শিমরাইল মোড়ে ফুটপাত উচ্ছেদের নামে সওজ’র আইওয়াশ
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৭ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিন পাশের একটি সার্ভিস সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদের নামে লোক দেখানো অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন শামীমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসময় মহাসড়কের সড়কদ্বীপ ঘেষা কিছু দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলেও অধিকাংশ স্থাপনা রয়েছে বহাল তবিয়তে। এতে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণে মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন শামীম বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়ককে যানজট মুক্ত রাখার লক্ষ্যে মহাসড়কের পাশের ফুটপাত এবং সড়ক দ্বীপের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব স্থাপনার কারণে যান চলাচল ব্যহত হয়।
আগামীতে মহাসড়কের শেষ সিমানায় ড্রেন এবং দেয়াল নির্মাণ করা হবে তখন অবৈধ দখলদারদের সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ের দক্ষিন পাশে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এলাকা থেকে আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে দিয়ে রেন্ট-এ কার স্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি সার্ভিস সড়ক ও বিপুল পরিমান ফুটপাত দখল করে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও থানা
পুলিশকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে অস্থায়ী বাজার বসিয়ে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে ৩০ লাখ টাকা। গত মার্চের শেষের দিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে পুনরায় দখল করে নেয় সাত খুনের ফাঁসির দন্ডপ্রাত আসামী নুর হোসেনের ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল।
তার সিন্ডিকেটে রয়েছে নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম ও তাঁর ছেলে ইলিয়াস ইসলাম লিয়ন, আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের ব্যবস্থপনা পরিচালক হাবিবুল্লাহ হবুলের ভাতিজা রানা, নেকবর আলী সুপার মার্কেটের মালিকের ছেলে দেলোয়ার, থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু। বর্তমানে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে ফুটপাতের চাঁদাবাজী।
এই সিন্ডিকেট এ মাসের শুরুর দিকে সরকারী এই জমি ও সড়ক দখল করে অন্তত সাড়ে তিন’শ দোকান বসায়। আর এসব দোকান থেকে এক কালীন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অগ্রীম বাবদ অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যা প্রতিমাসে ৩০ লাখেরও বেশি। এই সাড়ে তিন’শ দোকানের মধ্যে বিশেষ পেশার ব্যক্তিদেরও অনেক দোকান রয়েছে বলেও জানা গেছে।


