালে গড়ে তুলেছে আরেকটি চোর ডাকাতদের সিন্ডিকেট। তাদের অপরাধের জগৎ নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিরোনামে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রশাসন।
তার কারণ জানতে গিয়ে, কেচ্ছা খোঁজতে বেড়িয়ে এলো সাপ। পাওয়া যায়, একটি ভাঙ্গারী দোকানের হিসাব-নিকাশের খাতা। সেখানে স্পষ্ট করে প্রতিদিনের হিসাব লেখা রয়েছে। সেখানে পাওয়া যায়, প্রতিদিন ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ টহল দুই টিমকে দিয়েছেন ৬ 'শ টাকা। আর একজন কথিত সাংবাদিক দুলালের নামও পাওয়া যায় প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
(অত্র প্রতিবেদকের কাছে ভাঙ্গারী দোকানের কয়েক মাসের হিসাবে খাতার ছবি সংরক্ষিত রয়েছে) সেই কারণেই কি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রশাসন, এমনটাই প্রশ্ন এখন জনমনে। বিশেষ করে পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনে সীমাহীন অপকর্মে জড়িত কথিত পুলিশ সোর্স জাফর। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে, আয়েত আলী, কাল্লু ওরফে ভোলাইয়া কাল্লু,
জাফরের মেয়ের জামাই লিমন, ডাকাত হাবিবউল্লাহ, কথিত পুলিশ সোর্স আক্কাস, জুয়ারি মাসুম ওরফে কানা মাসুম, বাগা, চোর সজিব, চোর সাগরসহ আরো ১০/১৫ জন। তালতলা এলাকায় রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু, তার বড় ভাই চোরাই সিমেন্ট ব্যবসায়ী আলমগীর, জুয়ারি নজরুল, সুমন, আলী, তুতলা জাহাঙ্গীর, আমজাদ, কাল্লু, হাবুসহ আরো ৫/৬ জন।
তাদের মাধ্যমেই পাগলা এলাকায় প্রতিদিন সুসংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় অপরাধ। এদিকে থানা পুলিশ টাকা খেয়ে নীরব ভুমিকা পালন করছে। স্থানীয় অনেকের মনে এখন প্রশ্ন, তাহলে অপরাধীদের নির্মুল করবে কে? এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ভাঙ্গারী দোকানের কর্মচারী বলেন, এইসব লেখালেখি করে কিছুই করতে পারবেন না।
আমরা প্রতিদিন থানা পুলিশকে টাকা দেয়, মাসে থানার ওসিরেও দেই। অনেক নেতা, সাংবাদিক এসেও টাকা নিয়ে যায়। আমাদের ভাঙ্গারীর দোকান সারারাত খোলা থাকে, আপনি চাইলেও আসতে পারেন। আপনার সম্মানিও পাইবেন। আর জাফর ভাইয়ের থানায় অনেক বড় বড় লোকের সাথে আত আছে। তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কিছুই করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে পাগলা বাজার বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য নুর মোহাম্মদ জানান, পুলিশের সোর্স জাফরের নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল ৬টায় পাগলা বাজার ও তালতলা এলাকায় ১০/১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট মিলে তিন তাশের জুয়ার আসর বসিয়ে, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আশা ডিস্ট্রিক্ট ট্রাকের ড্রাইভারদের বোকা বানিয়ে চিনিয়ে নিয়ে যায় লাখ লাখ টাকা।
শুধু তাই নয়, রাতভর চলে তার অধীনে চুরি ও ডাকাতি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। আসলে জাফরের খুটির জোর কোথায়? কিসের ক্ষমতায় সে পাগলা বাজার এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ করেও হরহামেশাই দিব্বি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াই। তিনি আরো জানান, ফতুল্লা থানায় গেলেও সেই অপরাধী ফরমা জাফরের দেখা মেলে প্রায় সময়।
এ বিষয়ে পাগলা-তালতলা এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল এইসব চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান বন্ধ করে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম (এসপি) এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


