সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, নৌকাতেও রেহাই হবে না কুতুবপুরবাসী
ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৩৩ পিএম
গতকাল ভোর সকালের ক্ষণিক বৃষ্টিতেই ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নজুড়ে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তলিয়ে গেছে এর অধিকাংশ অঞ্চল। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সেইসাথে এবারের বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তির কথা ভেবে ইতোমধ্যে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, বৃষ্টিতে এরই মধ্যে কুতুবপুরের নয়ামাটি, রসুলপুর, নূরবাগ, ভূইগড়,
দেলপাড়া, কুসুমবাগ, আলীগঞ্জ, লামাপাড়া, পিঠালিপুল, পিলকুনি, শিয়াচর, শহীদনগর, বাদামতলী, তুষারধারা, নন্দলালপুসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। অনেক স্থানেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খানাখন্দে যানবাহন পড়ে গিয়ে বিকল হচ্ছে, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। সেইসাথে পাগলা- জালকুড়ি সড়কে তুমুল যানজট ভোগান্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রসুলপুরের বাসিন্দা হাবিব আহমেদ বলেন, 'এমনিতেই এলাকার রাস্তার বেহাল দশা। তার উপরে মাত্র ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে তুমুল জলাবদ্ধতা আমাদের চিন্তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও বেরও হতে পারছি না। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে ভীষণ খারাপ অবস্থায় আছি। সামনের দিনগুলোতে যে কী হবে তা ভেবেই শিউরে উঠছি। বৃষ্টিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তুষার বলেন, 'অনেক জায়গাতেই হাঁটু অবধি পানি, তাও নোংরা। এই পানি পার হয়েই আমাদের স্কুলে যেতে হচ্ছে।ফলে অনেকেই স্কুলে আসতে পারছে না।'
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। দোকানের সামনে পানি ওঠায় অনেক ব্যবসায়ী নিজ প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। নূরবাগের ব্যবসায়ী জিয়াউদ্দিন বলেন, 'গতবার এই রাস্তায় নৌকা চলেছে দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস। এবার যে হাল দেখতে পাচ্ছি, তাতে নৌকায়ও রেহাই হবে বলে মনে হচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের এমনিতেই করুণ দশা, তার উপরে এবারও যদি মাসের পর মাস দোকান বন্ধ রাখা লাগে তাহলে আমাদের কষ্টের আর সীমা থাকবে না।'


