বন্দরে নাসিকের কবরস্থান থেকে গাছ কেটে বিক্রি
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২২, ০৫:৩১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর বন্দর এলাকার ২২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বন্দর কেন্দ্রীয় কবরস্থানের গাছ কবির প্রধান ও চেরাগ আলী মিলে কেটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৩ মে) দুপুরের দিকে ওয়ার্ডের বন্দর চিতাশাল রোড (মুক্তিযোদ্ধা সড়ক) সংলগ্ন বন্দর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই বিষয়টি দেখে পরের দিন ফেস বুকে লাইভ প্রচার করে বন্দর বায়তুল আমান জামে মসজিদের অর্থ সম্পাদক ও বন্দর কবরস্থান সংলগ্ন বাড়ির মালিক ইসমাঈল খান রানা এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ও মহিলা কাউন্সিলর শাওন অংকন খান।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মাটির সমান করে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এই বিষয়ে কবস্থানের প্রধান খাদেম আমির হোসেন জানান, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। দুপুর বেলায় যখন আমি আসি তখন একটি লাশ দাফন ও জানাজার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে দেখি গাছ কেটে তারা নিয়ে যাইতেছে। আমি বাধা দিলে তারা শুনেনি।
পরের দিন শনিবার যখন আমি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম, তখন চেরাগ আলী আমাকে দেখে রিক্সা থেকে নেমে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলে তুই গাছের গোড়াগুলো মাটি দিয়ে ঢেকে দিলি না কেন? তারা গাছ কেটে নিয়ে যাবার পর গাছের মূলে মাটি দিয়ে ঢেকে না রাখার কারণে আমরা সাথে এমন আচারণ করে সে।
এ বিষয়ে তিনি জড়িত আছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি বহু বছর যাবত এখানে আছি। আমি নিজের হাতে এসব গাছ লাগাইছি। আমি কখনো এমন কাজ করতে পারি না।
খাদেমের প্রধান সহকারি সলিম জানান, গতকাল আমার কাছে একটি লোক এসে বলে কবির এই ৪ হাজার ৫ শত টাকা আপনার কাছে দিতে বলেছে। ওনি পরে আপনার কাছ থেকে নিয়ে নিবে। এ সময় কবির ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলে টাকাটা রাখ আমি পরে নিয়ে নিব। পরে জানতে পারি এই টাকাটা গাছ বিক্রি করার টাকা।
গাছগুলো ক্রয় করেছেন বলে দাবী করেন রাজবাড়ী, বন্দর এলাকার শফি মিয়ার ছেলে বাপ্পি। বাপ্পী জানায়, সে কবরস্থান রোড এলাকার (উইলসন রোড) কবির প্রধানের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় ৩টি গাছ ক্রয় করেছেন। কবির প্রধান টাকা বুঝে নিয়ে গাছ কেটে নিতে বলেছে। অভিযুক্ত কবির প্রধান কবরস্থান রোড এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।
তার একটি গরুর খামার ছিল। সেখানকার গরুর জন্য কবরস্থান থেকে ঘাস সংগ্রহ করত। সে গরু পালনের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করত। পরবর্তীতে কাজী জহিরুল ইসলাম জহিরের ছত্রছায়ায় থাকতো বলে জানা গেছে। গত সিটি নির্বাচনে সে খান মাসুদের কর্মীদলে কাজ করতো বলেও জানা যায়।
বিষয়টি জানার জন্য সেসময় সেখানে নাসিক ২২, ২৩ ২৪নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর শাওন অংকন উপস্থিত ছিলেন। যুগের চিন্তাকে জানান, আমার এলাকার ছোট ভাই রানা সামাজিক মাধ্যমে এখান থেকে গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে লাইভ দেয়। বিষয়টি জানতে এখন এখানে এসে দেখলাম এখান থেকে গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
এই কবরস্থান যেহেতু নাসিকের আওতায় তাই নাসিকের অনুমতি ছাড়া এখান থেকে গাছ কাটার কারও অনুমতি নেই। আজ (রোববার) অফিস বন্ধ আগামীকাল অফিস খোলার পর সিটি মেয়রের সাথে আলাপ করে এই বিষয় যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। আজ দুইটা গাছ কেটে নিয়েছে, ভবিষ্যতে আরো বেশি নিতে পারে। তবে এই বিষয় খাদেম যথা সময় কেনো জানায়নি সেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এই বিষয় নাসিক ২২ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান আহমেদের সাথে কথা বললে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে গাছ কেটে নেয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসী আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। বিষয়টি জনার সাথে সাথে দায়িত্বে থাকা খাদেমকে ফোন করে কার অনুমতি নিয়ে এই গাছ কাটা হয়েছে জানতে চেয়েছি।
তিনি কিছু বলতে না পারলে আমি মুন্সির সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আমাকে জানাতে বলি। যদি কোনো ধরণের অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আইনে তাদের মামলা দেওয়া হবে সে যেই হওক। এই বিষয় যদি খাদেম জড়িত থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার অফিস খুলবে আমি এই বিষয়টি নাসিকে জানাবো। আইনগত ভাবে যা যা করা দরকার আমি তাই করবো।


