Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

চাঞ্চল্যকর আরমান হত্যা মামলায় গ্যারাকলে সোহাগ রনি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২২, ০৭:৩০ পিএম

চাঞ্চল্যকর আরমান হত্যা মামলায় গ্যারাকলে সোহাগ রনি
Swapno

# রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের বিষয়ে শুনানি ১০ মে

 

সোনারগাঁয়ের দুর্ধর্ষ সব অপরাধের সম্রাট সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনির কুকর্ম আবারো সামনে আসতে শুরু করেছে।  চলতি বছরই  সোনারগাঁয়ে টেন্ডার জমা দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচনায় আসে সোহাগ রনি। তখন ভূমিদস্যুতা, কিশোরগ্যাং এমনকি মাদকে মদদদাতা হিসেবে তার নাম প্রকাশ পায়।

 

তাছাড়া নানা কুকর্মের সাথে চাঞ্চল্যকর আরমান হত্যাকাণ্ডেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে সোহাগ রনির বিরুদ্ধে। এসব কুকর্ম স্বঘোষিত এক যুবরাজের আশীর্বাদেই দেদারচে চালিয়ে আসছিল এমন অভিযোগও উঠে। অবশেষে সোনারগাঁয়ে চাঞ্চল্যকর আরমান শরীফ হত্যা মামলা থেকে শত চেষ্টা করেও পার পাচ্ছেননা বিতর্কিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভপতি ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রচারকারী সোহাগ রনি।

 

কোন মতে পুলিশের চার্জশীট থেকে আরমান হত্যা মামলা থেকে নাম কাটান রনি। এরপর এই মামলার বাদি আরমানের বাবা মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানি মামলা দিয়ে নাস্তানাবুদ করতে থাকে সোহাগ রনি। ভূমি গ্রাসে অবৈধ সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া রনির কারণেই এই মামলায় ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পেতে বেগ পেতে হয়েছে  বাদী মঞ্জুরুল হক।

 

একের পর এক হুমকি, নির্যাতন আর হয়রানি মামলা থেকে আরমান হত্যা মামলার বিচার চাওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা আর হচ্ছেনা। বাদী মঞ্জুরুল হকের নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঞ্চল্যকর আরমান শরীফ হত্যা মামলার শুনানি হচ্ছে ১০ মে।

 

সোহাগ রনির বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসার মদদদাতা, চাঁদাবাজিসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরেও সোনারগাঁ থানায় সোহাগ রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ৩৫ (২)২২। দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়।

 

আরমান হত্যা মামলার বাদী আরমানের বাবা মঞ্জুরুল হক যখন দেখেন ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা থেকে মূল কুশীলব সোহাগ রনি অর্থের জোরে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন তখন তিনি এব্যাপারে ব্যাবস্থা গ্রহণের চিন্তার আগেই তাকে থামানোর নানা কূটকৌশল আটে রনি। একের পর এক মামলা দিয়ে নাজেহাল করেন মঞ্জুরুলকে।

 

অবশেষে ছেলে আরমান হত্যা মামলায় রনির বাদ পড়া নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই অবশেষে আরমান হত্যা মামলায় বিতর্কিত সোহাগ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের শুনানি ১০ মে ধার্য্য করেছে আদালত।  মঞ্জুরুল হক পুলিশ সুপার বরাবর দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিকেলে সোহেল ফোন দিয়ে আরমানকে বাসা থেকে বের করে প্রকাশ্যে দিবালোকে মোটরসাইকেল দিয়ে এসে

 

 সোহেল, ড্রাইভার মামুন, লিজন, সুমন, নাজমুল হাসান শান্ত, পারভেজ, কোরবান আলী, আলআমিন পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো চাপাতি, রাম দা দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে। এই মামলায় প্রথমে ৫ জন এবং পরে তোতা মিয়ার ছেলে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনিসহ আরো ৭জনকে সংযুক্ত করা হয়। এবং এই মামলার স্বাক্ষীগণ ১৬১ ধারা জবানবন্দীতে আসামীগণের নাম ঠিকানা এবং প্রত্যোকের কার্যকলাপ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনাও করে।

 

সোনারগাঁ থানার মামলা নং-২৯ (১২/১১/২০১৫)।  পরে ১৮/১২/১৮ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে বাদী না রাজি দৈিল আদালত তা গ্রহণ করে। এবং মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআই এর নিকট পাঠায়। এই নারাজী দেয়ার কারণে আরমান হত্যা মামলার বাদী মঞ্জুরুল হকের উপর মামলার আসামি সোহাগ রনি ও কোরবানের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা অকথ্য নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করে।

 

তারা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি নিহত আরমানের মেয়ে দুটির ভরনপোষনের জন্য একটি মুরগীর খামার করলেও সেখানেও হামলা চালায় এছাড়া বাড়ি ছাড়া রাখার চেষ্টা করে। এমনকি বাড়ির চতুর্দিকে দেয়াল তুলে আবদ্ধ করে ফেলে এই চক্র। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই বাড়িতে ঢুকে মঞ্জুরুল হককে  পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে।

 

এবং বাড়িতে হুমকি দিয়ে যায় প্রাণে মেওে ফেলার। ওই সময় এই ঘটনায়ও জিডি করেন মঞ্জুরুল হক। এরপরেও অর্থের দাপটে মঞ্জুরুল হকের উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে সোহাগ রনির সাঙ্গপাঙ্গরা। ছেলে হত্যার বিচার পেতে বাবা মঞ্জুরুল হকের প্রাণান্তর চেষ্টায় আরমান হত্যা মামলায় অবশেষে সোহাগ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের বিষয়ে ১০ মে শুনানির দিন ধার্য্য হয়েছে।

 

আরমান হত্যাকাণ্ডের পরপরই এই মামলার বাদী মঞ্জুরুল হক  মামলায় উল্লেখ করেন, ঘটনার অন্যান্য আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তার ধারণা ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোনারগাঁয়ের তোতা মিয়ার ছেলে বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনি ও মেজবাহউদ্দিন ফকিরেরে ছেলে কোরবান আলীর হুকুমেই আরমানকে হত্যা করা হয়।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন