Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মতি-জাকিরের দলাদলিতে সরকারি অর্থ অপচয়

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২২, ০৪:৪১ পিএম

মতি-জাকিরের দলাদলিতে সরকারি অর্থ অপচয়
Swapno

# বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে জাকির
# ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের অনুদানের টাকা দিয়ে আলীরটেকের সাবেক চেয়ারম্যান মতি উর রহমান মতি ডিক্রিচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’র দেয়াল নির্মাণ করেন। কিন্তু গত বছরের ১১ নভেম্বর আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর গত সপ্তাহে তা অনুমতি ছাড়া ভেঙে গুড়িয়ে দেন।

 

আর এতে করে সচেতন মহল মনে করে আলীরটেকে মতি জাকিরের দলা দলিতে একজনের নির্মাণ এবং অপরজনের ভেঙে ফেলা নিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। সেই সাথে স্থানীয়রা তাদের এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে মানুষ ধিক্কার জানান।

 

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাযায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুদানের টাকা অনুমতি ছাড়া অন্য জায়গায় নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু তারা কি করে এই ধরনের কাজ করেছে তা শিক্ষাবিদদের বোধগম্য নয়।

 

শিক্ষাবিদদের মতে এই ধরণের জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠের নির্মান করতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যায় করেন সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি। বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন। সরকারি জায়গা নিয়ে মতি জাকিরের দলাদলিতে বিপাকে রয়েছে এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়রা জানান, জাকির চেয়ারম্যান এই জায়গায় অবৈধ ভাবে মার্কেট নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে মানুষদের নিয়ে আলোচনা করছেন। এমনকি অনেকের কাছ থেকে বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই সচেতন মহল বলছেন এই ভাবে যদি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন তাহলে মানুষ কি করবে। তাদের বিরুদ্ধে এখনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেন এলাকাবাসি সহ সচেতন মহল।

 

এলাকবাসী জানান, আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি অবৈধ ভাবে অনুমোদনহীন ভাবে ঈদগাহ মাঠ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান মতি প্রশাসন থেকে অনুমোদন না নিয়ে ৫ নং ডিক্রিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুদানের টাকা দিয়ে ডিক্রিরচর বাজারের সাথে অবৈধ ভাবে ঈদগাহ’র দেয়াল নির্মান করেন।

 

সেই সাথে ডিক্রিরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দেয়ালের অনুদানের টাকা এখানে এনে ঈদগাহ’র দেয়াল নির্মান করেন। মতির করা এই দেয়াল প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বাহিনী অবৈধভাবে ঈদগাহের দেয়াল ভেঙে গুড়িয়ে দেন। পুরো আলীরটেক জুড়ে আলোচনা হচ্ছে এখানকার ভূমির মালিকানা সরকার,

 

কিন্তু এখানে যখন যে চেয়ারম্যান হয় তখন তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়ে নিজের ইচ্ছা মত যা খুশি তাই নির্মান করেন। তাই সচেতন মহল বলছেন দজুনের কাজই অবৈধ। তাই সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তোলেন তারা কি করে সরকারের প্রশাসনের অনুমিত ছাড়া এখানে কেউ ঈদগাহ, আবার কেউ মাকের্ট নির্মাণ করেন। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস তারা কিভাবে পায়।

 

চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, অতীতে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে আসা একটা অনুদানের টাকায় এখানে চারপাশে দেয়াল হয়েছিল। সেটা স্কুলে না দিয়ে এখানে করেছে। আমাদের ইউনিয়নটায় গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। আমরা চাচ্ছি এখানে একটা মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার করলে গ্রামের মানুষের আয়ের ব্যবস্থা হবে। প্রশাসনের অনুমোদনহীন ভাবে এখানে মার্কেট করা যায় কি না তার কোন জবাব তিনি দিতে পারেন নাই।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড আমেনা মারজান বলেন, আমি এবিষয়ে অফিসে গিয়ে খোঁজ খবর নিবো। তিনি জানান, ইউএনওর সাথে কথা বললে ভালো হবে।


সদর উপজেলার ইউএনও রিফাত বিন ফেরদৌস জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে থাকা ঈদগাহ চাইলেই অপসারণ বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন বা প্রকল্প থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আইন না জেনেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

 

জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, সরকারি জায়গায় বেআইনি ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা এনে ঈদগাহ অনুমতি ছাড়া ঈদগাহ করতে পারে না। আমি ইউএনওর সাথে কথা বলে এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে বেআইনি কেউ কিছু করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন