Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি ছিনতাইয়ের শঙ্কা!

Icon

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম

ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি ছিনতাইয়ের শঙ্কা!
Swapno

ঈদ-উল ফিতরের পূর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অহরহ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ মহাসড়কে দিন দিন ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে।

 

ডাকাত ও ছিনতাই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি চালকরাও। তবে শিল্পকারখানার পণ্যবাহী গাড়ি ও প্রবাস ফেরত যাত্রী ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের সবচেয়ে বেশি টার্গেট। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েকদিন পর পরই ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

 

থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশ নিয়মিত টহল দিলেও কোনো ভাবেই কমানো যাচ্ছে না ছিনতাই ও ডাকাতি। পুলিশ সম্প্রতি ডাকাতিতে জড়িতদের গ্রেপ্তার করলেও কোনোভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

 

গত ৬ মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত অনেকগুলো ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়।

 

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তা রাতের বেলায় ছিনতাইকারী ও ডাকাতরা দাপিয়ে বেড়ায় বলে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন। রমজান মাস ও ঈদ আসলেই তাদের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি পায়। মহাসড়কে যখন যানজট বাড়ে তখনই ছিনতাই ও ডাকাতির তৎপরতাও বেড়ে যায়।

 

সোনারগাঁ থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মাসে সোনারগাঁ থানায় ৭টি ডাকাতি ও ৩টি ছিনতাইয়ের মামলা গ্রহণ করা হয়। এসব মামলায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবগুলো ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে সোনারগাঁ থানা।

 

সূত্র জানায়, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর কিউট পল্লী এলাকায় ২০২১ সালে ২৪ অক্টোবর রাতে শম্ভুপুরা এলাকার বাসিন্দা দুবাই ফেরত আলমগীর হোসেন নামের এক প্রবাসীর গাড়ি গতিরোধ করে স্বর্ণলংকার, মোবাইলসেট ও তার সঙ্গে আনা মালপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

 

গত ৩ জানুয়ারী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় রাত দেড়টার দিকে যানজটে আটকা পড়লে মাইক্রোবাসবাহি যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইলফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

 

গত ২৪ জানুয়ারী রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইস্পানির চর এলাকায় তৈহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ইউর্টানে ৫-৬ জন যুবক গাড়ির গতিরোধ করে নগদ ৫৭ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও আংটি, দুটি মোবাইলসেট ছিনিয়ে নেয়।

 

গত ৭ ফেব্রুয়ারী রাতে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট থেকে ফ্রেশের সুগার মিল থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য একটি ট্রাক রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রওনা হয়। পথে রাত পৌনে ২টার দিকে পাকুন্ডা এলাকায় ওই ট্রাকটির চালক আফজাল হোসেন ও হেলপার সোহাগকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চিনিসহ ট্রাকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

 

গত ১৯ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার গ্রামের সৌদি প্রাবাসী ফারুক হাওলাদার দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরে আসেন। তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানসহ প্রাইভেটকার যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর কিউট পল্লীর সামনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হালকা হওয়ার জন্য গাড়ি থামান। হঠাৎ করে ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল এসে গাড়ির মধ্যে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার বিদেশী পন্যসহ একটি সুটক্যাস, নগদ ১২ হাজার টাকা ও ১৪শ সৌদি রিয়েল নিয়ে যায়।

 

মেঘনা উপজেলার মানিকের চর গ্রামের কবির হামজা। আবুধাবি থেকে বাড়িতে ফেরেন গত ৯ জানুয়ারী রাতে। তার সঙ্গে বিদেশী পন্য, মোবাইলসেট ও স্বর্ণলংকার।

 

মহাসড়কের আষাঢ়িয়ারচর ব্রীজের সামনে তাদের বহনকারি মাইক্রোবাস গতিরোধ করে মুখোশধারী ডাকাতদল তাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়।এদিকে গত ২ মার্চ রাতে সাদিপুর এলাকায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে ২ ডাকাতকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এছাড়াও ৪ মার্চ ভোরে র‌্যাব-১১ একটি দল কাঁচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫৫টি মোবাইলসেট সহ ছিনতাই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

 

অপরদিকে ১৬ মার্চ রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্ততিকালে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত দেশিয় অস্ত্রসহ ডাকাত চক্রের ৩ সদস্যকে বন্দেরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

 

৬ এপ্রিল রাতে পিরোজপুর এলাকা থেকে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ রানা নামে এক ছিনতাইকারীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে।

 

চলতি মাসের ৯ এপ্রিল রাতে কাঁচপুর চেঙ্গাইন এলাকায় ডাকাতি প্রস্তুতির সময় দেশীয় অস্ত্রসহ ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করে পরদিন আদালতে পাঠিয়েছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান পিপিএম বার জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। আশা করি ছিনতাই ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, মহাসড়কের ডাকাতি বা ছিনতাই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। ইতিমধ্যে প্রায় ৩১ জন ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের ডাকাতি ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নবীর হোসেন বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ আশপাশের সকল থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ডাকাতির ঘটনার চেয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া মহাসড়কে কোনো ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা যেনো না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন