ঢিল ছোঁড়ার ক্ষোভ থেকে স্কুল ছাত্র রিমন হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার ৪
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৭:২০ পিএম
সোনারগাঁয়ে শিশু জুনায়েদ হাছান রিমন (১০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতাররা হলেন- কিশোর (১৭), মো. আল-আমিন (৩৫), মো. আনোয়ার হোসেন বাবু (২৫) ও মানিক মিয়া (৪২)। সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে শিশু রিমন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন ১৭ এপ্রিল সকালে নয়ানগর এলাকার ধানক্ষেত থেকে রিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওইদিন রিমনের বাবা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই ২৪ এপ্রিল চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের দুদিন আগে গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিনের ভাইয়ের ছেলে তানজিন (৭) এর সাথে জুনায়েদ হাছান রিমন এর খেলার ছলে ইটের টুকরা দিয়ে ঢিল ছোড়া ছুড়িকে কেন্দ্র করে বিবাদ হয়।
ঘটনাটি একপর্যায়ে ছোটদের ছাপিয়ে বড়দের পর্যায়ে চলে যায়। উক্ত বিষয়সহ পূর্বকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল-আমিন এবং তার ভাই আনোয়ার হোসেন ওরফে বাবু এর মধ্যে প্রচন্ড ক্ষেভের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার আগের দিন শুক্রবার দুপুর বেলা আল-আমিন এবং তার ভাই আনোয়ার হোসেন ওরফে বাবু ইমনকে এক হাজার টাকার প্রলোভনে জুনায়েদ হাছান রিমনকে খেলার ছলে একা নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজী করে।
পরিকল্পনা মতে, ঘটনার দিন প্রতিদিনের মত স্কুল শেষ করে জুনায়েদ হাছান রিমন তার সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলার জন্য বাড়ীর পাশের বাগমারা চকে (ধানক্ষেতের উচু জায়গা) যায়। অন্যান্যদের সাথে ইমনও যায়। কিছুসময় খেলাধুলার পর অন্যান্য সমবয়সীরা মক্তবের উদ্যেশ্যে নিজ নিজ বাড়ী চলে আসলেও জুনায়েদ হাছান রিমনকে বক শিকারের কথা বলে ইমন তার সাথে রেখে দেয়।
পরবর্তী দুপুর আড়াইটার সময় ইমন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জুনায়েদ হাছান রিমনকে চক থেকে খানিকটা দূরে ধানক্ষেতের আইলে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই অপেক্ষায় থাকা আল-আমিনএবং তার ভাই আনোয়ার হোসেন ওরফে বাবু অবস্থান করছিল। জুনায়েদ হাছান রিমন তাদের কাছাকাছি আসলেই আল-আমিন তার কোমর থেকে গামছা বের করে জুনায়েদ হাছান রিমন এর মুখ চেপে ধরে এবং সাথে সাথে ইমন এর হাতে থাকা চাকু নিয়ে জুনায়েদ হাছান রিমন এর গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে।
এমতাবস্থায় জুনায়েদ হাছান রিমন হাত-পা ছোড়া ছড়ি করলে আনোয়ার হোসেন ওরফে বাবু তার পা চেপে ধরে এবং ইমন জুনায়েদ ওরফে রিমন এর হাত চেপে ধরে। পরে জুনায়দে হাছান রিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনজনে মিলে ধরাধরি করে পাশের ধানক্ষেতে লাশ ফেলে আসে। এদিকে ঘটনার দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে জুনায়েদ হাছান রিমনকে না পেয়ে ঘাতকদের পরামর্শেই নিহতের স্বজনরা (বাদীপক্ষ) বিভিন্ন কবিরাজের কাছে যায়।
সেখান থেকে কোন সঠিক তথ্য না পেয়ে সারারাত খোঁজাখুজি করে তারা বাড়ী চলে আসে। ঘটনার পরদিন ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার সময় তারা পূর্বের ন্যায় বাগমারা চকের ধানক্ষেতে আবার খোঁজাখুঁজি করতে গেলে ধানক্ষেতের সেচকর্মী নির্দিষ্ট ধানক্ষেত দেখিয়ে জানায় সেখানে ভোরে কয়েকটি শেয়াল ঘোরাফেরা করতে দেখেছে।
তখন জুনায়েদ হাছান রিমনের পরিবারসহ পাড়াপ্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানক্ষেতের ভিতরে জুনায়েদ হাছানের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে। মামলার পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার।


