Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মতির অবৈধ দেয়াল অবৈধভাবে গুড়িয়ে দিলেন জাকির

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

মতির অবৈধ দেয়াল অবৈধভাবে গুড়িয়ে দিলেন জাকির
Swapno

# মাকের্ট নির্মাণের জন্য অগ্রিম টাকা নেয়ার অভিযোগ
# চলাচলে ভোগান্তিতে আলীরটেক বক্তাবলীবাসি
# চেয়ারম্যানরা আইন না জেনে অনেক কিছু করেন : ইউএনও

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকে সরকারি জমিতে নির্মিত  ডিক্রিচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ  অবৈধ ভাবে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সাথে অবৈধ ভাবে আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি অবৈধ ভাবে অনুমোদনহীন ভাবে ঈদগাহ মাঠ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান মতি প্রশাসন থেকে অনুমোদন না নিয়ে ৫ নং ডিক্রিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুদানের টাকা দিয়ে ডিক্রিরচর বাজারের সাথে অবৈধ ভাবে ঈদগাহ’র দেয়াল নির্মান করেন। সেই সাথে ডিক্রিরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দেয়ালের অনুদানের টাকা এখানে এনে ঈদগাহ’র দেয়াল নির্মান করেন।

 

মতির করা এই দেয়াল প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বাহিনী অবৈধ ভাবে ঈদগাহের দেয়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন। পুরো আলীরটেক জুরে আলোচনা হচ্ছে এখানকার ভূমির মালিকানা সরকার, কিন্তু এখানে যখন যে চেয়ারম্যান হয় তখন তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়ে নিজের ইচ্ছা মত যা খুশি তাই নির্মান করেন।

 

তাই সচেতন মহল বলছেন দজুনের কাজই অবৈধ। তাই সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তোলেন তারা কি করে সরকারের প্রশাসনের অনুমিত ছাড়া এখানে কেউ ঈদগাহ, আবার কেউ মাকের্ট নির্মান করেন। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস তারা কিভাবে পায়।


এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বছরে দুইবার ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এই নামাজের স্থান গুড়িয়ে বর্তমান চেয়ার‌্যমান জাকির সেখানে মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসি। এই ঘটনায় দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেই সাথে তাদের ক্ষমতার ঠেলা ঠেলিতে বিপাকে পরে আছে আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দারা।


স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাকির চেয়ারম্যান লোকজন আলীরটেক ইউনিয়নের সরকারি জমিতে থাকা ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উচ্ছেদ করতে রাতের আঁধারে চারপাশে থাকা দেয়াল ও মিম্বর ভেঙে দিয়েছেন। ঈদগাহহের দেয়াল ভেঙ্গে কিছু অংশ রাস্তায় পরে থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে মানুষকে হেটে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর এজন্য মানুষ মতি এবং জাকিরের সমর্থকদের দায়ী করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বিগত ২ যুগ ধরে এই ঈদগাহে স্থানীয়রা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। ডিক্রিচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নন করার জন্য সরকার ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধন দেয়া হয়। কিন্তু সেই বরাদ্ধের টাকায় আগের এখানকার সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বিদ্যালয়ের মাঠে চার পাশে দেয়াল না দিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমত ঈদগাহের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল ও একটি মিম্বর তৈরি করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সেই ঈদগাহ’র ওয়াল ভেঙ্গে মাঠ দখল করে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন।


ইতোমধ্যে তার অফিসে বসে আলীরটেক ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আব্দুর রহমানকে দিয়ে দোকান বরাদ্দের একটি তালিকাও করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তিনি ঈদগাহটি দখলে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন বলে জানা একাধিক ব্যক্তি। 


চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান,  এটা তো ঈদগাহ না। এইটার ভেতর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নাচ-গান হয়, খেলা-ধুলা হয়, আবার গরু-ছাগল, ভেড়া-বরকি, কুকুরও বিচরণ করে। মাঝে মাঝে নামাজও হয়। আবার কিছু পণ্য এখানে এনে শুকানো হয়। আর এটা (ঈদগাহ) সরকার অনুমোদিত না।


তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে আসা একটা অনুদানের টাকায় এখানে চারপাশে দেয়াল হয়েছিল। সেটা স্কুলে না দিয়ে এখানে করেছে। আমাদের ইউনিয়নটায় গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। আমরা চাচ্ছি এখানে একটা মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার করলে গ্রামের মানুষের আয়ের ব্যবস্থা হবে। কবরস্থানের পাশে নতুন একটা ঈদগাহ করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, ঈদগা উচ্ছেদ করে মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ তিনি নন, গ্রামবাসী নিয়েছেন। প্রশাসনের অনুমোদনহীন ভাবে এখানে মার্কেট করা যায় কি না তার কোন জবাব তিনি দিতে পারেন নাই।


সদর উপজেলার ইউএনও রিফাত বিন ফেরদৌস জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে থাকা ঈদগাহ চাইলেই অপসারণ বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন বা প্রকল্প থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আইন না জেনেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।


জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, সরকারি জায়গায় বেআইনিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা এনে ঈদগাহ অনুমতি ছাড়া ঈদগাহ করতে পারে না। আমি ইউএনওর সাথে কথা বলে এবিষয়ে খোজ নিয়ে বেআইনি কেউ কিছু করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন