Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বন্দরে ২০ বছরের পুরনোদের নিয়েই চলছে ইউনিয়ন আ’লীগ

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২, ০৪:১৫ পিএম

বন্দরে ২০ বছরের পুরনোদের নিয়েই চলছে ইউনিয়ন আ’লীগ
Swapno

# পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি/সম্পাদক
# পাঁচটি ইউনিয়নেই কাউন্সিলের প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে : এমএ রশিদ

 

বন্দরে প্রায় বিশ বছরের আগের কমিটি দিয়ে চলছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো। পাঁচটি ইউনিয়ন কমিটির একটিতে আছে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ। বাকী গুলোতে ভারপ্রাপ্ত পদ দিয়েই চলছে কার্যক্রম। এরই মধ্যে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের।

 

কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেই ২০ বছর আগেই সেই কমিটি দিয়ে এখনও কার্যক্রম চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়ন কমিটির মধ্যে শুধু মাত্র কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন আমিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন ইব্রাহীম কাশেম।

 

বাকী ইউনিয়ন কমিটিগুলোর মধ্যে হয় সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক মারা যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কার্যক্রম চলছে দীর্ঘ বছর যাবত। একই লোক এসব কমিটিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় নতুনদের জন্য দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব এলাকার অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন প্রায় বিশ বছর যাবত একই লোক একটি পদ দখল করে আছে।

 

এতে করে নতুনদের জন্য নেতৃত্ব নেওয়ার কোন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় একই পদে অধিষ্ঠিত থাকার ফলে এসব নেতাদের মধ্যে এক ধরণের আত্মঅহমিকা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তারা। একই সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার আওয়ামী লীগের সমর্থক এখন উৎসাহ ও উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছে। যোগ্যতা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিশ বছর যাবত সেই একই কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।

 

সূত্রমতে ২০০৩ সালে নভেম্বরের দিকে যখন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মোবারক হোসেন তখন বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

এরপর ২০০৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এবং ২০১৯ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের ২বারের মতো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের আর কোন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৩ সালে নভেম্বরের সেই কাউন্সিলে মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন নাজিম উদ্দিন।

 

ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন নাসির উদ্দিন মাস্টার ২০১৯ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আব্দুল আলী ভূঁইয়া। মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলাউদ্দিন (ভেন্ডার)।

 

বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. শহীদুল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব নেন জাকির হোসেন পনির। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব নেন ইব্রাহীম কাশেম।

 

এর মধ্যে প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তখন থেকেই সেখানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির মাধ্যমে চলছে কার্যক্রম। প্রায় তিন বছর আগে মারা যান ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাস্টার এবং করোনার শেষ মুহুর্তে মারা যান বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ।

 

এসব ইউনিয়নে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে যারা দায়িত্বে আছেন তারাই এখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন (ভেন্ডার) মারা যাওয়ার পর সেখানকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন মো. ইসমাইল।

 

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ জানান, খুব শীঘ্রই আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোর গঠন করে ফেলব। এখানে তিনটি কমিটির সভাপতি এবং একটি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারা যাওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র সভাপতি বা সিনিয়র

 

 সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটিকে কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলে দিয়েছি। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা এসব ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে  ফেলব।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন